Main Menu

সিসিকের ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বাজেট

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মেয়রবিহীন সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) এবারও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। চলিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৩৮৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা আয় এবং সমপরিমাণ ব্যয় ধরে প্রস্তাবিত বাজেট পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।
বাজেটে রাজস্ব (১-সার্বিক) ৭৭ কোটি ৮৫ লাখ এবং রাজস্ব (২-পানি) থেকে ১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকাসহ দুটি খাতে ৮৯ কোটি ৪৩ লাখ এবং মোট উন্নয়ন আয় ২০৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। রাজস্ব ব্যয় ৪৩ কোটি ২৩ লাখ এবং উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩৬ কোটি ২ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আয় এবং সমপরিমাণ ব্যয় ধরে প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব। তিনি বলেন, মেয়র না থাকায় এবারও বাজেটে কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি। মেয়র থাকলে তিনি হয়তো আনুষ্ঠানিকতা করতেন।
গত জুন মাসে বাজেট প্রণয়ন করে কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে সভায় তা পাস করা হয়। পরে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিকের হিসাব কর্মকর্তা আ.ন.ম. মনসুফ।
তবে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের থেকে ৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা বেশি আয় ধরা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আয় ও সমপরিমাণ ব্যয় ধরে বাজেটের পরিমাণ ছিল ৩১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাতের মধ্যে রয়েছে গৃহ ও ভূমিকর বাবদ ১৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর ৮ কোটি, ইমারত নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণ কর ২ কোটি, পেশা ব্যবসা ও কলিংয়ের উপর কর ৪ কোটি ৫০ লাখ, জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ ও দত্তক গ্রহণের উপর কর ৩৫ লাখ, লাইসেন্স খাতে ৭০ লাখ, হাটবাজার ইজারা খাতে ১৫ লাখ, বাস টার্মিনাল ইজারা খাতে ৬০ লাখ, খেয়াঘাট ইজারা খাতে ১৫ লাখ, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ভাড়া খাতে ৫০ লাখ, সিটির সম্পত্তি বন্দোবস্ত ও নবায়ন খাতে ৫০ লাখ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে ৫০ লাখ, বাগবাড়ি আবাসিক প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১ কোটি, বিভিন্ন রেজিস্ট্রেশন ফরম খাতে ৬ কোটি, মহানগরে পানি সরবরাহ খাতে ১ কোটি, মহানগরের অনুন্নত রাস্তা, ড্রেন, কালভার্ট নির্মাণ খাতে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ, দক্ষিণ সুরমায় জমি অধিগ্রহণ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ খাতে ১০ কোটি ৫০ লাখ, দক্ষিণ সুরমায় পার্কের রাউন্ড স্থাপন প্রকল্পে ৩ কোটি, মহানগরের ১১টি ছড়ার পাশে আরসিসি-রিটেনিং দেয়াল নির্মাণ প্রকল্প খাতে ২০ কোটি, মহানগরের যানজট নিরসন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক সম্প্রসারণ উন্নয়ন অবকাঠামো ও ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প খাতে ২০ কোটি টাকা। এছাড়াও বিবিধ খাত থেকে সিসিকের আয় সংগৃহীত হবে।
অন্যদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য খাত সমূহের মধ্যে রয়েছে মেয়র, কাউন্সিলরদের সম্মানীভাতা ২ কোটি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন খাতে ৮ কোটি, মাস্টার রোলে কর্মরতদের বেতন খাতে ২ কোটি ৫০ লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভবিষৎ তহবিল খাতে ৪০ লাখ, কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ও মোটরসাইকেল ক্রয়ে ঋণ প্রদানে ৪০ লাখ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনুতোষিক ভাতা ও অন্যান্য খাতে ৬০ লাখ, বয়স্ক কুরআন শিক্ষা কর্মসূচিতে ১০ লাখ, কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান ও অন্যান্য খাতে ১০ লাখ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বই ও খেলার সামগ্রী বিতরণে ৮০ লাখ, মহানগরের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জেমকে আর্থিক সহায়তায় ১০ লাখ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ২০ লাখ, মশক ও কুকুর নিধনে ৪০ লাখ, নর্দমা পরিষ্কার খাতে ৩ কোটি ২০ লাখ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার খাতে ৫০ লাখ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ৪০ লাখ, যানবাহন মেরামত ও জ্বালানি ব্যয়ে ২ কোটি, বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণে ২০ লাখ, রাস্তা আলোকিতকরণে ৬০ লাখ, রাস্তা নির্মাণে ১ কোটি ৫০ লাখ, রাস্তা মেরামত ও সংস্কারে ২ কোটি ৫০ লাখ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণে ১ কোটি ৫০ লাখ, ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে ২ কোটি, ড্রেন নির্মাণ ও মেরামত খাতে ২ কোটি, জাদুঘর নির্মাণে ৫০ লাখ, হাটবাজার উন্নয়নে ৬০ লাখ, বাস টার্মিনাল সংস্কার ও উন্নয়ন খাতে ১ কোটি, মহানগরে ট্রাফিক সিগন্যাল প্রকল্পে ৫০ লাখ, ২৭ টি ওয়ার্ডে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনে ২৭ লাখ, মহানগরে পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১ কোটি, মহানগরের অনুন্নত এলাকায় রাস্তা, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ খাতে ১০ কোটি ৫০ লাখ, দক্ষিণ সুরমায় পার্ক নির্মাণে ৩ কোটি, মহানগরে জলাবদ্ধতা হ্রাস প্রকল্পে ২ কোটি, মহানগরে জানজট নিরসন ও ফুটপাত নির্মাণে ২০ কোটি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণে ২ কোটি, লালদিঘি হকার মার্কেট নির্মাণ খাতে ১ কোটি ৫০ লাখ, হাসান মার্কেট নির্মাণে ৫০ লাখ, সিসিকের বিভিন্ন মার্কেট নির্মাণ ও উন্নয়নে ১ কোটি, মহানগরে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট ভেঙে পুনর্র্নিমাণে ৫ কোটি এবং সিটি কর্পোরেশন আবাসিক প্রকল্প নির্মাণে ১ কোটি টাকা। এছাড়াও বিবিধ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed