দ্বীনের দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার আহবান
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট বিভাগীয় ইজতেমার প্রথম দিনের আম বয়ানে বক্তারা দ্বীনের খেদমতে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা:) দ্বীনের খেদমতের জন্য সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন। কাজেই, তার প্রতিষ্ঠিত দ্বীনের দাওয়াত উম্মত হিসাবে আমাদেরকেই পৌঁছে দিতে হবে।
১ম দিন বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মাওলানা আব্দুল মতিনের বয়ানের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। বাদ আছর বয়ান পেশ করেন মাওলানা আনিছুর রহমান এবং বাদ মাগরিব বয়ান পেশ করেন মাওলানা রবিউল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার মোল্লারগাঁওয়ের খিদিরপুর মাঠে শুরু হয়েছে এ ইজতেমা।
প্রথম দিনই প্যান্ডেল পরিপুূর্ণ হয়ে যাওয়ায় অনেক মুসল্লী প্যান্ডেলের বাইরে অবস্থান করছেন।
ইজতেমায় যোগ দিতে গত বুধবার থেকে বাস, মিনিবাস, মাইক্রো ও কারযোগে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসতে থাকেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লীদের সমাগম বাড়তে থাকে। সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের বাইপাস রোডের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন ইজতেমা ময়দান বৃহস্পতিবার সকালেই ইজতমা মাঠ পুরোটা ভরে গেছে। মহিলাদের জন্য আলাদা প্যান্ডেল না থাকায় ইজতেমায় ইবাদতের উদ্দেশ্যে আসা মহিলারা প্যান্ডেলের পাশের বাড়িগুলোতে অবস্থান করে বয়ান শুনেছেন।
১১টি খিত্তায় ডেরা টানিয়ে মুসল্লীরা অবস্থান করছেন। ইজতেমায় অংশ নিতে দু’দিন আগে পৌঁছেছেন বিদেশি মুসল্লিরাও। প্রায় ১৫ লাখ বর্গ ফুট আয়তনের বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণসহ ইজতেমা মাঠে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত মুসল্লীদের জন্য ১১ টি খিত্তা ভিত্তিক ওজু-গোসলের জন্য ১১ টি ডিপ টিউবওয়েল ও ১২টি জলাধার স্থাপন করা হয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিউবোর পক্ষ থেকে ২টি অস্থায়ী ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৮শ’টি অস্থায়ী শৌচাগার। একই সঙ্গে সিভিল সার্জনসহ দাতব্য সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে মেডিকেল ক্যাম্প খোলা হয়েছে। অসুস্থ মুসল্লিদের খেদমতে রয়েছে আল মারকাজুল খায়েরি আল ইসলামির এম্বুলেন্স। রেডক্রিসেন্টের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্য সেবার জন্য একটি ক্যাম্প খোলা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজও সেখানে মেডিকেল ক্যাম্প খুলেছে।
তাবলীগ জামায়াতের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনের নিরাপত্তার জন্য ইজতেমার ময়দানে রয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনীর চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। থাকছে চেক পোস্ট, পিকেট পার্টি, খিত্তা ভিত্তিক পার্টি ও সাদা পোশাকের পুলিশ। এছাড়া র্যাব সদস্যরাও স্ট্যান্ডবাই ডিউটি করবেন জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা বাইনোকুইলারের মাধ্যমে পুরো এলাকার ওপর নজরদারি রেখেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেখানে একটি ক্যাম্প, কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে কয়েক লাখ মুসল্লীর সমাগম হয়েছে। আখেরী মোনাজাতে প্রায় ১০ লাখ মুসল্লীর সমাগম ঘটবে বলে জানান জেদান।
বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সিলেটের জেলা প্রশাসককে প্রধান করে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা ছাড়াও কয়েকটি উপ-কমিটিও রয়েছে।
প্রথমবারের মতো এবার তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে দক্ষিন সুরমার মোল্লারগাঁওয়ে তিনদিন ব্যাপী শুরু হওয়া ইজতেমা ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সকালে আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে।
Related News
গোলাপগঞ্জে কিশোরীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধানRead More
সিলেটে সিএনজিতে তুলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, চালক গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় চালককে গ্রেফতার করেছেRead More



Comments are Closed