Main Menu

পৃথিবীতে যত ভাষা-রক্তে রঞ্জিত বাংলা ভাষা

Manual3 Ad Code

এ এইচ এম ফিরোজ আলী: মানুষের মনের ভাব প্রকাশে ভাষা ব্যবহারের বিকল্প নেই। অন্যের কাছে হাত, পা, চোখ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, ইশারা-ইঙ্গিত, ছবি, অঙ্গ-ভঙ্গি নাচের মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়। তবে কন্ঠ ধ্বনির সাহায্যে যত বেশি পরিমাণ মনোভাব প্রকাশ করতে পারা যায়, ইশারা-ইঙ্গিতের সাহায্যে ততটা পারা যায় না। এজন্য মানব গোষ্ঠির জন্য আলাদা আলাদা ভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ভাষার উত্থান ও পতনেরও ইতিহাস আছে। তথ্য মতে খ্রিষ্টপূর্ব ৮ হাজার সালের দিকে এ পৃথিবীর বুকে ২০ হাজারের মত ভাষা অস্থিত্বশীল ছিল। যে সকল ভাষা এখনো টিকে আছে নানা চড়াই, উৎরাই পেরিয়ে তাদের সংখ্যা ৭ হাজরের বেশি হবে না। পাঠ্য তথ্য মতে প্রতি মাসে পৃথিবীর বুক থেকে দুটো করে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে এবং এ গতি অব্যাহত থাকলে আগামী শতাব্দীর মধ্যে আরো ৬ হাজার ভাষা বিলীন হয়ে যাবে। বর্তমান পৃথিবীতে অস্থিত্বশীল ভাষার মধ্যে ৯০% ভাষাই এক লক্ষের চাইতে কম মানুষ ব্যবহার করে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ৪৬টি ভাষা রয়েছে মাত্র একজন করে কথা বলে এবং ৩৫৭টি ভাষায় ৫০ জনেরও কম করে মানুষ কথা বলে। আবিস্কৃত ভাষার মধ্যে এশিয়াতেই প্রায় ২২০০ ভাষা রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগ প্রায় বিলুপ্ত। অনেক ভাষার আক্ষরিক লিপি থাকলেও মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহার নেই বললেই চলে। গবেষকদের তথ্য মতে পৃথিবীতে এখনও যত ভাষা রয়েছে, একটি ভাষার সঙ্গে আরেকটি ভাষার কাছাকাছি মিল রয়েছে। তবে মজার বিষয় হলো সবগুলো ভাষার পরিবার প্রায় ইন্দো-ইউরোপিয়ান ভাষার অংশ।
সারাবিশ্বে এতসব ভাষার ভিড়ে সর্বাধিক উচ্চারিত কয়েকটি ভাষার কথা এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করা প্রয়োজন। যেমন-
ম্যান্ডারিন: পৃথিবীর সবচেয়ে বহুল উচ্চরিত ভাষা হচ্ছে চীনের ম্যান্ডারিন। পৃথিবীর প্রচলিত সবচেয়ে কঠিন এ ভাষা হওয়া স্বত্বেও বিশ্বের প্রায় এক বিলিয়নেরও বেশি মানুষ এ ভাষায় কথা বলে। চীনারা বিদেশের রাষ্ট্রীয় কাজে কিংবা ব্যবসা-বানিজ্যে তো বটেই, এমন কি পররাষ্ট্রনীতিতেও নিজেদের ভাষায় অগ্রাধীকার দেয় বেশি। ইংরেজী ভাষায় খুব বেশি ভাষাভাষী নেই, তবুও ইংরেজী আন্তর্জাতিক ভাষা। বর্তমান বিশ্বে ৫৮০ মিলিয়নেরও বেশি ইংরেজী ভাষাভাষী রয়েছে। ইন্টারনেটে প্রধান ভাষা ইংরেজী।
হিন্দি: ভারতের রাষ্ট্রভাষা হলেও গোটা ভারতে ভাষার অভাব নেই। এটি ভারতের বিশাল উপ ভাষাগুলোর মধ্যে। ভারতবর্ষ ছাড়াও সারাবিশ্বে ৪৯৭ মিলিয়ন মানুষ এ ভাষায় কথা বলে।
স্প্যানিশ: এ ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের রোমাঞ্চ শাখার ভাষা। ইউরোপের সব দেশ সহ বিশ্বে স্প্যানিশ ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় ৩৯২ মিলিয়ন। ইংরেজীর আদি ভাষা হিসেবে বিবেচিত এ ভাষা ২২টি দেশের সরকারি ভাষা।
রাশিয়ান: বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া। রাশিয়ান ভাষা সবচেয়ে বেশি কথিত স্লাভীয় ভাষা। বেলারুশীয়ও ইউক্রেনীয়র সাথে ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের স্লাভীয় শাখা থেকে রাশিয়ান ভাষার উৎপত্তি। বিশ্বের ২৭৭ মিলিয়ন রুশ ভাষাভাষী রয়েছে। জাতিসংঘের ৬টি ভাষার মধ্যে রাশিয়ান ভাষা অন্যতম।
