Main Menu

সাতক্ষীরার ৫টি বিলে চলতি বোরো আবাদ অনিশ্চিত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার সদরের বেতনা নদী থেকে কপোতাক্ষ নদে মিলিত একটি নদের নাম শালিখা। এ নদের স্রোতধারায় দু’পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের জীবনজীবিকার আশির্বাদ হলেও বর্তমানে তা দখলদারদের শাসনে অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদটির দলুয়া বাজার থেকে শালিখা স্লুইস গেট পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার নদের বুকে শতাধিক দখলদাররা নেট পাটা দিয়ে স্রোত চরমভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। নদ অববাহিকার দু’কুলে তালা উপজেলার খলিষখালী ও খেশরা ইউনিয়নের ১০টি অবহেলিত জনপদের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হল নদীপথ। এ নদীপথে দখলদারদের নেট পাটা এতটাই প্রকট যে, নদীটিতে ১০০ ফুট যেতে না যেতেই আরেকজন দখল দিয়ে নদী শাসন করছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের জনসাধারণ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে দুর্বিসহ জীবন যাপন করে।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিরা নেট পাটা ও ভেড়িবাধ দিয়ে নদ শাসন করছে। তাদের ভয়ে সহজ সরল গ্রামবাসী প্রতিবাদ করতে পারে না। দখলদাররা দীর্ঘ নদটির মাঝে মধ্যে ভেড়িবাধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। ফলে কিছু স্থানে নদী সংকোচিত হলেও অনেক জায়গায় বিশাল প্রস্থের নদী এখনও প্রবাহমান। এ নদকে ঘিরে খলিষখালীর টিকারামপুর, গাছা, কৈখালী, বারানগর, মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা, খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি, দোহার-মুড়াগাছা, শালিখা গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকে। বর্তমান বোরো আবাদ মৌসুমে সরুলিয়া, খলিষখালী, ব্রহ্মরাজপুর, নগরঘাটা ইউনিয়নে ৫টি বিলের শতাধিক একর জমিতে বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নদটিতে একাধিক নেট পাটা থাকায় বিলের পানি নিষ্কাষিত না হওয়ায় বোরো আবাদ মৌসুমে কৃষকরা উদ্বিঘ্ন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে কলাগাছি গ্রামের অমূল্য রায়, সনাতন সরকার, একান্ত রায়, কলাগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বিমল সরকার, জগ সরকার, বিধান মন্ডল, আনন্দ সরকার, পরিমল সরকার, ভোলা সরকার, মোহন সরকার, ভৈরব মন্ডল, আনন্দ সরকার, শান্তিরাম সরকার, মাদরা গ্রামের মিঠুন সরকার, উত্তম সরকার, তারক গোলদার, পঙ্কজ রায়, দেবাশীষ মন্ডল, সুভাশীষ মন্ডল, কার্ত্তিক চন্দ্র মন্ডল কৈখালী গ্রামের অজয় গাইন, ভৈরব রায়, সুধান মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল সহ শতাধিক নদ দখলদাররা শালিখা নদে নেট পাটা দিয়ে মাছ শিকারের নামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদন তৈরীর সময় কলাগাছি গ্রামের বিধান মন্ডলের পুত্র কিনুপদ মন্ডল (৪০), অধীর মন্ডল (৪৫), শ্যামা রানী সরকার (৪৮) সহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, অনেক সাংবাদিক আর প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা কয়েকবার তালিকা করে নিলেও দখলদারদের টিকিটি কেউ ছুতে পারে না। ফলে সাংবাদিক আর প্রশাসনের সাথে কথা বলায় প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হিন্দু অধ্যুষিত শালিকার অববাহিকার নদ দখলদাররা সন্ত্রাসী প্রকৃতির। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ হোসেন নদ দখলের অভিযোগ শুনে অনেকটাই হতবাক। কেননা এখনও পর্যন্ত কোন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেননি। তবে আগামী সপ্তাহে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed