Main Menu

দেবী দূর্গার আগমনে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার থেকে: ক’দিন বাদেই মহালয়ার মধ্যদিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে মর্তলোকে। শুরু হবে ৬ অক্টোবর মহাপঞ্চমী তিথিতে দেবীর বোধনের মধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত— সময় পার করছেন কক্সবাজারের মৃৎ শিল্পীরা। পরম যত্নে মুর্তিগুলোতে অবয়ব দিতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এবারের পূজাকে আরো রঙিন করে তুলতে অপরূপ সুন্দর সব প্রতিমা তৈরি করছেন তারা। এখন চলছে খড় আর কাঁদা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করেও সঠিক পারিশ্রমিক না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করেন মৃৎশিল্পীরা। তাই ইতোমধ্যে অনেকই বাপ-দাদার এ পেশা বদলে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে আর্থিকভাবে লাভবান না হলেও পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে এ কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা।
কক্সবাজারের মৃত শিল্পী বাবুল ভট্টচার্য্য জানান, নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে এইভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরবর্তীতে আমাদের সন্তানদের এ কাজ করতে দেওয়া যাবে না। কারণ হলো বর্তমান যে যুগ, জিনিস পত্রের দাম বেশী। কিন্তু আমরা সেভাবে মূল্য পাচ্ছি না। তার অভিযোগ বর্তমানে কাচাঁমালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরি করে খুব একটা লাভবান হতে পারছেন না মৃৎ শিল্পীরা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি এডভোকেট রনজিত দাশ জানালেন, আসন্ন দুর্গাপূজার সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ চলছে এখন। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের পাশাপাশি পূজায় সার্বিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৬ অক্টোবর দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে ১১ অক্টোবর লাখো ভক্তের উপস্থিতিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জনের শেষ হবে এ উৎসব। এটিই বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব। নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হবে। এ ব্যাপারে ২৩ সেপ্টেম্বর পরিষদের জরুরি সভা আহবান করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হবে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, এবার জেলায় মোট ২৮৬টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরমধ্যে এর মধ্যে ১৩২টি প্রতিমা ও ১৫৪টি ঘট পূজা। গত বছরের চেয়ে এ বছর ১০টি পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ উৎসব জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের। এ উৎসবে সকলকে সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রেখে অংশ গ্রহন করার জন্য আহবান জানান তিনি। এবার দেবীর আগমন ও প্রস্থান হবে ঘোড়া বাহনে চড়ে।

Share





Related News

Comments are Closed