Main Menu

তাহিরপুরে টাংগুয়ার হাওরে হাওর উৎসব ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর

Manual8 Ad Code

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরে আগামি ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর দু-দিন ব্যাপি হাওর উৎসবের আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। মাদার ফিসারিস অব “টাঙ্গুয়ার হাওরে” দু’দিন ব্যাপী উৎসবে বসবে কয়েক হাজার পর্যটকের মিলনমেলা।
ওয়ার্ল্ড হেরিটেইজ রামসার সাইট হিসাবে স্বীকৃত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন ও ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের কুলঘেষা তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলার আংশিক এলাকাজুড়ে অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর। প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আয়তনের অধিক জলাভুমি নিয়ে গঠিত মাদার ফিসারিজ অব টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবিতে কয়েক হাজার পর্যটক প্রেমীদের মিলন মেলায় পরিণত হবে দু’দিনের এ উৎসব। দেশ- বিদেশের পর্যটক প্রেমীদের নিকট টাঙ্গুয়ার হাওরের পর্যটন শিল্পের পরিচিতি তুলে ধরার জন্য নৌ-যাত্রাকে উৎসবে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছে তাহিরকুর উপজেলা পরিষদ।
উপজেলা পরিষদের দায়িত্বশীল সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরে আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর দুই দিন ব্যাপি হাওর উৎসবকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। হাওরের জলাভুমি জুড়ে হিজল করচের সবুজ ছায়ায় নীল জলরাশীতে ৫৩টি বিল, ১২০ কুড়ি কান্দা-জাঙ্গাল রয়েছে। ১৪১ প্রজাতির মাছ, ২০০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ৩৪০ প্রজাতির দেশী- বিদেশী পাখি, ৯৮ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি, ১২১, ২২ প্রজাতির পরিযায়ী হাঁস, ১৯ প্রজাতির স্থন্যপায়ী প্রাণী, ২৯ প্রজাতির সরিসৃপ, বিশ্বের বিলুপ্ত প্যালাসাস পেঙ্গুইন পাখি, প্রায় ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণীসহ অসংখ্য স্থলজ, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্রের অভয়ারণ্য রয়েছে এই সুবিশাল টাঙ্গুয়ার হাওরের বুক জুড়ে।
টাঙ্গুয়ার হাওরকে ঘিরে বিএনপি ও আওয়ামলীগ দুই সরকারের আমলেই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ব্যাপারে নানা প্রতিশ্রæতি দেয়া হয়েছিলো কিন্তু সেই প্রতিশ্রæতি আজো আলোর মুখ দেখেনি। বিএনপি সরকারের প্রয়াত সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে ১৯৯৪ সালে ট্যাকেরঘাটের এক জনসভায় তাহিরপুরে ট্ঙ্গাুয়ার হাওর ও জাদুকাঁটা নদীর কুলঘেষা বারেক টিলাকে ঘিরে একটি পর্যটন কেন্দ্র ও ট্যাকেরঘাটে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরী, একটি গøাস ফ্যাক্টরী তৈরী করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা প্রথম বারের মত ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর তাহিরপুরে এসে এক জনসভায় টাঙ্গুয়ার হাওর, ট্যাকেরঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্পের পতিত ভুমি ও জাদুকাঁটা নদীর বারেক টিলাকে ঘিরে আবারো একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রæতি দেন। কিন্তু গত ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও বঙ্গবন্ধু কন্যার সেই প্রতিশ্রæতিও আলোর মুখ দেখেনি। চলতি বছর সারা দেশের স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সরকারী চাকুরীজবী ও দেশী-বিদেশী পর্যটক সহ কমপক্ষে ১ লাখের অধিক পর্যটক ট্গাুয়ার হাওর, ট্যাকেরঘাট, বারেক টিলা ও জাদুকাঁটা নদীতে ভ্রমণে এসে থাকা-খাওয়া সহ নানা বিরম্ভনার শিকার হয়েছেন।
পরিবেশ ও মানবাধিকার উন্নয়ন সোসাইটর মহা পরিচালক এবি রাজ্জাক বলেন, এভাবে গত দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে পর্যটকদের আনাগুনা বাড়লেও সরকারের প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাহিরপুরের পর্যটন খাত থেকে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি পর্যটকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অপরদিকে স্থানীয় বেকার যুবকদের একটি বড় অংশের কর্মসংস্থানের পথ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।
হাওর উৎসবের আয়োজক উপজেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওরে দিন দিন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাওর উৎসবে পানির ওপর ভাসমান মঞ্চে রাত কাঁটানোসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশেন করবে দেশের জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আশিক সহ স্থানীয় শিল্পীগণ ।
উৎসবে ৪টি লঞ্চসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক নৌ-বহর থাকবে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে জাদুকাঁটা নদীর কুলঘেষা বারেক টিলায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের উৎসবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নামমাত্র খরচে তারা এই উৎসবে অংশ নিতে পারবেন বলে আয়োজকরা জানান। জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওরের পর্যটন সম্ভাবনা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে ও পর্যটন উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলার দাবিতে দেশের যে কোন স্থান থেকেই এই উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের আহŸান জানিয়েছে উপজেলা পরিষদ।
দু’দিনের উৎসব ও নৌ-যাত্রায় পর্যটকদের মতামত নিয়ে সরকারের কাছে দ্রæত পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার জন্য সুপারিশ জানাবেন আয়োজকরা।
দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপি, জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম সহ জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলের সভাপতিত্বে হাওরে নৌ-যাত্রা ও উৎসবকে সফল করার লক্ষ্যে গত সোমবার উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম, তাহিরপুর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ, উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বিপ্লব সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খাঁ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন, সহ-সভাপতি নুরুল আমীন, আলী মুর্তুজা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন, বাদাঘাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন আহমদ, উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোদাচ্ছির আলম সুবল, আলমগীর খোকন প্রমুখ।
এছাড়াও সভায় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জন প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
হাওর উৎসবের প্রধান উদ্যোক্তা তাহিরপুর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান, হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় টাংগুয়ার হাওর উপজেলাবাসীর একটি প্রানের সম্পদ। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। কিন্তু পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানানোর পরও। তাই এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা দেশ-বিদেশের পর্যটক সহ বর্তমান সরকারের কাছে টাংগুয়ার হাওর, টেকেরঘাট, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী, জীব-বৈচিত্র, সৌন্দর্য, হাওরবাসীর কৃষ্টি-কালচার, সীমান্ত এলাকায় বসবাস কারী উপজাতিদের জীবন-যাপন ও তাদের সংস্কৃতি এবং হাওরবাসীর অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরতে চাই। যাতে করে বর্তমান সরকারের এ উপজেলাবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রæতি অনুযায়ী একটি পর্যটন শিল্প গড়ে তুলেন। আর পর্যটকগন টাগুয়ার হাওর, ট্যাকেঘাট, বারেকটিলা, যাদুকাটা নদী সহ উপজেলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন।
এদিকে, দু-দিন ব্যাপি হাওর উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানান আয়োজন। হাওর উৎসবে আমন্ত্রিতদের সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা ও সফল করার জন্য গঠন করা হয়েছে ১০টি কমিটি ও উপকমিটি। ৪টি বড় লঞ্চ সহ শতাধিক নৌ-বহর থাকেবে এই উৎসবে। এই সব নৌ-বহরে করে হাওরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন অংশ ঘুরে দেখানো হবে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code