Main Menu

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের যাবজ্জীবন

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
৮ মার্চ বুধবার দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা এ রায় ঘোষনা করেন।
রায় ঘোষণার সময় বদরুল আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রায় ঘোষণার জন্য সকাল সাড়ে ৯টায় বদরুলকে আদালতে আনা হয়। পরে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় নেয়া হয়।
আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান জানান, রায়ে মামলার ঘাতক বদরুল আলমকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন আদালত। তিনি আরো জানান, মামলায় ৩৭ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে বদরুলের অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।
গত ১ মার্চ সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত থেকে মামলাটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ওই আদালতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানে সীমাবদ্ধতা থাকায় দায়রা জজ আদালতে আসে মামলাটি।
এদিকে, কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলার রায় শুনতে সকাল থেকেই সিলেট মূখ্যমহনগর দায়রা জজ আদালতের সামনে শতশত মানুষ ভীড় করেন।
এর আগে গত ৫ মার্চ আদালত মামলার রায়ের তারিখ ধার্য্য করেন। সিলেটের অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট শামছুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
গত ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ১৫ নভেম্বর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। গত ২৯ নভেম্বর আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে ৩২৪, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।
৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে ১১ ডিসেম্বর ১৫ জন এবং ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন আরো একজন। সর্বশেষ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন খাদিজা। সবমিলিয়ে ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ৩৪ জনের।
এই রায়কে ‘আবেগপ্রবণ রায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বদরুল আলমের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আদালত আবেগপ্রবণ হয়ে এই রায় দিয়েছেন। আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আশাকরছি সেখানে ন্যায়বিচার পাবো। ঘটনারদিন বদরুল নেশাগ্রস্ত ছিলো দাবি করে তার খালাসের দাবি জানিয়েছিলেন সাজ্জাদুর রহমান।
এদিকে মামলার বাদী খাদিজা আক্তারের চাচা আব্দুল কুদ্দুস রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান। তিনি বলেন, সকলের সহযোগীতায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন খাদিজার আইনজীবী একেএম শিবলীও।
উলে­খ্য, গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তাকে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। পরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বদরুলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে।
বর্বরোচিত এ হামলার ঘটনায় পরদিন খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এরপর ৩৪ জন সাক্ষির স্বাক্ষ্যগ্রহন শেষে মামলাটির রায় এর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হওয়া খাদিজাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ২৮ নভেম্বর সাভারে সিআরপিতে ভর্তি করা হয় খাদিজাকে। প্রায় তিন মাস সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ ফেব্রয়ারী শুক্রবার সুস্থ হয়ে সিলেটে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন খাদিজা। মাঝে এক ফেব্রুয়ারি সপ্তাহখানেকের জন্য বাড়ি ঘুরে যান তিনি।
বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে এবং খাদিজা সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code