Main Menu

সিলেট কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামীর প্রক্সি, তদন্ত কমিটি গঠন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সাজার প্রক্সি দিতে গিয়ে কারাবন্দী রিপন আহমদ ভুট্টোর মুক্তির বিষয়ে বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আব্দুল হান্নান ও যুগ্ম জেলা জজ মো: রেজাউল করিমের সমন্বয়ে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুট্টোর কাহিনী নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট(এডিএম) আবু সাফাত মোঃ সাহেদুল ইসলাম জানান, একজনের পরিবর্তে অন্যজনের কারাভোগের বিষয়ে ‘জুডিশিয়াল ইনকুয়ারি’র সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে দুই সদস্যের কমিটি গঠন হয়েছে। ৮ জানুয়ারী রোববার থেকে তদন্ত কমিটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কাজ শুরু করবে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
সিলেটের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ সগির মিয়া জানান, তদন্ত কমিটির সদস্য সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আব্দুল হান্নান শনিবার বেলা আড়াইটায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কারাবন্দী ভুট্টোর সাথে কথা বলেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে জানান, কারা কর্তৃপক্ষ রিপন আহমদ ভুট্টোকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে আদালতে একটি আবেদন করেছে।
২০০৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেট শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন- সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ার চেরাগ আলীর পুত্র আলী আকবর সুমন (২৪)। পরে পার্শ¦বর্তী হাওর থেকে আলী আকবর সুমনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন সাজা হয়।
তারা হচ্ছে-সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামের মৃত মছকন্দর আলীর পুত্র দরাছ মিয়া উরফে গয়াছ (৩৪) ও তার স্ত্রী রুজিনা বেগম (৩২) এবং একই গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মোঃ ইকবাল হোসেন বকুল (২৬)। এই ইকবাল হোসেন বকুলের পরিবর্তে বর্তমানে কারাভোগ করছেন নগরীর আম্বরখানা সৈয়দ মুগনী এলাকার ট্রাক চালক রিপন আহমদ ভুট্টো।
অভিযোগ রয়েছে, আসামী বকুলের স্বজনরা ভট্টোকে ফুসলিয়ে কারাগারে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১৫ সালের ১১ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে ইকবাল আহমদ ভুট্টো। তখন নিজেকে হত্যা মামালার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী ইকবাল আহমদ বকুল পরিচয় দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তখন আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। কারাভোগের ১ বছর ২ মাস পর ভুট্টো জানান, তিনি আসলে বকুল নন। তার আসল পরিচয় ভুট্টো। তিনি পেশায় একজন ট্রাক চালক।

Share





Related News

Comments are Closed