Main Menu

মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষা ৭ অক্টোবর : ৯৪১৭ আসনে লড়বে ৯০৪১৭ জন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : এ বছর এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯০ হাজার ৪১৭ জন। মোট আসন ৯ হাজার ৪১৭। এবার মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে কঠোর ব্যবস্থাসহ সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইড কমিটি’। রয়েছে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি ও মডারেটর।

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অধ্যাপক জাফর ইকবালও দেখভাল করবেন। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রেটিনাসহ মেডিক্যাল কোচিং সেন্টারসমূহ সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধেও আইসিটি আইনে বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘এমবিবিএস’ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, সব সময় জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। গত বছর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও তা পরবর্তীতে গুজব ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়। এবারও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এমন ষড়যন্ত্র হতে পারে। তাই এবার বাড়তি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকে মুক্ত থাকতেই এবার বাড়তি নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কাজ করলে বিভিন্ন সমস্যা আসবেই। তবে যেকোনো কাজের জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করি। সামনে রয়েছে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা। সাধারণত সর্বোচ্চ পর্যায়ের মেধাবীরাই প্রাপ্ত মেধাক্রম অনুযায়ী মেডিক্যাল শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়ে থাকে। গত বছর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা করেছে একটি চক্র। পরবর্তীতে তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই এবার ভর্তি পরীক্ষার অনেক আগেই এধরনের গুজব প্রতিরোধসহ মেডিক্যাল শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভর্তি পরীক্ষা আরো যথাযথভাবে অনুষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে আপনাদের পরামর্শ কামনা করছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মেডিক্যাল শিক্ষায় সীমিত আসন সংখ্যার বিপরীত অনেকগুণ বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর প্রাপ্তদের সংখ্যাও কলেজগুলোর আসনের তুলনায় অনেকগুণ বেশি হয়ে থাকে। মেডিক্যাল শিক্ষার সঙ্গে প্রকৃত চিকিত্সক হওয়া এবং মানুষের সঠিক চিকিত্সা ও জীবন বাঁচানোর বিষয়টি জড়িত রয়েছে। তাই মেডিক্যাল শিক্ষা ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে কোনো আপোস করা যাবে না। এ বিষয়ে কারো অন্যায় দাবি ও অনিয়ম সহ্য করা যাবে না। তিনি বলেন, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

পরীক্ষার পদ্ধতি, প্রশ্নপত্র তৈরি এবং সেগুলো পরীক্ষা সেন্টারে পাঠানোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে শক্তিশালী নিরাপত্তাবলয় থাকে। কেন্দ্রীয়ভাবে একটি ছাড়াও বিভিন্ন স্তরে বেশ কয়েকটি কমিটির সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে পাঁচজন প্রখ্যাত শিক্ষক থাকেন, যাদের পরিচয় বাইরের কেউ জানতে পারেন না। তারা পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাইরের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। আর সেখানে কর্মরত ৪ থেকে পাঁচজন কর্মচারীকেও একই পরিবেশে থাকতে হয়। তারা যেখানে থাকেন, কাজ করেন, সেই কক্ষটি সিসিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে। বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো প্রশ্নপত্রের ট্রাংকের ভেতর স্থাপন করা হবে বিশেষ ট্রাকিং ডিভাইস। প্রশ্নপত্রের ট্রাংকে স্পর্শ পড়লেও সেই ডিভাইসটি সিগন্যাল দেবে। প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কক্ষ সার্বক্ষণিক সিসিটিভি দ্বারা মনিটরিং করার ব্যবস্থা থাকবে। এমন পরিবেশ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কথা ভাবাই যায় না। বাড়তি উদ্যোগ হিসেবে এবার ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা তদারকি করতে বিভিন্ন পেশাজীবীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘ওভারসাইড কমিটি’। একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদকে করা হয়েছে মডারেটর। ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (মেডিক্যাল শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এমএ রশিদ বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ প্রমুখ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (মেডিক্যাল শিক্ষা) আব্দুর রশিদ বলেন, এবার মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এমবিবিএসের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ৭ অক্টোবর হবে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে ৯৯টি। এর মধ্যে সরকারি ৩০টি, বেসরকারি ৬৯টি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে মোট আসন ৩ হাজার ২১২ এবং বেসরকারি মেডিক্যালে আসন রয়েছে ৬ হাজার ২০৫টি। সরাদেশে মোট ১৮টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯০ হাজার ৪১৭ জন। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৮৪ হাজার ৪০০ জন।

উল্লেখ্য, বিডিএসের ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

Share





Related News

Comments are Closed