হীব্র: হীব্র ভাষার ইতিহাস বৈচিত্রময়। এটি আফ্রো- এশিয়ার ভাষা পরিবারের ৩ হাজার বছরের পুরানো ভাষা। সম্ভবত খ্রিস্টপূর্ব ১ হাজার সালের দিকে এর উদ্ভব হয়। আক্ষরিক লিপি থাকায় এ ভাষার ইতিহাস জানা যায়। ১৯২২ সালে এ ভাষা ইসরায়েলী রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পায়।
তামিল: প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরানো এ ভাষা। এটা একমাত্র প্রাচীন ধ্র“বদী ভাষা যা আধুনিক বিশ্বে এখনও টিকে আছে। এটি মূলত দ্রাবিড়িয়ান পরিবারের সদস্য ভাষা। তামিল উত্তর ও পূর্ব ভারতের বেশির ভাগ মানুষের ভাষা।
চাইনিজ: চীনা-তিব্বতীয় ভাষা পরিবারের সব ভাষাকে একত্রে চাইনিজ ভাষা বলে। প্রায় ৩ হাজর বছর আগের ভাষা লিপি থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ অব্দে ভাষাটির উদ্ভব হয়। এটা ঝউবংশীয় ভাষা। এ ভাষার প্রাচুর্যময় ইতিহাস রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৫০ সালের লিখিত লিপি এর প্রমান। ৩৫০০ বছর আগে এ নিদর্শন দেখে বুঝা যায় এটি প্রাচীনতম হাজার বছরের প্রাচীন গ্রীক ভাষা থেকে কেইনী উপ ভাষার সৃষ্টি হয়।
মিসরীয়: রহস্যময় সভ্যতার মিসরীয় ভাষা অনেক পুরনো ভাষা। মিসরীয় সভ্যতার দিকে তাকালে দেখা মিলবে বহুপ্রাচীন পুরাকীর্তি ও লিখিত লিপি। ভাষাটি বর্তমানে ধর্মীয় গন্ডিতেই আবদ্ধ।
সংস্কৃত: এ ভাষা ভারতের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন ভাষা। এ ভাষার ইতিহাস প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরনো। খ্রিষ্টপূর্ব ৩ হাজার অব্দে ভাষাটির উৎপত্তি। এটি ভারতের সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাষা। হিন্দু ধর্মের অনেক কাব্যগ্রন্থ এ ভাষায় রচিত।
লিতুয়ানিয়ান: খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০০ অব্দের সময় অন্যান্য ভাষা থেকে এর বিভাজন শুরু হয়। এ ভাষা থেকে আরো কয়েকটি ভাষা বিকশিত হয়। এটা পৃথিবীর অনেক প্রাচীনতম ভাষা।
ফার্সি: ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের ইরানি ভাষা। এটি ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের ভাষা। আধুনিক ফার্সি ভাষার উৎপত্তি হয় অষ্টম শতাব্দিতে। শেক্সপিয়র নবম শতাব্দি সংরক্ষিত লিপিতে বলেন, ইংরেজী থেকে ফার্সি পড়ার ঝামেলা কম।
আইসল্যান্ডিক: ১৪০০ শতাব্দিতে নর্স ভাষা থেকে স্লাভিক ভাষা আলাদা রূপ নেয়। ব্যাকরন, শব্দ ভান্ডার লিকন পদ্ধতিতে এ ভাষা অত্যন্ত রক্ষনশীল।
বাসকিউ: ভাষা বিদ্যার চূড়ান্ত রহস্য বাসকিউ ফ্রান্স ও স্পেনে কিছু সংখ্যক বাসকিউ তাদের স্থানীয় ভাষা হিসেবে এ ভাষা ব্যবহার করে। এটি সম্পূর্ণরূপে রোমানীয় ভাষা থেকে আলাদা। রোমান ভাষার আগমনের আগেই এর অস্থিত্ব ধ্বংস হয়ে যায়।
আরবি: আরব দেশের ভাষা বা কোরআনের ভাষা আরবি। প্রাচীন ভাষার মধ্যে এ ভাষা অন্যতম। ইসলাম আবির্ভাবের ঠিক আগের দিকে আরব উপদ্বীপে আরব ভাষার উৎপত্তি ঘটে। প্রাচীন কবিদের কবিতা, কিংবা সাহিত্যে আরবি ভাষার ব্যবহার ছিল লক্ষ্য করার মতো। ১৯৭৪ সালে আরবি ভাষাকে জাতিসংঘের ৬ষ্ঠ সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন মানুষ আরবি ভাষাভাষী।
পর্তুগিজ: ১৪০০ থেকে ১৬০০ শতকে পর্তুগাল বিশাল সামগ্রিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলে এবং আফ্রিকা ও আমেরিকার বহু অঞ্চলে এ ভাষা ছড়িয়ে পরে। এ ভাষা নিজেই বিশ্ব জুড়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং বিশ্বে প্রায় ১৯১ মিলিয়ন পর্তুগিজ ভাষাভাষী রয়েছে। মালয়-ইন্দোনেশিয়ান: অস্ট্রোনেশিয় ভাষা এবং ইন্দোনেশিয় ভাষাটি মালয় ভাষার প্রমিতরূপ। বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত ভাষার তালিকায় নবম। ১৩ হাজার বেশি উপদ্বীপ ইন্দোনেশিয়া সহ পৃথিবীর প্রায় ১৫৯ মিলিয়ন মানুষ এ ভাষা ব্যবহার করেন।
