Main Menu

রাগীব আলী ভারতে গ্রেফতার, যেকোন সময় দেশে ফেরত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের তারাপুর চা বাগানের প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় পরোয়ানা জারির পর থেকেই ভারতে পালিয়ে আছেন শিল্পপতি রাগীব আলী। বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সকালে তাকে আটক করেছে ভারতের করিমগঞ্জের ইমিগ্রেশন পুলিশ।
সিলেট জেলা পুলিশের এএসপি সুজ্ঞান চাকমা রাগীব আলীকে আটকের খবর নিশ্চিত করে জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় করিমগঞ্জের ইমিগ্রেশন পুলিশ রাগীব আলীকে আটক করেছে। তাকে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাত সংক্রান্ত দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দিনই গত ১০ আগস্ট শিল্পপতি রাগীব আলী গ্রেপ্তার এড়াতে তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।
একটি সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর রাগীব আলী তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসামের শিলচরে তার পুত্রবধু সাদিকা জান্নাতের বাবার বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন। ইচ্ছে ছিলো সেখান থেকেই যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর। রাগীব আলী, তার ছেলে আবদুল হাই, পুত্রবধূ সাদিকা জান্নাত, মেয়ে রুজিনা কাদির ও নাতির যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব থাকলেও সমস্যা বাঁধে রাগীব আলীর ব্রিটিশ পাসপোর্টের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায়। এদিকে ভারতের ভিসার মেয়াদও শেষের দিকে চলে এসেছে। এ কারণেই রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাই ১২ নভেম্বর জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। তখনই ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হন জালিয়াতি মামলার অন্যতম আসামী আবদুল হাই। আবদুল হাই এখন কারাগারে আছেন।
প্রসঙ্গত, সিলেটের তারাপুর চা বাগানের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার দেবোত্তোর সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখে বিক্রি ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন রাগীব আলী। জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি দখলের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় উচ্চ আদালত ৬ মাসের মধ্যে চা বাগানটি দখলমুক্ত করতে সিলেটের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেন। একইসাথে চা বাগান ধ্বংস করে গড়ে ওঠা সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার নির্দেশনাও দেন আদালত। শিল্পপতি রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের দায়েরকৃত এক রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চার বিচারক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৯ জানুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেছিলেন। আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গত ১৫ মে বাগানটি রাগীব আলীর দখলমুক্ত করে সেবায়েত ডা. পঙ্কজ কুমার গুপ্তের কাছে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। তবে বাগান এলাকায় গড়ে উঠা মেডিক্যাল কলেজ, হোস্টেল ও আবাসিক স্থাপনার দখল রাগীব আলীর কাছেই থেকে যায়। আদালতের নির্দেশে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে ভূমি জালিয়াতির দায়ে থাকা দুটো মামলাও সচল হয়। এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি মামলায় ১০ জুলাই রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আলোচিত এ দুটি মামলায় ১০ আগস্ট শিল্পপতি রাগীব আলী ও বাগানের সেবায়েত পঙ্কজকুমারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরোয়ানা জারির দিনই গোপনে সপরিবারে ভারত পালিয়ে যান তারা। সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারত পালান রাগীব আলী। এরপর নিজের মালিকানাধীন সংবাদপত্র সিলেটের ডাক’র প্রকাশক ও সম্পাদক পদে থাকাকে অবৈধ দাবি করে দায়েরকৃত একটি মামলায়ও পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত।

Share





Related News

Comments are Closed