Main Menu

জালালাবাদের এই নগরী-১

খলিলুর রহমান: সিলেট-এর অপর নাম জালালাবাদ। ওয়ালীকুল শিরোমণী হযরত শাহজালার (র.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সিলেটকে জালালাবাদও বলা হয়ে থাকে। এই জালালাবাদের প্রাণকেন্দ্র সিলেট শহর দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে মহানগরী, এমনকি মেট্রোসিটিও। কিন্তু মহানগরীর কোন লেবাস এখনো লাগেনি এ নগরীতে। মহানগরী হিসেবে দৃশ্যমান তেমন কোন উন্নয়ন না হলেও রিক্সাজট যানজট ও জনজট চরম ‘উন্নতি’ লাভ করেছে। নগরীতে সিটি কর্পোরেশন অনুমোদিত রিক্সার একটা অফিসিয়াল হিসাব থাকলেও রিক্সাচালকদের কোন হিসেব নেই। নেই অবৈধ রিক্সার কোন হিসেবও। নগরীতে সিটিবাস সার্ভিস নেই। টাউনবাস নামে আছে ব্যক্তিমালিকানায় মাত্র কয়েকটি লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি। এগুলোর সার্ভিস আবার নগরীতে নেই। নগরীর প্রাণ কেন্দ্র থেকে সিটির বাইরেই এগুলোর সার্ভিস। দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ লাইনেই টাউনবাসের সার্ভিস সীমাবদ্ধ। তাই এগুলোকে ‘টাউনবাস’ না বলে শহরতলী ‘উপজেলাবাস’ বলাই শ্রেয়। সিলেট সিটিতে রিক্সার পাশপাশি সিএনজি অটোরিক্সার চলাচল থাকলেও এগুলোর কোন হিসেব ও নিয়মনীতি সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। সরকারী বিধান মতে সিএনজি অটোরিক্সাগুলো প্যাডেল রিক্সার মত টাউনট্রীপে (রিজার্ভট্রীপে) ব্যবহারের কথা থাকলেও এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে মেট্রোসিটি ও জেলা উপজেলা এলাকার রোড (লোকাল) সার্ভিসে। তাই এগুলোরও কোন হিসেব নেই সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে। সিএনজি অটোরিক্সা চালকরা যথেচ্ছভাবে রোড সার্ভিস দিয়ে যাত্রী হয়রানীসহ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে নেয়। কখনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনদূর্ভোগের সৃষ্টি করে থাকে তারা। সিএনজি অটোরিক্সাগুলোর রেজিষ্টেশন বিআরটিসি’র থাকলেও সিটি এলাকায় চলাচলে সিটি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রন থাকার বিধান থাকলেও সে বিধান সিলেট সিটিতে কার্যকর নয়। সিটি কর্তৃপক্ষ জানেই না ক’টা সিএনজি অটোরিক্সা তার সিটি এলাকায় চলাচল করে থাকে। সিটি এলাকায় রিক্সা অটোরিক্সার জন্য কোন ষ্ট্যান্ড থাকার নিয়ম নেই। এগুলোর সার্ভিস ভ্রাম্যমান। কিন্তু সিলেট সিটি কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নগরীর যত্রতত্র অটোরিক্সা ও লেগুনার বেআইনী স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজট এমনকি জনজটকে আরো প্রকট করে তুলেছে। রিক্সাচালকদের দৌরাত্ম কমানোর নাম করে রিক্সাভাড়া নির্ধারন প্রকল্প হাতে নিয়ে সিটি কর্তৃপক্ষ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাড়ার বড়বড় বিলবোর্ড টানিয়েছে সত্য। কিন্তু রিক্সাচালকদের নিয়ন্ত্রনে বাস্তবসম্মত কোন পদক্ষেপ না নিয়ে এর মাধ্যমে রিক্সাচালকদের দৌরাত্ম আরো উস্কে দিয়েছে। ভাড়া নির্ধারন প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করা ছাড়া আর কিছুই করেনি কর্তৃপক্ষ। নগরীতে রিক্সাচালকদের কোন লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র নেই। বে-আইনী রিক্সার বিরুদ্ধে কোন অভিযানও নেই। ফলে বেআ্ই্নী রিক্সার গ্যারেজ ব্যবসার সাথে পুলিশসহ একটি স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত। পাশাপাশি অপরাধ প্রবনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে নগরী ও আশপাশ এলাকায়। রিক্সাচালক পরিচয়ে দাগী-অপরাধী ও চোর-ডাকাতদের অভয়ারন্যে পরিণত হয়ে গেছে সিলেট নগরী। দিনে রিক্সা ও রাতে চুরি ডাকাতি পেশায় অনেক রিক্সাচালক জড়িত।

Share





Related News

Comments are Closed