Main Menu

মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, আটক ১

গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা: প্রথমে মোবাইল ফোনে কথা বলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা, তারপর অধিক পরিমাণে মুক্তিপণ দাবি করেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীগাঁও ইউনিয়নের খাস বারহাল গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী শারমিন আক্তার। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানীর পাশাপাশি এবার তারা অভিনব পন্থায় শুরু করেছে প্রতারণার নতুন ফাঁদ। তাদের অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। আব্দুল জলিলের এ প্রতারণার কৌশলে রয়েছে মোবাইল ফোন ও তার স্ত্রী।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ইতিপূর্বে এলাকার ও বহিরাগত অগণিত তরুণ, যুবক, চাকুরীজীবি সহ অনেকে সর্বস্ব হারিয়েছেন। আত্ম সম্মানের ভয়ে থানায় জিডি কিংবা মামলা করেননি অনেকেই।
এবার তার প্রতারণার ফাঁদে সর্বশেষ শিকার হন সুনামগঞ্জ সদর থানার মোহনপুর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেন। পেশায় একটি ঔষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টিব জাহাঙ্গীর তাদের অভিনব কৌশলের ফাঁদে পড়ে বেদম মারপিট নগদ টাকা খোয়া সহ সর্বস্ব হারিয়ে গোয়াইনঘাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলা হলে থানা পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় আলীরগাঁও ইউনিয়নের খাস বারহাল গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে এবং জড়িত সন্দেহে প্রতারক শারমিন আক্তারকে গ্রেফতার করে।
জানা যায়, আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন থেকে এভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তরুণ উঠতি বয়সের যুবকদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করে। গত ১ আগষ্ট সোমবার রাত ৮টার দিকে জলিলের স্ত্রী শারমিন বেগম মোবাইল ফোনে জাহাঙ্গীরকে তাদের বাড়ীতে আসতে বলে। জাহাঙ্গীরও তার ডাকে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়ীতে যায়। শুরু হয় নতুন কৌশল। এসময় কোন কিছু বুজে উঠার আগেই জাহাঙ্গীরের চোখ বেঁধে ফেলে জলিল। প্রতারক জলিল এসময় তাকে বেদম মারপিট করে, এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে এবং বিকাশে নগদ দুই লক্ষ টাকা এনে দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।
এসময় জাহাঙ্গীর উপায়ান্তর না দেখে তার বাড়ীতে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবহিত করে। শুধুই তাই নয় তাদের স্থানীয় মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকেও জলিলের দাবীকৃত দুই লক্ষ টাকা বিকাশে প্রদানের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করে।
বিষয়টি আচ করতে পেরে চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন বিষয়টি গোয়াইনঘাট থানা পুলিশকে অবহিত করেন। সোমবার রাতেই অভিযান চালিয়ে থানা পুলিশ ভিকটিম জাহাঙ্গীরকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এবং ঘটনায় জড়িত প্রতারক আব্দুল জলিলের স্ত্রীকে গ্রেফতার করে।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমকে উদ্ধার এবং প্রতারক জলিলের স্ত্রীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। প্রতারক জলিলকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed