Main Menu

কারাগার থেকে বের হওয়া মাত্র গুলি করে হত্যা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকের পাশে হেমায়েত (৩৫) নামে এক যুবক গুলিতে নিহত হয়েছে। সোমবার রাতে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে।

যশোর কোতয়ালী থানার এএসআই নাহিয়ান জানান, একটি অস্ত্র মামলায় জামিন পেয়ে সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরোয় হেমায়েত। এসময় কারা ফটকের সামনেই অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে।

তার নামে হত্যা, বোমাবাজি, চাঁদাবাজিসহ অর্ধডজনের বেশি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে রাত ৮টার দিকে কারাফটকের পাশে একটি চায়ের দোকানে চা পানের অপেক্ষায় ছিলেন। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন যুবক এসে তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি তার মাথায় বিদ্ধ হয়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শাজাহান আহমেদ বলেন, ‘রাত আটটার ১০-১৫ মিনিট আগে মুক্তি পেয়ে হেমায়েত কারা ফটকের সামনের রাস্তা পর্যন্ত গিয়েছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলযোগে এসে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কারাগারের প্রধান ফটকে দায়িত্বরত রক্ষীরা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করে। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলের একটি দুই দফা পড়ে যায়। ফলে দুর্বৃত্তরা সেটি ফেলেই পালিয়ে যায়।’

সিনিয়র সুপার বলেন, ‘কারারক্ষীরা আমাকে বিষয়টি ফোনে জানানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসি। রক্ষীদের কাছ থেকে জানতে পারি, দুর্বৃত্তরা হেমায়েতকে লক্ষ্য করে প্রথম দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে পড়ে থাকা হেমায়েতের মাথায় আরেক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।’

এদিকে, গুলিবিদ্ধ হেমায়েতকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান কোতয়ালী থানার এসআই শাহাবুল। জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হেমায়েতের মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার (খ সার্কেল) বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার সরকারি বাসভবনের সামনে (জেলখানা-লাগেয়া) এক যুবককে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে গেছে। উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় কোতয়ালী থানার এসআই শাহাবুল তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।

নিহত হেমায়েত যশোর সদরের মণ্ডলগাতি এলাকার জিন্নাত আলীর ছেলে। এলাকায় তার নামে একটি বাহিনী পরিচালিত হয়। ২০১৩ সালে মণ্ডলগাতি-কৃষ্ণবাটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এ বাহিনীর সংঘর্ষে চার পুলিশ আহত হন। তখন অস্ত্র ও গুলি বহন করা অবস্থায় দুই সহযোগীসহ আটক হয় হেমায়েত।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল পুলিশ তাকে আটক করে।

Share





Related News

Comments are Closed