Main Menu

বিশ্বনাথ থানার এস আই’র বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ থানার এসআই শুভ্র সাহার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং গ্রামবাসীকে লাঞ্চণার বিষয়ে দায়েরী অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্তে এসআই শুভ্র সাহাকে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রামবাসীর নিকট ক্ষমা ও ঘুষের টাকা ফেরতের ঘোষণা দেয়া হয়।
রবিবার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দক্ষিণ আক্তারুজ্জামান বসু মিয়া বিষয়টি তদন্ত করেন। তদন্তকালীন সময়ে এসআই শুভ্র সাহা ও তার সঙ্গীয় দু’জন কনষ্টেবল উপস্থিত ছিলেন। গ্রামবাসীর পক্ষে প্রায় ১৬ জন তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট সাক্ষ্য প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উভয়পক্ষের স্বাক্ষী প্রমাণ গ্রহণপূর্বক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে বিষয়টির সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক এসআই শুভ্র সাহা গ্রামবাসীর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা, ঘুষ গ্রহণের টাকা ফেরত এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে সিলেট থেকে বদলীর ঘোষণা প্রদান করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তার এমন সিদ্ধান্তে গ্রামবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন। শহীদ নামের প্রতাবপুর গ্রামের সাবেক মেম্বার দারোগার পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার কারণে তাকে ভৎসনা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারী আব্দুর রহমান, সমুজ আলী ও অন্যান্য সাক্ষীগণ।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথ থানার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের প্রতাবপুর গ্রামের আবুল হোসেন পূর্ব শত্র“তার জের ধরে শাহিন নামের এক শিশুকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে নিয়ে তার বাড়ীতে আটক করে নির্যাতন চালায়। শাহিনের দাদা আব্দুর রহমান ও চাচা সমুজ আলী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা জরুরী ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। দারোগা শুভ্র সাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় এক দালালের প্ররোচনায় ঘটনার সত্যতা পেয়েও অভিযোগকারী আব্দুর রহমান ও সমুজ আলীকে শারীরিকভাবে লাঞ্চনা ও মাথা থেকে টুপি নামিয়ে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং গ্রামবাসীর সামনে অপমান করেন। অসহায় লোকজন দারোগার এমন অত্যাচারে হতভম্ব হয়ে অনেকেই পালিয়ে যান এবং আব্দুর রহমান ও সমুজ আলী দারোগাকে কর্জ ধার করে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে প্রাণে রক্ষা পান। কিন্তু শিশু নির্যাতন ও অপহরণকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী সিলেটের পুলিশ সুপার বরাবরে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিআইজিসহ পুলিশের উর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ দায়ের করলে গত ২৬ অক্টোবর তদন্তের প্রথম তারিখ নির্ধারন করা হয়। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘট থাকায় স্বাক্ষীগণ আসতে না পারায় রোববার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপরোক্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

Share





Related News

Comments are Closed