ফ্রেঞ্চ: ফ্রেঞ্চকে পৃথিবীর রোমান্টিক ভাষা বলা হয়। এ ভাষা ইউরোপের ১৯ দেশের সরকারি ভাষা। সারা বিশ্বে প্রায় ১২৯ মিলিয়ন লোক ফরাসি ভাষায় কথা বলে। রোমান সাম্রাজ্যের ল্যাটিন ভাষা থেকে উৎপত্তি হয়।
পৃথিবীতে বর্তমানে বাংলা ভাষার স্থান সপ্তম। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা ভাষা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ মাতৃভাষা। পৃথিবী জুড়ে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন। ৩০ কোটি মানুষের ভাব বিনিময়ের ভাষাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছিল পাকিস্তানিরা। কিন্তু সেই ভাষাতো বেঁচে রইল-ই পর্যায়ক্রমে ভাষা আন্দোলন এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নিল এবং ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের লৌহ মানবের সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে বাংলার দামাল ছেলেরা বাংলাদেশ নামে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিল। ভাষা আন্দোলন শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে জীবন দিয়ে এত বড় আন্দোলন বীর বাঙালী ছাড়া আর কোন জাতি করেছে বলে ইতিহাসে স্বাক্ষ্য নেই। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লড মাউন্টব্যাটনের প্রস্তাবিত ভারত ও পাকিস্তান রাষ্টে রূপরেখা প্রকাশ করা হলে ঠিক তার অব্যবহিত পূর্বে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়া উদ্দিন আহমদ দক্ষিন ভারতের হায়দরাবাদ রাজ্যের সেকেন্দ্রবাদ শহরে আয়োজিত এক উর্দু সম্মেলনে এই মর্মে ভাষণ দেন যে, প্রস্তাবিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের একমাত্র উর্দুই হবে রাষ্ট্রভাষা। ১৯৪৭ সালের ২৯ জুলাই দৈনিক আজাদ পত্রিকায় “পাকিস্তানের ভাষা সমস্যা” শিরোনামে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা দাবি করে প্রতিবাদ করেন জ্ঞানতাপস ও ভাষা বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ শহীদুল­াহ। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ যখন করাচিতে গনপরিষদে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা মর্মে প্রস্তাব পাস করা হয়, তখন কুমিল­ার অকুতোভয় রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত সোচ্চার কন্ঠে এ প্রস্তাবের চরম বিরোধীতা করেন। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা শহর সহ সারাদেশে তখন বিস্ফোরন মুখর হয়ে যায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রয়ারী বৃহস্পতিবার ঢাকা রাজপথে নেমে আসেন ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবি ও নানা শ্রেনি পেশার মানুষ। পাকিস্তানী জুলুমবাজ সরকার বাঙালীর আন্দোলন নস্যাৎ করতে নির্বিচারে গুলি চালায় নীরিহ বাঙালী জাতির উপর। বাঙালীর রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়ে যায়। শহিদ হন আবুল, বরকত, জব্বার, রফিক, সালাম সহ আরো নাম না জানা কয়েক জন। আহত হন শতাধিক ভাষা সৈনিক। এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে চাকুরীরত ছিলেন ইংরেজ চিকিৎসক এলিংসন। সেদিন তিনি ভাষা যোদ্ধাদের পরম মমতায় যত্নে অপারেশন ও চিকিৎসা করেছেন-তা চিরদিন বাঙালী জাতির স্মরণে থাকবে। অনেকেই স্মৃতিচারন করে বলেছেন, ডাক্তার