Main Menu

সিলেট কারাগারে মাকু রবিদাসের ফাঁসি কার্যকর

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশীকে হত্যার দায়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে মাকু রবিদাস (৪৭) নামে এক আসামীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মাকুর ফাঁসি কার্যকর হয়। ফাঁসি কার্যকরের সময় মাকু স্বাভাবিক ছিলেন বলে জানান ওই কারাগারের একজন নিরাপত্তা রক্ষী।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রাত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) ১২টা ১ মিনিটে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এসময় কারাগারের আশপাশে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
ফাঁসি কার্যকরের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম, সিলেটের জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমিনুর রহমান, পুলিশ কমিশনারের পক্ষে উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বাসুদেব বনিক, সিলেটের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির মিয়া, সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান, সহকারী সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্টরা।
ফাঁসি কার্যকরের জন্য গত রোববার ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় জল্লাদ রাজুকে। যার পুরো নাম জিএম তানভীর হাসান ওরফে রাজু। আগেই প্রস্তুত করা হয় ফাঁসির মঞ্চ। প্রস্তুত রাখা হয় মরদেহ বহনের ব্যাগ, একটি অ্যাম্বুলেন্স।
মাকু রবিদাসকে শেষবারের মতো কৃতকর্মের জন্য দোষ স্বীকার করে ভগবানের কাছে প্রার্থনার সুযোগ দেওয়া হয়। এজন্য রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুরোহিত অমৃত রাম ভট্টাচার্যকে কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়।
মাকু রবিদাস হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দারাগাওয়ের সমাধনী রবিদাসের ছেলে।
২০০৩ সালের ০৯ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত নাইনকা রবিদাস হত্যা মামলায় (দায়রা ৫৭/২০০২) মাকু রবিদাসকে মত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাতে মাত্র ২ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিবেশী নাইনকা রবিদাসকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন মাকু রবিদাস।
পরবর্তীতে মাকু রবিদাস আপিল (জেল পিটিশন নং-০৩/২০০৭) করলেও তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট।
সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানালে তাও নামঞ্জুর হয়।
গত ১২ মে কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাঁসি কার্যকরের আদেশ দিলেও পবিত্র রমজান মাস থাকায় তা কার্যকর করা যায়নি। মৃত্যুদন্ড কার্যকরের জন্য কাশিমপুর কারাগার থেকে জল্লাদ রাজুকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সগির হোসেন জানান, সোমবার (১১ জুলাই) মাকু রবি দাসের স্বজনেরা তার সঙ্গে দেখা করে গেছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টায় পরিবারের ৫ সদস্য তার সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করে বের হয়ে যান। স্বজনদের মধ্যে ছিলেন মাকু রবিদাসের দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। মাকু রবিদাসের স্ত্রী প্রায় ৬ মাস আগে মারা গেছেন।
এরই মধ্যে তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করেছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
শেষ ইচ্ছা হিসেবে মাকু রবিদাস কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বনফুলের মিষ্টি খেতে চেয়েছেন। তার ইচ্ছানুযায়ী এক কেজি বনফুলের মিষ্টি কিনে দেন কারা কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে নারকেল, ডাব, পোলাও খেতে চেয়েছেন মাকু রবিদাস। সেগুলোও নিজ খরচে কিনে এনে খেতে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন বলেন, শেষ ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি তার পরিবারের লোকজনের দেওয়া খাবার পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে খেতে দেওয়া হয়।
ফাঁসি কার্যকরের পর কারাগারের নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে মরদেহ তার স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানান জেলার মাসুদ পারভেজ মঈন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১১ সালে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত রবি মুন্ডাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো।

Share





Related News

Comments are Closed