Main Menu

ছাতকে ১শতক সরকারি ভূমি ৯ লাখ টাকায় বিক্রি

কামরুল হাসান সবুজ, ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে সরকারি এক শতক বাজার ভিট ৯ লাখ টাকায় বিক্রি হলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এব্যাপারে ক্রেতা-বিক্রেতা ৪ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে অভিযোগ করলে এটি এসিল্যান্ডের কাছে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু তিনি অভিযুক্তদের সাথে গোপন আতাঁত করায় সঠিক বিচার প্রাপ্তি নিয়েও তাদের মধ্যে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। আনরেজিষ্ট্রি দলিলে বিক্রির প্রমানাদি থাকলেও এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এ সন্দেহ দেখা দেয়। ফলে প্রতি বছর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব পাওনা থেকে।
জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ বটেরখালের তীরবর্তী বাজারভিট রকম ১শতক সরকারি ভূমি ১৯৯৭ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় গোবিন্দনগর গ্রামের আরব আলীর কাছ থেকে পুত্র ভূমিহীন আনছার আলী টাকার বিনিময়ে পজেশন ক্রয় করেন। এরপর বাঁশের দু’টি দোকান তৈরী করে ইউনিয়নের হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধসহ ২০০৮ সাল থেকে নিজেই এখানে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে পরিবারের ভরন-পোষন নির্বাহ করতে থাকেন। একপর্যায়ে আনসারের ভাই আশরাফ আলীও পিতা মিলে একই ভূমি ২য় বার গ্রামের জবান আলীর পুত্র মছরব আলী এবং আব্দুল হান্নানের পুত্র মিন্টু মিয়ার কাছে পৃথক দু’টি আনরেজিষ্ট্রারী দলিলে ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। এরপর গত ২৯ এপ্রিল ২০১৫ইং মিন্টু ও মছরব আলী রাতের বেলা দোকানে সশস্ত্র হামলা করে আনসার আলীর স্ত্রী শিপা বেগমকে ব্যাপক মারধোর করে। তারা মালামাল বাহিরে ফেলে দু’টি দোকান জবরদখল করে নেয়। এরপর গুরুতর আহত শিপা বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় শিপা বেগম সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ইং ক্রেতা-বিক্রেতা ৪জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ছাতক এসিল্যান্ডকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এসিল্যান্ড গত একবছরেও এর কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। ফলে এর অগ্রগতির লক্ষ্যে শিপা বেগম ছাতক ইউএনও বরাবরে পূনরায় আবেদন করলে (ডকেট নং-১০৭২, তাং ১২.০৭.২০১৬ইং) এসিল্যান্ডকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সমাধানের নির্দেশ দেন। কিন্তু শিপা বেগম এসিল্যান্ডের কাছে যাবার পর পুলিশে দেয়ার হুমকি দেখিয়ে স্বামীসহ তাকে টানা-হেঁচড়া করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় উপস্থিত বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আশিকুর রহমান আসিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রজব উদ্দিন কমান্ডারসহ প্রায় ২০/২৫জন লোক ঘটনা দেখে এর তীব্র নিন্দা জানান। এর আগে এসিল্যান্ড ২৮ জানুয়ারি সার্ভেয়ার মনিরুল ইসলামকে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু সার্ভেয়ার আড়াই মাস পর গত ১২ এপ্রিল তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের সাথে আতাঁত করে একটি দায়সাড়া রিপোর্ট দাখিল করেন। রিপোর্টে ভূঁয়া ও সাজানো তথ্য দেয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তেুাষ ছড়িয়ে পড়ে। রিপোর্টে জানা যায়, সরকারি ভূমি বিক্রেতা আশরাফ আলীও তার পিতার বিরোধের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত। এতে বিবাদীরা দু’টি দোকান আনরেজিষ্ট্রারী দলিলে বিক্রি করেছেন উল্লেখ করলেও রিপোর্টে জড়িতদের আড়াল করতে সঠিক বিক্রয় মূল্য লেখা হয়নি। এখানে বাজার পেরীফেরীভূক্ত বাজার ভিট বিক্রয়ের বিধান নেই উল্লেখ করে বর্তমানে জবর-দখলদার মছরব আলীও মিন্টু মিয়ার বিরোদ্ধে উচ্ছেদ মোকদ্দমা দায়ের করে সরকারি ভূমি হতে অবৈধ স্থাপনা অপসারন করার সূপারিশ করেন। কিন্তু সার্ভেয়ার উচ্ছেদের সূপারিশ করলেও রহস্যজনক কারনে এক্ষেত্রে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।
এদিকে ২০০৮সালের ৭জুন আনছার আলী দোকান হারানোর আশংকায় ছাতক থানায় একটি জিডি (নং-২৪৮) করেন। এরপর গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান গত ২৫মার্চ সুনামগঞ্জ এডিএম বরাবরে গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রতিবেদনও প্রত্যয়নে ভূমিহীন আনছার আলীর দীর্ঘদিনের দখলে থাকা দোকান ভিট পূনরুদ্ধারে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সূপারিশ করেন। কিন্তু এরপরও এসিল্যান্ড এদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পূনরায় লিজ দেয়ার কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এ ক্ষেত্রে তিনি রহস্যজনক কারনে নীরবতা পালন করছেন। ভূমিহীন আনছার আলীর দখলে থাকা সরকারি ভূমি লিজ পেতে জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে আবেদন করেছেন। ফলে আনসার আলী উক্ত ভূমি লীজ পেতে প্রধানমন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed