Main Menu

বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকরা আবারো আন্দোলনমুখী

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিকেরা তাদের চাকুরী স্থায়ী করণের দাবীতে আবারও কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে ।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় খনির প্রশাসনিক দক্ষিণ গেটের সামনে বর্ধিত সভায় এই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
বড়পুকুরিয়া খনি শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিনই ২৯৭ টাকা মজুরীতে ভূগর্ভের নীচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে খনির শ্রমিকেরা। যেদিন কাজ সেদিন বেতন, কাজে না আসলে বেতন নাই, তাদের কোনো ছুটিও নাই। ভূগর্ভের নীচে কঠিন তাপমাত্রায় মাসে ১৫ দিনের বেশি কাজ করতে পারে না শ্রমিকেরা। তাই ১৫ দিনের বেতন দিয়ে সারামাস তাদের সংসারও চলছেনা। পৃথিবীর কোথায় খনির শ্রমিকেরা দিন হাজিরায় খনিতে কাজ করে না। অথচ বড়পুকুরিয়ার কয়লাখনিতে দীর্ঘ ১২বছর থেকে এভাবেই আমানষিক শ্রম দিয়ে যাচ্ছে খনির শ্রমিকেরা। এজন্য আগামী দিনে চাকুরী স্থায়ী করণের দাবীতে তাদের কঠোর আন্দোলন করা ছাড়া আর কোন ও উপায় নাই। একই কথা বলেন, খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম।
খনির শ্রমিকেরা অভিযোগ করে বলেন, খনিতে যারা স্থায়ী চাকুরী করে তাদের একটি ঝাড়ুদারের বেতন ৩০ হাজার টাকা অথচ যে শ্রমিকেরা কয়লা উৎপাদন করে তারা মাস শেষে বেতন তোলে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। এতে তাদের পরিবার অচল হয়ে পড়েছে। এজন্য তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ এর দাবীতে কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিক কর্মচারিরা।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায়, খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খনির শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের উপদেষ্টা, পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুল হক প্রামাণিক।
এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খনি শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ওয়াজেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান,সাংগাঠনিক সম্পাদক এহসানুল হক সোহাগ, সাবেক সাংগাঠনিক সম্পাদক লিটনসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ।
বর্ধিত সভা শেষে কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর আগামী ১মাসের মধ্যে চাকুরী স্থায়ী করণের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। আগামী ১মাসের মধ্যে চাকুরী স্থায়ীকরণ না হলে তারা খনির প্রধান কার্যালয় ঘেরাওসহ অবরোধ কর্মসুচির মতো কঠিন আন্দোলন করার হুশিয়ারী দেয়।

Share





Related News

Comments are Closed