সিলেটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলছে, যাত্রীদের ভোগান্তি
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আজ শনিবার সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক নেতারা। ডিবি পুলিশের হাতে আটক তিন শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে বাস-ট্রাক-মাইক্রোসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের কারণে সকালে বের হওয়া শহরের বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে।
এদিকে, সকাল থেকে সিলেট নগরীর প্রবেশদ্বার চন্ডিপুল, হুমায়ুন চত্বর, কদমতলী, টুকেরবাজার, উপশহর পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। এছাড়া রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভও করতে দেখা গেছে তাদের।
সিলেট জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি শাহ রিপন আহমদ জানান, শুক্রবার রাতে আমাদের তিন শ্রমিককে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে আহত করে। এসময় একটি পিকআপ ভ্যানও নিয়ে যায়। আমরা আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।
এদিকে, রাত পৌনে এগারটা থেকে আবারও সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে অবস্থানের ফলে নগরীর সোবহানীঘাট-কদমতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে নগরীর উপশহর পয়েন্টে পুলিশের সাথে পরিবহন শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে মুশাহিদ আলী নামের ট্রাক শ্রমিককে গুরুতর অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর উপশহর পয়েন্ট এলাকা থেকে শফিক ও স্বপন নামের দুজন মাইক্রোবাস শ্রমিককে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এর জেরে রাতে উপশহর পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। তখন পুলিশ সদস্যরা সেখানে এসে অবরোধ তুলে নেয়ার কথা বললেও তারা পুলিশের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাটিচার্জ এবং কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় অন্তত ১০জন আহত হন। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন। তারা শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ঐক্য পরিষদের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক জাানান, শুক্রবার রাতে তিন শ্রমিককে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। আটকদের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মাইক্রোবাস শ্রমিকরা। তাদের এ কর্মসূচির সাথে একাত্বতা পোষণ করে আজ শনিবার সকাল থেকে জেলায় সবধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সিলেট জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি শাহ রিপন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাতে তিন শ্রমিককে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। আটকদের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। আজ সকাল থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ছাড়িয়ে আনতে শুক্রবার রাতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলে পুলিশ হামলা চালায়। এসময় তাদের একটি পিকআপ ভ্যান ভাংচুর করে পুলিশ। পরে পিকআপ ভ্যানটিও পুলিশ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন এ শ্রমিক নেতা।
Related News
সিলেটে সন্তান জন্মের ৩ দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মায়ের
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানীনগরে সন্তান জন্ম দেওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণRead More
সিলেটে হত্যা মামলার ৩ আসামি চট্টগ্রামে ধরা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বালাগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়ায় চাচাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায়Read More



Comments are Closed