Main Menu

হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদ ফিরে পেলেন গউছ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ৭শ ৩৯ দিন কারাভোগের পর সদ্য মুক্তি পাওয়া হবিগঞ্জ পৌরসভার টানা ৩ বারের নির্বাচিত মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ মেয়র পদ ফিরে পেয়েছেন।
সোমবার মেয়র জি কে গউছকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও খান মোঃ সাইফুর রহমানের বেঞ্চ এ স্থগিতের আদেশ দেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এক আদেশে মেয়র জি কে গউছকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে গত রবিবার (২২ জানুয়ারী) মেয়র জি কে গউছ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। সোমবার রিটের শোনানী শেষে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেন হাইকোর্ট। শুনানীতে মেয়র জি কে গউছের পক্ষে আইনজীবি ছিলেন ব্যারিস্টার স ম রেজাউল করিম।
উল্লেখ্য হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র হিসেবে জিকে গউছ দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বিভিন্নভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে সফল কর্মকান্ডের মাধ্যমে সুনাম-সুখ্যাতি কুড়িয়েছিলেন। তার নেতৃত্বদানের যোগ্যতা নিয়ে কারো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন নেই তার সততা নিয়েও এমনটাই মনে করেন হবিগঞ্জ পৌরবাসির অনেকেই।
২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পন করেন। সেই থেকে তিনি কারাগারেই বন্দি ছিলেন। শত প্রতিকুলতার মধ্যেও বিপুল ভোটে জি কে গউছ মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনগনের সেবায় নিজেকে উৎসর্গিত করেন। দীর্ঘদিনের অবহেলিত এবং পায়জামা শহর হিসেবে খ্যাত হবিগঞ্জ পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় উপনীত করতে তিনি দিন রাত কাজ করেছেন। ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি হবিগঞ্জ শহরের চেহারা পাল্টিয়ে দেন। পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জি কে গউছ কোন ধর্মীয় গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি সকল ধর্মের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তিনি সরকারিভাবে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ফ্রান্স, বাহরাইন, ওমান, সিঙ্গাপুর, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস ও ফিলিপাইন সফর করেন।
মেয়র জি কে গউছ অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে প্রতি বছর স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি প্রশ্নোত্তর বিষয়ক পৌরবাসীর মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এসব ব্যতিক্রম ধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সরকার ২ বার তাকে গোল্ড মেডেল পদকে ভূষিত করে।
১৯৮৪ সালে ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন জি কে গউছ। ১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একটানা ৫ বছর তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে জি কে গউছ হবিগঞ্জ পৌর যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৫ সালে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ৯৬ সালে যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য নির্বাচিত হন। ভলিষ্ট নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি হবিগঞ্জ জেলায় যুবদলকে সু-সংগঠিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে তিনি জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে যুবদলের কেন্ত্রীয় সহ-সমবায় সম্পাদক নির্বাচিত হন জি কে গউছ। ২০০৪ সাল থেকে জি কে গউছ হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। পরে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একজন সফল মেয়র হিসেবে তিনি জানেন কীভাবে কাজ করলে সফল হওয়া যায়। জিকে গউছ অতীতে মেয়র হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেভাবে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন, এর ধারাবাহিকতা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছে পৌরবাসি।

Share





Related News

Comments are Closed