কিশোরী প্রেমিকার কারণে খুন হন ওয়াহিদ
এম.হাসানুল হক উজ্জ্বল, বিয়ানীবাজার থেকে: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের পাথারীপাড়া গ্রামের কিশোর আব্দুল ওয়াহিদ হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের একদিনের মাথায়ই পুলিশ ৪জনকে আটকসহ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে।
স্কুল পড়ুয়া কিশোরী প্রেমিকার কারণেই প্রাণ দিতে হয়েছে দোকান কর্মচারী আব্দুল ওয়াহিদকে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা খুনের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে হত্যা ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার সকালে টেকই কোনা গ্রামের হাওর থেকে কিশোর আব্দুল ওয়াহিদের (১৭) ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরিরে ১০টির বেশি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। সোমবার রাত ৮টার দিকে আব্দুল ওয়াহিদকে পার্শ্ববর্তী বাড়ীর বাহার উদ্দিনের পুত্র রেজাউল করিম (১৯) মোবাইলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এ তথ্য পুলিশের কাছে পৌছলে পুলিশ মঙ্গলবার রেজাউল করিমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল করিম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘটনার সাথে জড়িত আরো ৫ জনের নাম প্রকাশ করে। রেজাউলের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মুড়িয়া ইউনিয়নের পাথারী পাড়া গ্রামে অভিযান শুরু করে এবং মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু করে বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে হাসান আলীর পুত্র রাসেল (২৫), মৌলভী আব্দুল করিম এর পুত্র রাজু আহমদ (২০), আতাউর রহমানের পুত্র আতিকুর রহমানকে (২৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
বুধবার রাত সাড়ে ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আটক ৪ জন সরাসরি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পুলিশকে দিয়েছে এবং অপর ২ সহযোগির নাম প্রকাশ করেছে।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পাথারী পাড়া গ্রামের সাইম উদ্দিনের চাচাত বোনের সাথে ওয়াহিদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধও দেখা দেয়। ওয়াহিদকে ওই স্কুল পড়ুয়া মেয়ের সাথে যোগাযোগ না করতে বারন করা হয়। কিন্তুু ওয়াহিদ তাতে কর্ণপাত না করে প্রেমিকাকে বছর দেড়েক পূর্বে একটি মোবাইল ফোন কিনে দেয়। এ নিয়ে সাইম উদ্দিনের সাথে ওয়াহিদের বিরোধ দেখা দেয়। ওয়াহিদকে দেখে নেয়ারও হুমকী দেয়া হয়। এরপর থেকে ‘শ’ অদ্যাক্ষরের স্কুল পড়ুয়া মেয়ের চাচাত ভাই সাইম ও তার সহযোগিরা ওয়াহিদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করে। সোমবার রাতে যখন ওয়াহিদ ভাত খাচ্ছিল সেই সময় রেজাউলকে দিয়ে তারা ওয়াহিদকে ফোন করায়। জরুরী কাজ আছে বলে তাকে বাড়ী থেকে ডেকে নেয়। এদিন রাতে আর বাড়ি ফিরেনি ওয়াহিদ।
ওসি চন্দন কুমার চক্রবর্তী রাতে আসামীদের স্বীকারোক্তির কথা স্বীকার করে জানান, আটক ৪ জনসহ অপর পলাতক ২ আসামী কিভাবে লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে তার আদ্যপান্ত খুলে বলেছে। ওসি জানিয়েছেন, আসামীদের কথাবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে তারা প্রেমের কারণেই ওয়াহিদকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ প্রেমিকা ও অপর ২ পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে।
এদিকে হত্যাকান্ডের পরদিন নিহত ওয়াহিদের পিতা আব্দুল মন্নান বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed