শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের টিকিট সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
নূরউদ্দীন আহমেদ, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশনে উদয়ন, পাহাড়িকা, উপবন ও কালনী ট্রেনের টিকিটের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের যাত্রীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি টিকিট না পেয়ে কাউন্টারে যাত্রীদের বাক-বিতন্ডার ঘটনা এখন নিত্য দিনের দৃশ্য।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম গামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের জন্য শোভন শ্রেণীর ‘ঞ’ কোচের মাত্র দুটি আসন রয়েছে। অথচ পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল থেকে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক যাত্রী ষ্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। গত দেড় বছর ধরে এ ষ্টেশন থেকে উদয়ন ট্রেনের সবকটি বগি কেটে নেয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত ১৪ই জানুয়ারি উদয়ন ট্রেনের ৪০ আসন বিশিষ্ট ‘ছ’ কোচটি কেটে নেয়া হয়। এ ট্রেনের বাথ ছিল ২টি। এখন নেই। শোভন চেয়ার ছিল ২০টি। এখন একটিও নেই। শোভন সিট ছিল ৪৭টি। এখন আছে ২টি। এ ট্রেনের সবমিলিয়ে এখন শুধু মাত্র ২টি টিকিট আছে। এছাড়া চট্টগ্রামগামী অপর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের জন্যও শ্রীমঙ্গল ষ্টেশনে মাত্র ১০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি আসন লাঙ্গলকোটের। ৪৫ আসনের পাহাড়িকার ‘ঞ’ কোচটি গত বছরের ২৬শে জুন কেটে নেয়া হয়। এ ট্রেনের এসি আছে ৬টি। শোভন চেয়ার আগে ছিল ১০টি। এখন নেই। শোভন সিট ছিল ৪৭টি । এখন আছে মাত্র ২টি।
অন্যদিকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর পারাবত ট্রেনের এসি ছিল ১০টি। এখন নেই। শোভন চেয়ার ছিল ৬০টি এখন আছে ৩০টি। শোভন সিট আছে ৬০টি। জয়ন্তিকা ট্রেনের এসি ছিল ৬টি। এখন নেই। এ ট্রেনের প্রথম শ্রেণী আছে ৯টি। শোভন চেয়ার ২৫টি। এ ট্রেনে মাত্র ৩৪টি টিকিট আছে। কালনী ট্রেনের এসি ছিল ৬টি। এখন নেই। শোভন চেয়ার ছিল ৬০টি। এখন আছে ২০টি। শোভন সিট আছে ৩০টি। উপবন ট্রেনের আগে এসি বাথ ছিল ২টি। এখন নেই। শোভন চেয়ার ছিল ১০০টি। এখন একটিও নাই। শোভন ছিল ২০টি। তাই আছে।
এ রুটে যাতায়াতকারী অনেক যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশনে ঢাকাগামী উপবন, কালনী ও চট্টগ্রামগামী উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের টিকিট চাহিদা অনুযায়ী আসন না বরাদ্দ থাকায় যাত্রীদের পার্শ্ববর্তী সিলেট, কুলাউড়া, শমসেরনগর ও শায়েস্তাগঞ্জ ষ্টেশন থেকে চড়া দামে টিকিট সংগ্রহ করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল রেল ষ্টেশন মাস্টার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিশেষ করে চারটি ট্রেনের বগি বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবুও কোন সুফল পাচ্ছি না। তিনি বলেন, পর্যটন এলাকা হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করায় প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক আসা যাওয়া করছেন। আর নিরাপদ ভ্রমণ হিসেবে অনেকেই রেলে ভ্রমণ করাটা থাকে প্রথম পছন্দের তালিকায়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার, শুক্রবার আর শনিবার তো পর্যটকদের আনাগোনা অনেকটা বেড়ে যায়। আর শ্রীমঙ্গল ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলা শহর, সদর ও রাজনগর উপজেলার বাসিন্দারা এ ষ্টেশন দিয়েই যাতায়াত করে থাকেন। সে কারণে এ স্টেশনের গুরুত্ব অনেক বেশি বলে জানান তিনি।
Related News
কমলগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে অটোরিকশা, চালক নিখোঁজ
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা টমটম পড়ে যাওয়ারRead More
কমলগঞ্জে রত্নগর্ভা মা সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার গকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রতœগর্ভা মা সম্মাননা স্মারক, অবসরপ্রাপ্তRead More



Comments are Closed