টেংরাটিলার লিকেজ গ্যাস জ্বালানির একমাত্র ভরসা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে টেংরাটিলায় জ্বালানী সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ লিকেজ গ্যাসই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র ভরসা। ২০০৫ সালে গ্যাসফিল্ডে দু’দফা অগ্নিকান্ডে আশপাশ এলাকার সমস্ত গাছ-গাছালি আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। এরপর থেকে সর্বত্র বুদ বুদ আকারে গ্যাস উদগীরণ হওয়ায় পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি আজও অব্যাহত আছে। ফলে এখনও গ্যাস ফিল্ডের আশপাশ এলাকায় কোনো গাছপালা জন্মায় না। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এলাকায় গাছপালা না থাকায় চরম জ্বালানী সংকট দেখা দিয়েছে এখানে। স্থানীয়রা বর্তমান সরকারের কাছে জ্বালানী সংকট দূরীকরণে এলাকায় গ্যাস সংযোগের দাবি জানালে বিষয়টি অনুমোদন হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়রা বাধ্য হয়েই জ্বালানী সংকট সমাধানে উদ্ভাবন করেছেন বিকল্প উপায়। বিকল্প জ্বালানি হিসাবে বুদ বুদ আকারে উদগীরন হওয়া অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ লিকেজ গ্যাস এখন টেংরাটিলাবাসীর আর্শীবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠী স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে গৃহস্থালী কাজে অবাধে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছেন । লিকেজ গ্যাস উদগীরণের স্থানে গামলা দিয়ে ঢেকে এতে পাইপ বসিয়ে সরাসরি রান্না ঘরের চুলায় সংযোগ দিয়ে রান্না বান্না করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব লিকেজ গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সরাসরি চুলায় সংযোগ করায় যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনার আশংকা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এমনিতেই ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছি। সরকার আমাদের না করছে পুনর্বাসন, না দিচ্ছে নিজেদের বাস্তুভিটায় থাকার নিরাপত্তা। সবাই শুধু দায়সারা আশ্বাস দিয়ে এই বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছেন, আপনারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু কেউ ঝুঁকিমুক্ত করার উদ্যোগ আজও নেননি। তাই বিকল্প উপায় না পেয়ে আমরা পেটের দায়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছি।
এই লিকেজ গ্যাস টেংরাটিলাবাসীর কাছে ‘কাশেম গ্যাস’ নামে পরিচিত।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আবুল কাশেম জানান, এলাকায় জ্বালানির বিকল্প যোগান না থাকায় এই গ্যাস সংযোগ দিয়ে শতাধিক পরিবারের রান্না বান্নার কাজ চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তফা আহমেদ জানান, সরকার আমাদেরকে আধ মরা করে রেখেছে, আবার বাঁচাতেও এগিয়ে আসছে না। আশপাশে গাছপালা না থাকায় বাধ্য হয়েই জ্বালানি হিসাবে আমরা লিকেজ গ্যাস ব্যবহার করছি।
গৃহিণী রেহানা আক্তার বলেন, এই গ্যাস থাকায় আমরা স্বাচ্ছ্যন্দে রান্নার কাজ করতে পারছি। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এখানে সরকারিভাবে গ্যাস সরবরাহের দাবি জানাচ্ছি।
এলাকার নেতৃস্থানীয় অনেকেই জানান, গ্যাস দেয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন কর্মসূচীসহ বিভিন্ন সভা সমাবেশ করেছেন। কিন্তু অদ্যাবধি সরকার এ ব্যাপারে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নিজেদের এলাকায় গ্যাসক্ষেত্র থাকা স্বত্তেও আমরা বৈধভাবে গ্যাস পাচ্ছি না।
আওয়ামী লীগ নেতা টেংরাটিলা গ্রামের শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে বৈধভাবে গ্যাসের সংযোগ দেয়ার দাবি জানান।
সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মামুনূর রশীদ বলেন, টেংরাটিলায় জ্বালানী সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। যদিও লিকেজ গ্যাস ব্যবহারে সরকারিভাবে কোনো ধরণের অনুমোদন দেয়া হয়নি। তবুও স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়েই এই গ্যাস থেকে নিজের জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে। এ বিষয়ে বর্তমানে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তা আমার জানা নেই। তবে, জনস্বার্থে এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমি আশাবাদী।
Related News
সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকেRead More
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More



Comments are Closed