Main Menu

তাহিরপুরে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লাপাত্তা!

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : ১শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পর মোটা অংকের টাকায় রফাদফার মাধ্যমে ওই ব্যবসায়ীকে মাদকসেবী সাজিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে লঘু সাজা করানোর সব পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল তাহিরপুর থানার এক (দারোগা) এসআই’র।
আটক ইয়াবা ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চারাগাঁও মাইজহাঁটির সামছুল হকের ছেলে।
এদিকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা হলেও আরো ৮০ পিস ট্যাবলেট কোথায় গেল তার কোন হদিস মিলছে না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সুত্রে জানা যায়, উপজেলার চারাগাঁও সীমান্তবর্তী জঙ্গলবাড়ি এলাকা থেকে সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় থানার এসআই তার অপর এক সমপদবী সহকর্মী ও ৫ কনষ্টেবলকে সাথে নিয়ে ১শ পিস ইয়াবা সহ আজিজুলকে আটক করেন। রাত সাড়ে ১২টায় স্থানীয় এক কয়লা ব্যবসায়ী ওই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে এমনকি ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে আসামী না করার জন্য ৫০ হাজার টাকায় ওই এসআইয়ের সাথে রফাদফা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকার লোকজন ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মীদের অবহিত করেন। রাত সোয়া ১টায় এসআই’র মুঠোফোনে ইয়াবা সহ একজনকে আটকের বিষয়টি জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, না মদ পান করেছিল, আর একটা ট্যাবলেট জ্বালিয়েছিলো, ১শ পিস ইয়াবা সহ কাউকে আটকের বিষয়টি মোটেও সত্য নয়।’ রাত ২টায় ফের ইয়াবা সহ আটক করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেখানে ইয়াবা ছিলই না সেখানে আমি কি ইয়াবা কিনে তাকে মামলার আসামী করব। তিনি এও বলেন পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে দেখব, ইউএনও স্যারের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কিছু করা করা যায় কি না?
ইতিমধ্যে বিষয়টি এলাকাবাসী পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহিত করলে কিছুটা বেকায়দার পড়ে যান ওই এসআই। অবশেষে মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ওই এসআই বাদী হয়ে ২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে আজিজুলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।
রাতে মাদকসেবী আর পরদিন সকালে ২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ দেখিয়ে মামলা দায়ের করা ও পরবর্তীতে ইয়াবা ট্যাবলেট কীভাবে পেলেন জানতে এসআই রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে মঙ্গলবার বেলা ১১টা ১৭মিনিটে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভাই পরে আজিজুলের বুক পকেট তল্লাশী করে ২০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাইছি।’ এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা ১শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আটকের কথা জানালো, তাহলে বাকী ৮০ পিস ট্যাবলেট গেল কোথায়? এমন প্রশ্নের উত্তরে ওই এসআই বলেন, আরে না, আর কোন ট্যাবলেট-ই ছিলনা।
উল্লেখ্য অন্তত ৫ মাস পূর্বে থানার অপর এক এএসআই জঙ্গলবাড়ির আবুল কাসেম নামক এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ২শ পিস ট্যাবলেট সহ আটকের পর তখনও ডিলার হিসাবে আজিজুলের নাম প্রকাশ পেলেও তদবীরের জোড়ে সে যাত্রায় সে রক্ষা পেয়ে যায়।

Share





Related News

Comments are Closed