বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ধীর থাকবে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ধীর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারী) অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ও২ও নামক সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন ক্যাবল, টাটা ইনডিকম ক্যাবল (টিআইসি), ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিউই) আরেকটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ফাইবার অপটিক ক্যাবলসহ তিনটি অকেজো থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে।’
বাংলাদেশ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ও২ও নামক একটি সাবমেরিন টেলিকমিউনিকেশন ক্যাবল দ্বারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত যুক্ত। এই ক্যাবলের মালিকানায় রয়েছে ভারতের ভারতি এয়ারটেল লিমিটেড। এই ক্যাবলে ৮ জোড়া ফাইবার রয়েছে যার মধ্য দিয়ে সেকেন্ডে ৮.৪ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ সঞ্চালন সম্ভব। কিন্তু চেন্নাইয়ের সমুদ্রতীর থেকে ৪০ কি.মি. দূরবর্তী স্থানে ক্যাবলটি কাটা পড়ার কারণে গত ১৩ ডিসেম্বর রাত ২টা থেকে ক্যাবলটি অকেজো রয়েছে।
টাটা ইনডিকম ক্যাবল (টিআসি) নামের একটি সাবমেরিন ক্যাবল দ্বারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সংযুক্ত রয়েছে যেটি টাটা ইনডিকম ইন্ডিয়া-সিঙ্গাপুর ক্যাবল সিস্টেম (টিআইআইএসসিএস) নামেও পরিচিত। এটি সেকেন্ডে ৫.১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ পরিবহনে সক্ষম। গত ৪ জানুয়ারি রাত ১টা থেকে এই ক্যাবলটি অকেজো রয়েছে।
ইন্ডিয়া-মধ্যপ্রাচ্য-পশ্চিম ইউরোপ (আইমিউই) আরেকটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ফাইবার অপটিক ক্যাবল দ্বারা ভারত মধ্যপ্রাচ্যের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত। এই ক্যাবলটিও এখন অকেজো রয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেটের ধীর গতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
আইমিউই ক্যাবল এ সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। এবং ও২ও ক্যাবল আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিআইস ক্যাবলের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আপডেট জানানো হয়নি। এই ক্যাবল তিনটির মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি আবারো আগের মতো স্বাভাবিক হবে বলে জানান ইমদাদুল হক।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হয়ত সমস্যাটি আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। তবে ইন্টারনেটের গতি বাংলাদেশে পুরোপুরি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আনতে কমপক্ষে এক মাসের ওপর সময় লাগবে।’
আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের দৈনিক ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ ৪০০ জিবিপিএস অতিক্রম করেছে। এই ৪০০ জিবিপিএসের মধ্যে ১২০ জিবিপিএস আমরা বিএসসিসিএলের মাধ্যমে পাই, ২৮০+ জিবিপিএস ব্যবহৃত ইন্টারনেট আইটিসি ব্যান্ডউইথ, যা ভারত থেকে আমদানি করা হয়। অর্থাৎ মোট ব্যান্ডউইথের ৭৫ শতাংশের বেশি ইন্টারনেট আইটিসি দিয়েই আসে। ভারত থেকে দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আইটিসি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে যারা হলো টাটা কমিউনিকেশন ও ভারতি এয়ারটেল।’
টাটা ইনডিকম ক্যাবল (টিআইসি) নামে আরো একটি সাবমেরিন ক্যাবল দ্বারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারত সংযুক্ত রয়েছে যেটি টাটা ইনডিকম ইন্ডিয়া-সিঙ্গাপুর ক্যাবল সিস্টেম (টিআইআইএসসিএস) নামেও পরিচিত। ৩ হাজার ১৭৫ কি.মি. দীর্ঘ এই ক্যাবলটি ভারতের চেন্নাই ও সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এটিতেও ৮ জোড়া ফাইবার রয়েছে যা ৬৪১০ জিবিপিএস টেকনোলজি দ্বারা তৈরি। এটি সেকেন্ডে ৫.১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ পরিবহনে সক্ষম। এটির শতভাগ মালিকানা টাটা কমিউনিকেশন্সের। গত ৪ জানুয়ারি রাত ১টা থেকে এই ক্যাবলটিও অকেজো রয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন খান বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবল কাটা পড়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। খুব শিগগিরই বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে।’
বিটিআরসির সচিব গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখছি।’
Related News
ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখেই আয়ের সুযোগ, যেভাবে করবেন আবেদন
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস দেখেই আয় করার সুযোগ দিচ্ছে ভারতের একটিRead More
পরীক্ষায় নকল রুখবে এআই, সিলেটে চার তরুণের নতুন উদ্ভাবন
প্রযুক্তি ডেস্ক: একটি শ্রেণিকক্ষে একসঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছেন প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী। পরীক্ষার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে দায়িত্বে রয়েছেনRead More



Comments are Closed