Main Menu

এক বছর আগে সস্ত্রীক তুরস্কে পাড়ি জমায় তাহমিদ

নিউজ ডেস্ক: সাইট ইন্টেলেজেন্সের ওয়েবসাইটে আইএসের যে বাংলা বক্তব্য সম্বলিত ভিডিওটি প্রকাশিত হয়েছে তাতে কথা বলা তিন যুবকের একজনের নাম তাহমিদ রহমান শাফি।

শাফি ঢাকার সরকারী ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে এসএসসি, নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ পড়াশোনা শেষে গ্রামীনফোনে চাকুরী নেন।

গ্রামীনফোনে তার একজন সাবেক সহকর্মীর বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা কে জানিয়েছে, আইএসের ভিডিওতে দেখা যাওয়া প্রথম তরুণটি তাহমিদ রহমান শাফি।

জানা যায়, শাফি গ্রামীনফোনের স্ট্যাটেজি এন্ড কর্পোরেট কম্যুনিকেশন (ব্র্যান্ড কম্যুনিকেশন) বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের মধ্যে হাসিখুশি এবং সঙ্গীতপ্রিয় হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন।

তবে, ২০১০ সাল থেকেই শাফি কিছুটা চুপচাপ ও শান্ত হয়ে গিয়েছিল। বছর দুই আগে থেকে ধর্মের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠে শাফি।

সাইট ইন্টেলিজেন্সের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার প্রকাশ করা ভিডিওতে শাফিকে প্রথমে বাংলায়, পরে ইংরেজিতে বক্তৃতা দিতে দেখা যায়।

সহকর্মীরা জানান, শাফি দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সে কয়েক বছর ধরে চাকরি করছে না।

ঢাকার বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বনেদি এলাকায় তাহমিদের বাবার বাড়ি। বাড়িটি যে সড়কে, সেখানকার সব বাড়িরই ডিজাইন বাংলো ধরণের। বোঝাই যায় অত্যন্ত ধনী ও প্রভাবশালী মানুষজনের বসবাস এখানে। বিদেশের পাড়ি জমানোর আগে তাহমিদও এখানেই থাকতেন।

বুধবার দুপুরের পর তিনতলা ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফটক বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পর দ্বাররক্ষী আসেন। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি কোন কথাই বলতে চাইছিলেন না। স্পষ্ট ভীতি তার চোখেমুখে।

ফটকের ছোট একটি জানালা খুলে এক শব্দ কিংবা দুই শব্দে তিনি প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। ভিডিও থেকে নেয়া তাহমিদের চেহারা সম্বলিত একটি স্ক্রিনশটের প্রিন্টআউট দেখানো হলে দ্বাররক্ষী তাকে চেনেন না বলে জানান। এর পর তিনি ভেতরে ঢুকে যান। বহুক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি আর ফিরে আসেননি।

জানা গেছে, বাড়িটিতে তাহমিদের মা এবং অপর দুই ভাই তাদের স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকেন। তাহমিদের বাবা প্রয়াত হয়েছেন বছর দুয়েক আগে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটে। গলির একজন চায়ের দোকানদার ছবিতে তাহমিদকে দেখে চিনতে পারেন এবং বলেন তার দোকানে সে দুয়েকবার চা খেয়েছে।

কিন্তু সাত আটমাসের বেশি সময় ধরে আর তাকে দেখা যায়নি। তাহমিদদের বাড়িটির সামনের আরেকটি বাংলো ধরণের বাড়ির বাসিন্দাদের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানান, তিনি শুনেছেন ওই বাড়ির এক ছেলে গ্রামীন ফোনে চাকরি করতো, যে বছরখানেক আগে বিয়ে করার পর স্ত্রীকে নিয়ে তুরস্কে গেছে।

অর্থাৎ তাহমিদ নিখোঁজ ছিল না। সে বলে কয়েই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল এবং এমন একটি দেশে গিয়েছিল যে দেশটি সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত। ওই প্রতিবেশি জানান, তাহমিদ ধার্মিক ছিলেন, পাঁচ ওয়াক্ত মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেন।

তাহমিদের শিক্ষা-দীক্ষা, সংস্কৃতি চর্চ্চা এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে তাকে যারা চেনেন বা তার সম্পর্কে জানেন তারা সবাই বিস্মিত হচ্ছেন। প্রশ্ন করছেন, এমন একটি ছেলে কী করে আইএসে যোগ দেয়?

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে ২ পুলিশ সদস্য, ১৭ বিদেশি নাগরিক ও ৩ বাংলাদেশি নিহত হন। পরে কমান্ডো অভিযানে ৬ জঙ্গি নিহত হয় বলে শনিবার সেনা সদরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অভিযানে জীবিত উদ্ধার করা হয় ৩ বিদেশিসহ ১৩ জিম্মিকে। এছাড়া ১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

সূত্র: বিবিসি

Share





Related News

Comments are Closed