Main Menu

এসএমপি কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার ও সিলেট পুলিশ লাইন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামরুল আহসানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার এই রুল জারি করা হয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসএমপি কমিশনার ও ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ আলমকে উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়ছে। আইনজীবী বাহার উদ্দিন আল-রাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আদালতের নির্দেশের পরেও পুলিশ লাইন স্কুলের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক রাশেদুল করিম চৌধুরীর বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে শিক্ষক রাশেদুল করিমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আজহার উল্লাহ ভূইয়া ও মো. বাহার উদ্দিন আল-রাজী।
বাহার উদ্দিন আল-রাজী জানান, ১৯৯০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে রাশেদুল করিম চৌধুরী জেলা পুলিশ লাইন স্কুলে যোগদান করেন। তবে কার্যক্রম ‘পছন্দ’ না হওয়ায় ১৯৯৫ সালের ৬ আগস্ট তাকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন করে ওই বছরই সিলেটের সহকারি জজ আদালতে মামলা করেন রাশেদুল করিম।
২০০২ সালের ১৫ মে মামলার রায়ে শিক্ষক রাশেদুলকে বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহাল করে তার বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সিলেটের সহকারি জজ আদালত।
রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই স্কুল কর্তৃপক্ষ জেলা জজ আদালতে আপিল করে। আপিল শুনানি শেষে আদালত স্কুল কর্তৃপক্ষের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে জেলা জজ আদালত। ওই আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২৩ নভেম্বর ভুক্তভোগী শিক্ষক হাইকোর্টে রিভিউ আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি করে ২০১২ সালের ৩ ডিসেম্বর তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ওই শিক্ষককে ১৯৯৫ সাল থেকে তার পাওনা বেতনভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পর শিক্ষক তার কাজে যোগ দিলেও এখনো তার বাকি বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। এমনকি তার ১০ বছর পরে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের পরের ধাপে এই শিক্ষকের নাম তালিকায় রাখা হয় বলেও জানান আইনজীবী। তাই এসএমপি কমিশনার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এই রুল জারি করা হয়।

Share





Related News

Comments are Closed