Main Menu

সিলেটে সরকারী জায়গায় পাকা দোকান, বিঘ্নিত পয়ঃনিষ্কাশন

বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারী জায়গায় নির্মিত কয়েকটি দ্বিতল দোকান-কোটার কারনে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধাতায় ভোক্তভোগী নগরীর সাগরদিঘীরপার এলাকাবাসী। সরকারী স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তদরসহ এলাকার বাসাবাড়ি এমনকি মসজিদ পর্যন্ত জলমগ্ন থাকে এ দোকান-মার্কেটটির কারনে।
সাগরদিঘীরপার নূরানী এলাকার ১৪/২নং বাসার মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আজিজুল­াহ। এ বাসার সামনের দ্বিতল দোকান গুলো নির্মিত হয় সরকারী জায়গা নালার উপর। পার্শবর্তী উত্তর-দক্ষিণ নালার দক্ষিনের বাসার দেয়াল থেকে প্রায় ১০ হাত এগিয়ে পূর্বপশ্চিম রাস্তার নালা দখল করে এ দোকানগুলো নির্মান করা হয়।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, পেছনের বাসার মালিককে গেইট ও যাতায়াতের সুবিধা দিয়ে দোকানগুলো নির্মান করে মধ্যস্বত্বভোগী একটি প্রভাবশালী মহল। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বাসা ও দোকানগুলো ভোগ-ব্যবহার করতো জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। পাড়ার সমাজকল্যাণ সংস্থা বা স্থানীয় ক্লাব’র নামে দোকানগুলোর একটিতে অফিস পরিচালনা করতো জামায়াত-শিবির ক্যডাররা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিবির ও ক্লাব সরে গেলে সরকার দলীয় ছেলেরা ওই মার্কেটের একটি দোকান তাদের অফিস ও আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। অতি স¤প্রতি শাসকদলের এক প্রভাবশালী নেতা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জনৈক রূপজান বিবিকে পেছনের বাসাটির দখল বুঝিয়ে দেন। রূপজাপন বিনি নিজেকে প্রবাসী আজিজুল­াহর বোন পরিচয়ে ওই নেতার কাছ থেকে বাসাটির দখল বুঝে নেন। কিন্তু সরকারী নালার উপর নির্মিত দোকানগুলো সমজিয়ে দিতে পারনেনি ওই নেতা বা কর্তাব্যক্তি।
স্থানীয় লোকজনের দাবি পাকা দোকানগুলো অবৈধভাবে নালার উপর নির্মান করা হয়েছে। এগুলোর কারনে এলাকার পয়ঃ ও পানি নিষ্কাশনে চরম বিঘ্ন ঘটছে এবং প্রায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এলাকাবাসীর দাবি মার্কেট উচ্ছেদ করে পয়ঃ নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত ও সুগম করে দিলে জনদূর্ভোগ লাঘব হয়ে আসবে। কিন্তু স¤প্রতি দোকানগুলো উচ্ছেদের পরিবর্তে পেছনের বাসার বাসিন্দা রূপজান নামের মহিলাকে বুঝিয়ে দিতে শাসকদলের প্রভাবশালী ওই নেতা আধাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। মোটা অংকের টাকার বিমিময়ে সরকারী জায়গায় নির্মিত দোকানগুলোর দখল ব্যক্তি মালিকানায় বুঝিয়ে দিতে তিনি সিলেট কোতয়ালী পুলিশকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
syl-Picদোকানের পেছনের বাসার বর্তমান বাসিন্দা রূপজান বিবি সাংবাদিকদের জানান, সাগরদিঘীরপারস্থ ১৪/২ বাসার মালিক প্রবাসী আজিজুল­াহ, বাসাটি খালি পড়ে থাকায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের সহযোগিতায় স¤প্রতি আমি ও আমার পরিবার বাসার দখল বুঝে পেয়েছি। কিন্তু দোকানগুলোর দখল এখনো বুঝে পাইনি। এলাকার পোলাপানরা আগে থেকেই এগুলো দখল করে রয়েছে। তারা এখানে বসে নিয়মিত আড্ডা দিয়ে থাকে। দোকানগুলোর দখল বুঝে পাওয়ার আশ্বাসেই আমি ওই পোলাপানদের বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেছি। পুলিশ আমাদেরকে দোকানগুলোর দখল বুঝিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। দোকানগুলো সরকারী ভুমির উপর না ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় নির্মিত সে ব্যপারে জানতে চাইলে রূপজান বিবি এবিষয়ে তার কিছ্ইু জানা নেই বলে জানান।
ছাত্রলীগ সিলেট মহানগর কমিটির সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আমিনুর রিয়াজ মওদুদ এবং ছাত্রলীগ নেতা নাবিদ হোসেন জানান, সাগরদিঘীরপারের ১৪/২ নং বাসা ও বাসার সামনের দোকানগুলো আগে শিবির কর্মীদের দখলে ছিল। শিবির কর্মীরা এখানে মেস করে থাকতো। স্থানীয় ক্লাবের নামে তারা দোকানগুলোর একটিতে অঘোষিত অফিস চালাতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিবির কর্মীরা পালিয়ে গেলে বাসাটি খালি পড়ে থাকে। পরে বাসার দখলে আসেন রূপজান বিবি নামের এক মহিলা। এর পর থেকে দোকানগুলো মালিকবিহীন পড়ে থাকলে শিবির কর্মীদের স্থলে এলাকার ছাত্রলীগ কর্মীরা একটি দোকানে বসে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে। দোকানগুলো সরকারী জায়গায় ও পয়ঃনিষ্কাশন নালার উপর নির্মিত হয়েছে বলে জানান তারা।
সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আলিম তুষার জানান, দোকানগুলো কে-বা কারা করেছে সেটা আমার জানা নেই। তবে দোকানগুলো সরকারী জায়গার (নালার) উপর রয়েছে এবং এটা নিশ্চিত বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে জানতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের সাথে শুক্রবার রাত ৯টায় মোবাইল ফোনে যোগাযাগের চষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পয়ঃনিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বার্থে অবিলম্বে নগরীর সাগরদিঘিরপারে রাস্তার পার্শ্বে ১৪/২ বাসার সামনে সরকারী নালার উপর নির্মিত দোকানগুলো উচ্ছেদ দাবি এলাকার সাধারন জনগনের। তারা এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্র্তৃপক্ষের দ্রুততর পদক্ষেপ ও বর্তমান সরকার কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed