Main Menu

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে জামাত প্রীতি বরদাশত করা হবে না

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সিলেটের প্রগতিশীল সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সমম্বয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে এই জোট কাজ করে গেলেও স¤প্রতি কিছু সংখ্যক নেতৃতৃন্দের ভূমিকায় এই ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেধে উঠেছে।
সোমবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সিলেট সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ বাদশা গাজী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ঢাকা থেকে দেশের কোন জেলার জোটকে নিয়ন্ত্রন করে না। এ ধরনের কোন বিধানও নেই। জোটে কেন্দ্র বলতে কোন শব্দ নেই। যেহেতু কেন্দ্র বলতে কোন ব্যবহার নেই সেহেতু কেন্দ্র কর্তৃক জোটের অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি সর্ম্পুন্ন ধাপ্পাবাজি ও মিথ্যাচার।
তিনি জোটের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সেলিম’র বিরুদ্ধে পারিবারিক ভাবে জামাত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন এবং তৎকালীন সভাপতি নাজনীন হোসেন বরাবর লিখিত অভিযোগে সেলিমকে জোট থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবী জানান।
অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সেলিমের মামা হাসিব ভুইয়া সিলেট মহানগর জামাতের রোকন, সেলিমের ছোট ভাই রুকন প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির সাথে জড়িত, তার আরেক ছোট ভাই পলেন যুবদল নেতা, সেলিম নিজ মামার জামাতের রুকন সদস্য হাসিব ভুইয়ার সাথে মিলে জোটের সার্টিফিকেট ব্যবসার সাথে জড়িত।
জোট সভাপতি নাজনীন হোসেন অভিযোগ আমলে না নিয়ে একতরফা প্রতিনিধি সম্মেলন করে নিজেই সম্মেলন প্রস্ততি কমিটির আহবায়ক হন। কমিটির যুগ্ম আহবায়ক করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও মহানগর জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাবু, জাতীয়তাবাদী বিদ্যুৎ শ্রমিক দলের সভাপতি শামসুল বাসিত শেরো, যার মুখ দিয়ে কোন দিন জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু উচ্চারিত হয়নি, বিএনপির সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বড় বড় জনসভা যিনি পরিচালনা করতেন সেই আমিনুল ইসলাম লিটন সহ অনেক বির্তকিত ব্যক্তিকে নিয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর থেকেই আদর্শিক দ্বন্ধ প্রকট আকার ধারণ করে। এই ঘটনার পর তৎকালীন জোটের কার্যনির্বাহী কমিটির ৯ জন সদস্য জোট থেকে বের হয়ে আসেন।
১০ নভেম্বর ২০১৬ইং তারিখে জোটের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন করে জয়নাল আবেদীন জুয়েলকে সভাপতি, জামাল আহম্মদকে সাধারণ সম্পাদক করে জোটের নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। তখন থেকেই নাজনীন হোসেন ও শামসুল আলম সেলিম নিয়ন্ত্রিত জোট সংখ্যাগরিষ্টতা হারায় কার্যত বিলীন হয়ে যায়।
কাজেই ২১ জানুয়ারী ২০১৭ ইং জোটের নামে যে সম্মেলন হয়েছে নাজনীন হোসেন সভাপতি ও শামসুল আলম সেলিম সাধারণ সম্পাদক পরিচয় তা অবৈধ ও অগঠনতান্ত্রিক। তাছাড়া সম্মেলনের যে কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে তার মধ্যে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি জায়গা করে নিয়েছেন।
গোলাম কুদ্দুস ও ঝুনা চৌধুরী গংরা ২১ জানুয়ারী তারিখে জোটের নামে সম্মেলনে করে বিএনপি ও জামাতের যে সংমিশ্রন ঘটিয়েছেন তা জোটের আদর্শ পরিপন্থি। এই অবস্থায় আমাদের সুষ্পস্ট বক্তব্য যাদের কোন আদর্শ নেই-তাদের সাথে ঐক্য বজায় রাখার কোন সুযোগই আমাদের নেই।
৭১ আমাদের সাহস, বাঙ্গালি জাতিয়তাবাদ আমাদের প্রেরণা উৎস, আমরা বাঙ্গালি সংস্কৃতির ধারক, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু আমাদের জেগে উঠার মন্ত্র, বাংলাদেশের মৌলিকত্ব আমাদের আদর্শের উৎসমূল। আমরা স্বাধীন নিজ গঠনতন্ত্রের দ্বারা পরিচালিত। আমাদের পরিস্কার ঘোষনা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেট কারো অঙ্গ সংগঠন নয় বা কারো লেজুরবৃত্তি করে না।
সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিত ছিলেন জোটের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জুয়েল, সহ-সভাপতি সুপেমল সেন, বিরহী কালা মিয়া, বিরহী লাল মিয়া, সিরাজ আনেয়ার, সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ বাদশা গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক ডি কে জয়ন্ত, প্রচার সম্পাদক এম এই নিজাম, কোষাধ্যক্ষ কাকলী দত্ত মুন্নী, সদস্য বাহারুল রেজা প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed