Main Menu

প্রেমিকের প্রতারনা: তালাকপ্রাপ্তা গৃহবধূর আত্মহত্যা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিৎলিয়া গ্রামে প্রেমিকের আচরণে ও প্ররোচনায় সদ্য তালাকপ্রাপ্ত এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটায় এ ঘটনাটি ঘটে।
কমলগঞ্জ থানায় আত্মহত্যাকারী গৃহবধূর ভাই আব্দুস সামাদের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে মামুন মিয়ার (২৫) সাথে তার ছোট বোন মৌসুমী আক্তার ওরফে মায়ারুনের (২০) বিয়ে হয়েছিল ৩ মাস পূর্বে। বিয়ের পর থেকে তার বোনের প্রেমিক একই গ্রামের মফিজ মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ূম (২৮) নানাভাবে জ্বালাতন শুরু করে। বিয়ের আগে মৌসুমীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল কাইয়ূম। গত ২১ জুলাই কাইয়ূম গোপনে নানা প্রলোভন দেখিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে মৌসুমীকে নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দুই দিন আটকিয়ে রেখে পরে রাস্তায় ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় প্রেমিক কাইয়ূমকে চাপ দিলে স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিলে সে মৌসুমীকে বিয়ে করবে বলে জানায়। আলীনগর ইউনিয়ন কাজী অফিসে স্বামী স্ত্রী উভয় পক্ষের সম্মতিতে মৌসুমী তালাক নিয়ে বাবার বাড়ি আশ্রয় নেয়।
স্বেচ্ছায় তালাক নেওয়ার পর থেকে প্রতারক প্রেমিক কাইয়ুম নানানভাবে ছল চাতুরী শুরু করে। এতে গৃহবধূ মৌসুমী মৌলভীবাজার আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে আদালত তদন্তক্রমে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনে কমলগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে (কাইয়ূম) আর মৌসুমীকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকাল চারটায় ছোট ভাই কালামকে (২৪) সাথে নিয়ে মৌসুমীর বাড়িতে এসে নানাভাবে গাল মন্দ করে হুমকি দিয়ে বলে যায়, মৌসুমী এখন গলায় ফাঁস দিয়ে মরে যাওয়াই ভাল। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকাল সাড়ে চারটায় বাড়ির লোকজনের অগোচরে গৃহবধূ মৌসুমী আত্মহত্যা করে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় চিৎলিয়া গ্রাম থেকে গৃহবধূ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। সোমবার রাতেই আবার গৃহবধূর বড় ভাই আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে প্রতারক প্রেমিক আব্দুল কাইয়ূম ও তার ছোট ভাই আবুল কালামকে আসামী করে কমলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী আব্দুস সামাদ মুঠোফোনে এ প্রতিনিধিকে বলেন, কাইয়ূমের আচরণ ভাল না থাকায় প্রস্তাব দিলেও তার কাছে বোনকে বিয়ে না দিয়ে একই গ্রামের অন্য এক বরের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তাই সে প্রতিশোধ নিতে প্রতারনার আশ্রয়ে স্বামীকে তালাক দিলে তাকে বিয়ে করবে বলে প্রথমে ২১ জুলাই বোনকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে দুই দিন আটকিয়ে রাখে। তালাকের পর আবার সে কোন সাড়া না দিয়ে উল্টো মৌসুমীকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়। তাই সে (মৌসুমী) নিজের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক বাদশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কাইয়ূম সব কিছুই করেছে প্রতারনা করে। তার কারণেই মৌসুমী আত্মহত্যা করেছে। তিনি এ ঘটনার তদন্তক্রমে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। অভিযুক্ত কাইয়ূমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে ভাই কালামসহ কাইয়ূম পলাতক রয়েছে। তবে তার কোন আত্মীয় স্বজনও এ বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (২য় কর্মকর্তা) আবু আল মামুন গৃহবধূর আত্মহত্যা ও থানায় হত্যা মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন তদন্তক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed