Main Menu

‘মৃত্যুপথযাত্রী কে এই কিশোর’

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: ১৬-১৭ বছরের মৃত্যুপথযাত্রী এক কিশোর সজ্ঞাহীন অবস্থায় সড়কের পাশে পড়েছিল। উৎসকু লোকজন দুর থেকে এ অবস্থায় মৃত ভেবে কাছেই ভিড়েনি সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শুক্রবার মৃত্যুপথযাত্রী ওই নাম পরিচয়হীন কিশোরকে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের উপদেষ্টা ও পুলিশের এক এসআই সড়ক থেকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসার পর সন্ধায় ওই কিশোর কিছুটা সুস্থ ও জ্ঞান ফিরলেও সে হাসপাতালে শুধুই লোকজনের দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আছে। ওই কিশোর না কথা বলে তার পরিচয় দিতে পারছে না কাউকে ছিনতে পারছে।
জানা গেছে, উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটের বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সড়কের পাশে ১৬ থেকে ১৭ বছরের ওই কিশোর অচেতন অবস্থায় শুক্রবার ভোর থেকেই পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। ভোর গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত অচেতন ওই কিশোরের নড়াচড়া না দেখে মৃত ভেবে উৎসুক লোকজনের ভীড় বাড়তেই থাকে। এক পর্যায়ে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের সদস্য বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রী কলেজের শিক্ষার্থী সুমন বিষয়টি যুগান্তর সব্জন সমাবেশের উপদেষ্টা ও যুগান্তরের তাহিরপুরের ষ্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদকে অবহিত করলে তিনি বিষয়টি বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বিপুল কুমার সিংহকে অবহিতর করেন। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে এসএই নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে দু’জন লোকের সহায়তায় ওই কিশোরকে উদ্যার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। বেলা দেড়টার দিকে ওই কিশোরকে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।
বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বিপুল কুমার সিনহা বলেন, যুগান্তর প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে আমি ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধরকে অবহিত করেছি, পরবর্তীতে উনার নির্দেশ পেয়ে ‘সেবাই পুলিশের ধর্ম’ এই ব্রতকে সামনে রেখেই সাধ্যমত চেষ্টা করেছি কিশোরকে সুস্থ্য করে তোলার জন্য।
যুগান্তরের তাহিরপুরের ষ্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন , পেশাগত দায়িত্বপালনের পাশাপাশী স্বজন সমাবেশের একজন কর্মী হিসাবে নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ওই কিশোরের সুচিকি]ৎসার জন্য পুলিশ ও হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারকে অনুরোধ করেছি। উনারা মানববিক কারনে ওই কিশোরের সুস্থ্যতার জন্য চেষ্টা করেছেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মীর্জা রিয়াদ হাসান শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, চিকিৎসা সেবা দেয়ার পর আপাতত ওই কিশোর কিছুটা সুস্থ্য হয়েছে। তবে জ্ঞান ফিরলেও সে নিজের পরিচয় কিংবা কাউকে চিনতে পারছে না, শুধু ফেল ফেল করে তাকিয়েই আছে। তিনি আরো বলেন, পুরোপুরি সূস্থ্য হতে আরো দু/একদিন সময় লাগবে। সুস্থ্য হলে ওই কিশোরোর নাম ঠিকানা জানার পর তার পরিবারের নিকট তাকে পৌছে দেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed