ড. শিবলী নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি পদে যোগদান
বিশেষ প্রতিনিধি: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর ভাইস চ্যান্সেলর পদে ১৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার যোগদান করেছেন।
প্রফেসর ড. আতফুল হাই শিবলী ১৯৪৪ সালের ১০ই ফেব্রæয়ারী গৌহাটিতে জন্ম গ্রহণ করেন । তার পৈত্রিক বাড়ী হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দীঘলবাক গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ আব্দুল হাই এবং মাতার নাম বেগম শামসুন নাহার। তাঁর পিতা সারাজীবন শিক্ষকতা করেছেন। মোঃ আব্দুল হাই সিলেট এমসি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও রাজশাহী কলেজে শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে রাজশাহী ও কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন। বাবা মা’র পুত্র সন্তানদের মধ্যে ড.শিবলী জ্যেষ্ঠ।
বর্নাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী, সাদা মনের মানুষ প্রফেসর ড. শিবলী ২০০৮ সালের ৭ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের একজন স্বনামধন্য সদস্য হিসেবে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একটানা ছয় বছর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন ।
অত্যন্ত মেধাবী ও আলোকিত মুখ ড. শিবলী ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে বিএ (অনার্স) পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উর্ত্তীর্ন হন। একই বিভাগ থেকে তিনি ১৯৬৪ সালে এম এ- তে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে উর্ত্তীর্ন হন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে দক্ষিণএশিয়ার ইতিহাস’ বিষয়ে পিএইচডি লাভ করেন। আতফুল হাই শিবলী ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের লেকচারার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৮১-১৯৮৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. শিবলী ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের Institute of Bangladesh Studies এ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে Centre for Post-Graduate Studies, Training & Research-এর অধ্যাপক ও ডীন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৮ সালে ড. শিবলী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হিসাবে যোগদান করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর গ্রহণ করেন ২০০৯ সালে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক বিজ্ঞান বিভাগে দুই দফায় (১৯৭৩-১৯৭৬) এবং (১৯৮৫-১৯৮৮) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং একই বিভাগে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।
ড. শিবলী রচিত বহু গবেষণামূলক প্রকাশনা দেশ বিদেশের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণামূলক প্রকাশনার পাশাপাশি প্রফেসর ড. শিবলী রচিত অন্যতম আলোচিত বইয়ের নাম হল: Abdul MatinChaudhury of Assam (1895-1948): Trusted lieutenant of Mohammad Ali Jinnah”, ২০১১ সালে প্রকাশিত। এ ছাড়াও ২০০৯ সালে‘ বাংলাদেশ সাংবিধানিক ইতিহাস (১৭৭৩-১৯৭২)’ নামক গ্রন্থটিও প্রকাশিত হয়। প্রফেসর শিবলী রাজশাহীস্থ ‘হেরিটেজআরকাইভস্ অব বাংলাদেশ হিসট্রি ট্রাস্ট’- এর একজন অন্যতম সদস্য এবং ঐ সংস্থা থেকে নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক জার্নাল ‘স্থানীয় ইতিহাস’-এর সম্পাদক। বর্তমানে প্রফেসর ড. শিবলী কয়েকটি গবেষণা প্রকল্পের কাজে জড়িত রয়েছেন। তিনি দেশ বিদেশের বহু সেমিনার/ওয়ার্কশপে অংশ গ্রহণ সহ স্বল্পমেয়াদী ফেলোশীপ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে গবেষণার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য হিসেবে শ্রীলংকা, ব্যংকক, চীন, মালয়েশিয়া, ফিনল্যানড, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ও সেমিনাওে ড. শিবলী অংশ গ্রহণ করেছেন। তিনি ভূটানে “SARRC UGC Heads” Gi mßg Summit-এ ইউজিসির বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রফেসর শিবলী সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠনের সদস্য পদও লাভ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির আজীবন সদস্য এবং এই সমিতির সভাপতি হিসাবে (১৯৯৯-২০০৩) দায়িত্ব পালন করেছেন।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস এলামনাই এসোসিয়েশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং অদ্যাবদি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ, নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়াহিস্ট্রি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ আর্কাইভস এন্ড রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি, রাজশাহীস্থ Heart Foundation of Bangladesh এর আজীবন সদস্য এবং ঐ সংস্থার সভাপতি হিসাবে (১৯৯২-১৯৯৬) দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ও ড. শিবলী International Association of Historians of Asia-এর সেক্রেটারী জেনারেল হিসেবে (২০০০-২০০২) নির্বাচিত হয়েছিলেন । অত্যন্ত মেধাবী ড. শিবলী বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের কাছে শুধুমাত্র একজন সফল শিক্ষক হিসেবেই পরিচিত নন- তিনি পরিচিত একজন সৎ , পরোপকারী, প্রাণবন্ত ও খোলামেলা মানুষ হিসেবেও।
প্রফেসর ড. শিবলী ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। তার যোগ্য সহধর্মীনি নাজিয়া খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নার্সারী স্কুল এবং ঢাকা ইউমেন কলেজে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। নাজিয়া খাতুন বর্তমানে ইজঅঈ এর অধীনে একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তাদের পুত্র শাকির ও পুত্রবধূ এলমা দু’জনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় উর্ত্তীন হয়ে অষ্ট্রেলিয়া থেকে দুজন মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন । বর্তমানে এলমা যুক্তরাষ্ট্রের Howard University থেকে পিএইচডি লাভ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা এবং শাকির বিশ্বব্যাংক-এর চাকুরী শেষে সমাজসেবক হিসাবে কাজ করছেন।
Related News
জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপে শাবিপ্রবির ২৫ শিক্ষার্থী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জাতিসংঘ মিলেনিয়াম ফেলোশিপ-২০২৬-এর জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২৫ শিক্ষার্থীRead More
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির পূণঃনিরীক্ষণে আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষার উত্তরপত্র পূণ:মূল্যায়নে ফেল থেকে পাস করেছেন ১৮৬Read More



Comments are Closed