আবর্জনা সরাতে মহাকাশে যান পাঠাল জাপান
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীর কক্ষপথে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ আবর্জনা সরাতে পরীক্ষামূলকভাবে একটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে জাপান। অ্যালুমিনিয়াম এবং স্টিলের তার দিয়ে তৈরি প্রায় ৭০০ মিটার লম্বা একটি দড়ির সাহায্যে মহাকাশে থাকা আবর্জনার গতি স্তিমিত করে সেটিকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। স্বয়ংক্রিয় কার্গো মহাকাশযানটির নাম দেওয়া হয়েছে সারস পাখি বা জাপানি ভাষায় কোনোতোরি।
পৃথিবীর মহাকাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শতকোটি আবর্জনা খালি চোখে আমরা দেখতে পাই না। কিন্তু এসব আবর্জনা মানব সৃষ্ট। আর এজন্য ভবিষ্যতে মহাকাশে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনা রোধে ও মহাকাশ পরিষ্কার করতে জাপান শনিবার উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের টানেগাসিমা স্পেস সেন্টার থেকে মহাশূন্যে বিশেষ রকেট পাঠিয়েছে।
রকেটে এমন এক নভোযান আছে যেটি মহাশূন্যে ঝাড়ুদারের কাজ করবে। অর্থাৎ এই নভোযান মহাশূন্যে ভাসমান রকেট ইঞ্জিনের ধ্বংসস্তূপ খুঁজে বের করে তা আগুনে পুড়িয়ে দেবে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন আইএসএস কিছু মালামাল সরবরাহ করা হবে এই রকেট দিয়ে।
জাপানের তৈরি ৭০০ মিটার লম্বা এই রকেটের বৈশিষ্ট্য, এতে এমন একটি শিকল আছে যা মাছ ধরার জালের মত। জাপানের ফিশিং নেট কোম্পানি নিট্টও সিমো জাপান স্পেস এজেন্সির সঙ্গে মিলে এই জাল তৈরি করেছে। এটি অ্যালুমিনিয়ামর ও ইস্পাতের তৈরি। একে ইলেক্ট্রো ডাইনামিক জাল বলে। এর মধ্যে চৌম্বক শক্তি আছে। মহাকাশে এই জাল ধ্বংসস্তূপের মাঝে গেলে তা আকর্ষণ করে জালের ভেতর নিয়ে আসবে। পরে এই জাল থেকে এমন একটি শক্তি তৈরি হবে যা পৃথিবীর কক্ষ পথ থেকে ধ্বংসস্তূপগুলোকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ঠেলে দেবে। এতে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে ধ্বংসস্তূপ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ মহাকাশে রকেট প্রেরণ করছে। অনেকে উপগ্রহ বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি করছে। আর এসব করতে গিয়েই মহাকাশে জমা হতে থাকে রকেটের ধ্বংসস্তূপ। এসব ধ্বংসস্তূপ কোনও কোনোটি পৃথিবীর কক্ষপথে ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে ঘুরছে। আর এগুলো নিয়ে চিন্তিত বিজ্ঞানীরা। যেকোনো সময় এসব ধ্বংসস্তূপ পৃথিবীর কোনও উপগ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষ হতে পারে। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে স্যাটেলাইট যোগাযোগ। আর এজন্য পৃথিবীর কক্ষপথ পরিষ্কার করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
গত ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে এসব আবর্জনা মহাশূন্যে ভাসছে। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাশূন্যে স্পুটনিক স্যাটেলাইট পাঠানোর পর থেকে মহাকাশে জমতে থাকে এসব আবর্জনা।
পুরোনো স্যাটেলাইটের ফেলে দেওয়া যন্ত্রপাতি, রকেট বা স্যাটেলাইটের ছুটে যাওয়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র অংশসহ মহাকাশে ১০ কোটিরও বেশি নানাধরনের আবর্জনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গবেষকরা বলছেন, পিচ্ছিল এবং ইলেক্ট্রো ডায়নামিক দড়িটি কোনো বস্তুকে কক্ষপথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি উৎপাদন করবে। আবর্জনাগুলোকে সেটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে ঠেলে দেবে এবং যার ফলে বস্তুটি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।
এই প্রকল্পে জাপানের ১০৬ বছরের পুরোনো একটি মাছের জাল প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান, নিত্তো সিমো করপোরেশন জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সঙ্গে একসাথে কাজ করেছে। সূত্র : বিবিসি।
Related News
ফেসবুকের ভেরিফায়েড ব্যাজ এবার মিলবে ফ্রিতে, যেভাবে পাবেন
প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়েRead More
দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার, ১৮ হাজার টাকা ভাতা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেRead More



Comments are Closed