এলিংসন সেদিন চিকিৎসা সেবায় না থাকলে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হত। সেদিন গুলিবর্ষনের ঘটনার পর ঢাকায় এক ভয়াবহ রূপধারন করে। প্রতিটি মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্ররা মাইক লাগিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে লোকজন দলে দলে এগিয়ে আসেন এবং সরকারি অফিস আদালত দোকান পাঠ যানবাহন চলাচল সব কিছু বন্ধ হয়ে যায় স্রোতের মত মানুষ হাসপাতালের দিকে ছুটে যান এবং সবার চোখে ছিল ক্রোধের আগুন। ইতিহাসের স্বাক্ষ্যমতে সেদিন যারা শহিদ হয়েছিলেন তাদের লাশ রাখা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল মর্গে। কথা ছিল পরদিন শোক মিছিল বের করা হবে। কিন্তু রাত আড়াইটার সময় সশস্র পুলিশ পাঞ্জাবী সৈন্যের সাহায্য হাসপাতাল মর্গ থেকে লাশগুলো নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে কবর দেয়। গুলিবর্ষনের ঘটনার পর সেদিন সর্বপ্রথম হাসপাতালে এসেছিলেন তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারন সম্পাদক শামছুল হক। এসময় পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন সশস্র পাহারায় ঢাকা বেতার থেকে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় লড়াকু ভাষা যোদ্ধাদের তীরস্কার করেন। বাঙালী সেদিন নুরুল আমিনের বক্তৃতা থেকেই পাকিস্তানের ফ্যাসিস্ট চেহারা ধরা পড়ে। মানুষ বুঝতে পারেন বাংলা ভাষা ছাড়া বাঙালীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বীর ভাষা যোদ্ধাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হওয়ার পর পাকিস্তান সরকার বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকৃতি দেয়।
বাংলাদেশে ৯৮% মানুষ বাংলায় কথা বললে ৪৫ টির ও বেশি নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠি ৩০ টির বেশি তাদের নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। ২০০৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠির অধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণা পত্রের ১৩-১ এবং ১৪-১ এ বলা হয়েছে তাদের ভাষা, বাচনিক ঐতিহ্য, দর্শন, লিখন পদ্ধতি সাহিত্য পুনরুজ্জিবীত, ব্যবহার, উন্নয়ন করা এবং নিজস্ব শিক্ষা প্রদান, শিক্ষা গ্রহনের সাংস্কৃতিক পদ্ধতি উপযোগী পন্থায় তাদের শিক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ নিয়ন্ত্রন, অধিকার সংরক্ষন করবে। সেখানে সরকার নৃগোষ্ঠীর আলাদা বইপুস্তক তৈরি করেছেন। মাতৃভাষার মর্যাদায় বাঙালী মানব জাতির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির সৃষ্টি করে সর্বোচ্চ গৌরব অর্জনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাঙালীর ইতিহাসে ৫২ আসায় একাত্তুরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় হল। বাঙালীর জাতীয়তাবাদের চেতনার প্রথম স্তম্ভটি হল মায়ের ভাষা বাংলা। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে ২৭ দেশের সমর্থনে সর্বসম্মত ভাবে ২১ ফেব্র“য়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতি বছর পৃথিবীর ২৮৮ সদস্য দেশ এবং ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ২১শে ফেব্র“য়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বাংলা ভাষার আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের বীজ এবং একাত্তুর সালের ৯ মাসের যুদ্ধকে বাঙালীর স্বাধীকারের ফসল বলা হয়।
লেখক : কলামিষ্ট

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code