Main Menu

শান্তি সমৃদ্ধি ও মুক্তি কামনায় শেষ হলো সিলেট ইজতেমা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিন সুরমার লতিপুর-খিদিরপুর মাঠে আয়োজিত তাবলীগ জামাতের তিনদিনব্যাপী জেলা ইজতেমা আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার শেষ হয়েছে। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করা হয়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন কাকরাইল মরকজের মুরব্বি শেখ রবিউল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতে দেশ বিদেশের দশ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান শরীক হন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে ১২টা ১০মিনিট পর্যন্ত আখেরি মোনাজাত চলে। মোনাজাতে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করা হয়। এসময় মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনিতে ইজতেমা ময়দান মুখরিত হয়ে ওঠে।
মোনাজাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি হেঁটে, বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ইজতেমাস্থলে সমবেত হন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ইজতেমা স্থলে পৌঁছাতে না পেরে অনেক মুসল্লি বাইপাস সড়ক, আশেপাশের রাস্তা ও গ্রামে অবস্থান নেন। এছাড়া বিপুলসংখ্যক নারী মুসল্লিও মোনাজাতে অংশ নিতে ইজতেমা ময়দানের আশপাশের বিভিন্ন স্থানে সকাল থেকেই অবস্থান নেন।
টঙ্গির তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লীদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় এবার ৩২ জেলার অংশগ্রহণে তুরাগ তীরে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাকি ৩২ জেলায় জেলাভিত্তিক ইজতেমা পালন করবে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে তিনদিনব্যাপী ইজতেমা শুরু হয়।
গত বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লতিপুর-খিদিরপুর এলাকার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ইজতেমায় নিজেদের আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি কয়েক লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটে। শুধু তাই নয়; ইজতেমার ময়দানে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতেও জনতার স্রোত মিশেছিল সেখানে।
ইজতেমায় তাওহীদ, রিসালাত, দাওয়াত, সালাত, জিকিরসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান হয়। তিনদিন ধরে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে এসব বয়ান শোনেন। ইজতেমা শেষে মুসল্লিরা বিভিন্ন গন্তব্যে যাবেন। সেখানে তাঁরা ইসলামের দাওয়াত দেবেন।
সর্বশেষ ১৯৮৪ সালের পর গত ৩২ বছর সিলেটে কোন ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই এবারের ইজতেমাকে ঘিরে মুসল্লিদের মাঝে ছিলো ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ জেদান আল মুসা জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়। মোনাজাতের পর দেশি-বিদেশি মুসল্লিরা যতক্ষণ পর্যন্ত মাঠ না ছাড়বেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ অবস্থান করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, সিলেট জেলা ইজতেমার আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে শনিবার বেলা দুইটা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়।
সিলেট জেলা ও মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের আহ্বানের সাথে একাত্বতা পোষণ করে সবকটি মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া মার্কেটের সামনের নোটিশ বোর্ডেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed