ঘুরে আসুন জাফলং ফাটাছড়া ঝর্ণাধারা
পর্যটন ডেস্ক: আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণে ভারী বর্ষণ, সঙ্গে চোরাবালিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিসহ আছে নানা শঙ্কা। তবুও কমতি নেই তাদের পদচারণা। কিশোর, কিশোরী, যুবক, যুবতীসহ সব বয়সের মানুষের অবাধ ছোটাছুটি। তাদের এ অবিরত ছুটে চলা যেন থেমে নেই। প্রকৃতির কাছে যাওয়াই যেন তাদের শেষ অভিযাত্রা। প্রতিদিনের সরব প্রাণবন্ত এই চিত্র সিলেটের জাফলং পিকনিক স্পট ফাটাছড়া ঝর্ণাধারার। প্রতিদিন প্রবল বৃষ্টিপাত আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এখানে ঢল নামে পর্যটকস্রোত। জাফলং পিয়াইন নদের পশ্চিম-উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি উমসীম পুঞ্জির পাশ বেয়ে আসা বিশাল উঁচু এই ঝর্ণাধারার রূপ-লাবণ্যে আগন্তুক ভ্রমণপ্রেয়সীরা হন বিমোহিত। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে এখানেই যেন তারা প্রতিদিন হারিয়ে যান আনমনে। স্থানীয় ভাষায় ভারতীয় এ ঝর্ণাকে ফাটাছড়া বলা হয়।
ওপারের উমসীম, গ্রীপসহ আশপাশের সব কটি গ্রামসমূহের (পুঞ্জি) পানি পাহাড় বেয়ে এই ঝর্ণায় নির্গত হয়। সুউচ্চ পাহাড়, টিলা, সবুজ বেষ্টনী ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল বড় বড় পাথর ও সুন্দর সবুজের আবর্তে ঘেরা মনোরম পরিবেশে সৃষ্ট গড়িয়ে পড়া পানির মনোমুগ্বকর দৃশ্য দেখে বিমোহিত হচ্ছেন তারা। ছবি, সেলফিতে নিজেকে করছেন রোমাঞ্চকর। স্মৃতিময় করে রাখছেন জাফলং ভ্রমণও। এখানে এলে মনে হয় বাংলাদেশের মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতেই এলাম।
সরেজমিন এ ঝর্ণার ব্যাপারে কথা হয় ভ্রমণপ্রেয়সীদের সঙ্গে। ঢাকার বংশাল থেকে এসেছেন নবদম্পতি রুমানা ও সোহেল মাহমুদ। বিয়ের হানিমুনকে সিলেটে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন তারা। এখানে এসে তারা যেন হারিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। পাহাড় আর সবুজের মিশেলে নেমে আসা নীলাভ জলের জলকেলি এবং সবুজ প্রকৃতি তাদের বিমোহিত করে তুলেছে। এ দম্পতি জানান, এমন সুন্দর, মনোমুগ্ধকর, মনোলোভা স্থান জানি না আমাদের দেশে ক’টা আছে। ভারতের সম্পদ, সুন্দর সবুজ বেষ্টনী তবুও নেই সীমান্তের কোনো বাধা-বিপত্তি। ভ্রমণপ্রেয়সীদের সুন্দরের আবহ যেন সীমান্ত আইনকেও হার মানিয়েছে। এখানকার ভ্রমণপ্রেয়সীদের মধ্যে অনেকেই ব্যস্ত থাকেন সেলফি আর ছবি তুলতে। দুলাল, রহিম, রাজ্জাক, সুলতান রাজশাহীর বন্ধু-বান্ধব মিলে এসেছেন বেশক’জন। লেখাপড়ার ফাঁকে জাফলং ভ্রমণের ইচ্ছা ছিল তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। স্বপ্ন পূরণের মিশনে তারা এ ঝর্ণায় প্রথম এসেছেন। তারা জানান, খুব সুন্দর লাগলো এ স্থানটি। তারা সড়ক যোগাযোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে সরকারের কাছে দ্রুত জাফলংকে এক্সক্লুসিভ পর্যটন জোন ঘোষণা করার দাবি জানান।
তারেক মাহমুদ নামের অপর একজন পর্যটক জানান, কিসের পান্তুমাই- এই ঝর্ণাই সেরা। খুব কাছে এমনকি নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই উপরে ওঠে আনন্দ উপভোগ করা যায় এখানে। তিনি সবাইকে বর্ষায় এই ঝর্ণা ভ্রমণের আহ্বান জানান।
স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী ওমর আহমদ জানান- শান্ত, নির্মল পরিবেশ আর সুন্দর প্রকৃতিকে ভালোবেসে পর্যটকরা জাফলং ছুটে আসেন। আনন্দ উপভোগের পর তারা আবার ছুটে যান আপন গন্তব্যে।
নৌকা চালক রহিম মিয়া জানান, প্রতিদিন ঢল নামে এ ঝর্ণার পাড়ে। নদীপথেই তারা আসেন এখানে। তাদের মাধ্যমে আমাদেরও আয়-রোজগার হয়।
আজিজ নামের একজন বাসিন্দা জানান, পর্যটকদের ভ্রমণ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণকরণে জাফলংয়ে আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক কল্যাণে প্রশাসনের আরো নজরদারি প্রয়োজন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালাউদ্দিন জানান, পর্যটক নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ প্রশাসনের নরজদারি অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তাসহ তাদের যেকোনো প্রয়োজনে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। গোয়াইনঘাট থানার ওসি মো. দেলওয়ার হোসেন জানান- পর্যটক, দর্শনার্থীর নিরাপত্তায় থানা পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
Related News
এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে!
পর্যটন ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত ছয়টি দেশে ভ্রমণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটনRead More
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা যাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করতে উদ্যোগRead More



Comments are Closed