Main Menu

আমেরিকায় ইদ, আনন্দ বেদনার কাব্যকথা

গোলাম সাদত জুয়েল: আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হিসাবে বাড়ছে । বছর বছর শত শত প্রবাসীরা ইমিগ্রান্ট ভিসায় সপরিবারে আসছেন আমেরিকায় । সাথে রয়েছে টুরিষ্ট ভিসায় প্রবাসীদের আমেরিকায় আসা যাওয়ার পালা । আমেরিকার পঞ্চাশটা ষ্টেটের মধ্যে ২৫টি ষ্টেট সহ কয়েক শত ছোট বড় শহরে প্রবাসীরা বসবাস করেন । নতুন আগত ইমিগ্রান্টরা সপরিবারে আসার পর প্রথমত নিউ ইয়র্কে থাকার চেষ্টা করেন, তারপর অনেকে ছুটেন মিশিগান অথবা বাফেলোতে । নিউ ইয়র্কের ব্যয়বহুল শহরে থাকা কষ্টের হয়ে পড়ে তাই আমেরিকায় থাকা আমেরিকানরা তাদের আত্বীয় স্বজনরা নতুন ইমিগ্রান্ট আত্বীয় স্বজনদের মিশিগানে বা বাফেলোতে রেখে আসেন । নিউ ইয়র্কে তিন বেডের ঘর ভাড়া যেখানে ১৪ শত ডলার সেখানে মিশিগানে তা ৭ শত ডলার, আবার বাফেলোতে ৫ শত ডলার । নতুন ইমিগ্রান্টরা অনেকে ৬/৭ জনের পরিবার নিয়ে আসেন স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য, তাই তাদেরকে তিন বেডের বাড়ীর প্রয়োজন হয় । তবে নতুন ইমিগ্রান্টদের ছুটতে হয় বাফেলো ও মিশিগান এ । মিশিগানে ৪৫ হাজার বাংলাদেশী ও বাফেলোতে ৭ হাজার বাংলাদেশীর বসবাস । নতুন ইমিগ্রান্টরা খুব সহজে গুছিযে নিতে পারেন ।
নতুন ইমিগ্রান্টরা রোজা ও ইদে প্রথমে হোচট খান, সদ্য দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা নষ্টালজিয়ায় ভোগেন । নতুন ইমিগ্রান্টদের কথা বলছি এ জন্য প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে শত শত প্রবাসী আমেরিকায় আসছেন সপরিবারে যাদের ভাই বোন বা ছেলে মেয়েরা ১৫/১৬ বছর পুর্বে তাদের জন্য আবেদন করেছিলেন । বর্তমানে আমেরিকায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা কম বেশী দশ লাখ ।
কেমন কাটে আমেরিকায়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের এক কথায় অনেকাংশে বলা যায় ভালই কাটে । মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইসলামি স্কুলে ভরে গেছে আমেরিকার শহর বন্দর । সারা আমেরিকায় মুসলিম জনসংখা ১.৩ বিলিয়ন । তাই সব শহরগুলোতে মসজিদের ব্যবস্তা রয়েছে । তাই কেউ চাইলেই দেশের মত পাচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে পড়তে পারে, চাইলে বাচছাদের ইসলামী কালচারে বড় করতে পারে । কয়েক হাজার নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী হাফিজ সারা আমেরিকা চষে বেড়ায় রমজান মাসে, তারা এক ষ্টেট থেকে অন্য ষ্টেটে যায় তারাবীর নামাজের জন্য । অনেকে হাফিজী শেষ করে মৌলানা হবার জন্য ইংল্যান্ড বা সাউথ আফ্রিকায় চলে যায় ।
আমেরিকায় কেমন কাটে ইদের দিন। সব কিছু নির্ভর করে আপনি বসবাসের জন্য কোন জায়গা বেছে নিয়েছেন । নিউ ইয়র্ক, মিশিগান, ফ্লোরিডা, মায়ামী, আটলান্টা, নিউজার্সি ইত্যাদি শহরে বেশীর ভাগ বাংলাদেশী বসবাস করেন । তারপর রয়েছে কি রকম পরিবেশে আপনি থাকবেন। অনেকে বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকায় থাকেন, তারা ভালই ইদ ‍উপভোগ করে থাকেন । বাংলাদেশীরা এখন সব জায়গা্য়, তাই পাড়া প্রতিবেশী বন্ধু বান্ধব নিয়ে ইদ করেন । সব বড় মসজিদে ইদের নামাজ হয়, আবার অনেক জায়গায় বড় খোলা ময়দানে ইদগাহের মত করে নামাজ আদায় হয়। নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশী অধুষিত জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশের মত ইদ শপিং হয়ে থাকে। নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সব কাপড়ের দোকানে ভিড় দেখা যায়, মিশিগানের কনান্ট স্ট্রিটের কাপড়ের দোকানে বাংলাদেশের মত ইদ শপিং করে থাকেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা । আমাদের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় ওরলান্ডো তে ২৭ রমজান থেকে শুরু হয়ে যায় ইদের আমেজ । ইদের আগের রাতে অনুষ্টিত হয়ে চাদ রাত পার্টি । চাদ রাত পার্টি চাদ দেখার পর শুরু হয়, সেখানে অস্তায়ী মার্কেটের মত গ্রোসারী দোকানের সামনে কাপড়ের পসরা, হাতে মেহেদী সহ চলে রাত ভর আড্ডা । ইদের নামাজের স্থানে কিসিমিতে তাকওয়া মসজিদে নামাজের পর মুসল্লিদের জন্য হালকা নাস্তা, চা কফি পরিবেশন করা হয় । বেশীর ভাগ মসজিদেই নামাজিদের নামাজের পর মিষ্টি মুখ করা হয় । তার পর চলে দল বেধে এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যাবার কম্পিটিশন । আনন্দ হাসি কোলাকোলিতে চলে দিনভর আড্ডা । অনেকে আগে থেকেই ছুটি নেন, আবার অনেকে বিকেলে কাজে যান। যারা গাড়ী চালান তাদের সংখ্যা নেহায়েত কম নয় । তারা কয়েক দিন ছুটি কাটান । যাদের গ্যাস স্টেশন আছে তারা বেশীর ভাগ ছুটি কাটাতে পারেন না, কেউ কেউ নামাজ পড়ে দোকানে যান, আবার কেউ তাও করতে পারেন না । অনেক গ্যাস ষ্টেশনে কর্মচারী ব্যাচেলর, কয়েক জন একসাথে ম্যাস করে থাকেন । তাদের ইদ দোকানে কাটে, দেশে ফোন করে আত্বীয় স্বজনদের সাথে কথা বলে তাদের দিন যায় । গ্যাস ষ্টেশনের মালিকরা দোকানে এক বেলা কাজ করে দিনের বেশীর ভাগ ঘুরে বেড়ান । আবার অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী এমন সব জায়গায় থাকেন যার আশে পাশে পঞ্চাশ মাইলের মধ্যে বাংলাদেশী নাই তাই তাদের ইদ বলতে কিছু নেই । অনেক সময় ইদে স্কুল খোলা থাকে, অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠান, আবার যাদের বাচ্ছারা ইসলামী স্কুলে পড়ে তাদের ইদের ছুটি থাকে । তবে নিউ ইয়র্ক সহ কয়েকটি স্টেটে ইদে দুদিনের ছুটি সম্প্রতি মন্জুর হওয়ায় অনেক প্রবাসী খুশি । আমেরিকায় ইদ কেমন কাটাবেন তা সম্পুর্ন নির্ভর করে বাংলাদেশী প্রবাসীদের দৃষ্টি ভঙ্গির উপর । অনেকে তাদের জীবন যাত্রা ও বাচচাদের বাংলাদেশী কালচারে থাকার চেষ্টা করেন এবং তাদের সন্তানরা শিখছে ইদ কি ও কেমন করে তা পালন করতে হয় । আমাদের শহরে দেশের মত চলে বন্ধু বান্ধবদের ও আত্বীয় স্বজনদের উপহার আদান প্রদান ।
প্রবীনরা কেমন ইদ কাটান- অনেক প্রবীন তাদের বেশীর ভাগ সময় মসজিদে কাটান তাই তাদের মসজিদ কেন্দ্রিক বন্ধু বান্ধব জুটে যায়, তাদের বাসায় তারা যাতায়াত করেন । অনেক প্রবীন দেশের চাইতে ভালই ইদ করেন, আবার অনেক প্রবীনের ছেলে মেয়েরা প্রফেশনালী এত বেশী ব্যস্ত যে তাদের জীবন কাটে চরম অবহেলায় । অনেকে মসজিদে গিয়ে জুমার নামাজও পড়তে পারেন না । বিশ্বের অন্যতম প্রধান ইমিগ্রান্ট রাষ্ট্র আমেরিকায় ইমিগ্রান্টদের জয় জয়কার, বাংলাদেশের সব জেলার উপজেলার প্রবাসীরা আসছেন আমেরিকায় কেউ মানিয়ে নিতে পারছেন, কেউ পারছেন না । অনেক প্রবীন আমেরিকায় এসে ৬ মাস থেকে বাংলাদেশে চলে যান, আর ফিরে আসেন না । আবার অনেকে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন, ৬ মাস দেশে ও ৬ মাস আমেরিকায় । তারা বেশীর ভাগ রমজান ও ইদ দেশে করে থাকেন । সুখের দেশে সুখ সর্বত্র, কেউ জানে সুখ কিভাবে ধরে রাখতে তারাই সুখি, আবার আরেক শ্রেনী ডলারের মোহে অন্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ায় । তাদের কাছে ইদ, রমজান বলে কিছু নেই । বাংলাদেশীরা প্রতিযোগীতা করে রমজানে মসজিদে ইফতারী দেয়, আরেক শ্রেনী আছে যারা আমেরিকায় এসে সব কিছু ভুলে গেছে । যা হাই প্রফেশনালদের মাাঝে দেখা যায় । ইদ সব সময় প্রবাসে রঙ্গিন, তার জন্য চাই উপভোগ করার দৃষ্টিভঙ্গি । ইদের পর শুরু হয়ে যায় প্রবাসে ইদ গেট টুগেদার, যা ইদ পুনর্মিলনী হিসাবে পরিচিত । প্রবাসী পরিবার গুলো ইদ পুনির্মিলনী সকলের সাথে সকলে কুশল বিনিময়ের সুযোগ পান ।

Share





Related News

Comments are Closed