সহসাই নিরসন হচ্ছে না সিসিকের অচলাবস্থা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট সিটি করপোরেশনের শীর্ষ তিন কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ অনুসারী কাউন্সিলরদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সৃষ্ট সিসিকের অচলাবস্থার সহসাই নিরসন হচ্ছে না। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনার জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে কর্মকর্তাদের। এর আগ পর্যন্ত নিজ প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে থাকতে হবে ওই তিন কর্মকর্তাকে।
গত সোমবার বিকেলে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব, ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ছ ম মনসুরের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন সিসিকের আওয়ামীপন্থি কাউন্সিলররা। এর পর থেকেই কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে সিসিকের দৈনন্দিন কার্যক্রম।
তাছাড়া ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কার্যালয়েও আসেননি ওই তিন কর্মকর্তা। তালা লাগানোর বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ দেয়ার কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতে পরিষদ মিলনায়তনে কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
তাদের হস্তক্ষেপে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কক্ষের তালা খুলে দেয়া হলেও অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত নিজেদের প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে থাকতে বলা হয়েছে তিন কর্মকর্তাকে।
কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান জানান, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত যাতে কোনো প্রকার কর্মসূচী না দেয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ও তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ফলে আমরা তাদের হাতে তালাবদ্ধ কক্ষের চাবি তুলে দিয়েছি। তবে আমাদের দাবি অফিস খোলা থাকলেও কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসতে পারবেন না।
এব্যাপারে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান জানান, আন্দোলনকারী কাউন্সিলররা আমাদের লোক। সরকারও আমাদের। ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা হোক আমরা চাইনা। তারা আমাদের কথা মেনেছে। তবে সকলের মুরব্বী অর্থমন্ত্রী মহোদয় যে নির্দেশনা দিবেন, সেভাবেই সিটি কর্পোরেশনের এই পরিস্থিতির সমাধান হবে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঐ তিন কর্মকর্তা অফিস করতে পারবেন না। তাদের নিজেদের প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে থাকতে হবে, অন্যথায় বাসায় থাকলেও কোনো ফাইল অথবা চেক এ স্বাক্ষর করতে পারবেন না। লুৎফুর রহমান বলেন, নাগরিকদের সাময়িক অসুবিধে হবে ঠিকই, তবে বিষয়টির সুন্দর সমাধানের স্বার্থে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।
সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি জনহিতৈষী প্রতিষ্ঠান। প্রত্যেক নাগরিকের সেবাপ্রাপ্তিমূলক প্রতিষ্ঠান। যে কোনো পরিস্থিতিতে যাতে জনগণ সেবাপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি রেখে আমরা কাউন্সিলরদের আশ্বস্ত করেছি অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে গত সোমবার বিকেলে তার কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন সরকার দলীয় কাউন্সিলররা।
Related News
সিলেটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল জব্দ, আটক ২ যুবক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাRead More
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের পর সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘অলRead More



Comments are Closed