Main Menu

আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটিতে আতংক

গোলাম সাদত জুয়েল (অরলান্ডো) ফ্লোরিডা থেকে: আমেরিকার ফ্লোরিডার ডাউন টাউন অরল্যান্ডোর অরেঞ্জ এভিনিউয়ের গে নাইট ক্লাব পালসে শনিবার (১১ জুন) রাতে আততায়ীর গুলিতে ৫০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সেখানকার মুসলিম কমিউনিটিতে আতংক বিরাজ করছে। ওমর মতিন (৩০) নামের ওই আততায়ীর গুলিতে তারা মারা যায়। আহত হয়েছে আরো ৫৩ জন। এ ঘটনায় পুরো রাজ্য জুড়ে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে। এ ঘটনাকে আমেরিকার ইতিহাসে ‘ম্যাস শুটিং’ হিসাবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির ইমিগ্র্যান্টরা আপাত নিরাপদে আছেন।। বিষয়টিকে ডমেস্টিক টেররিজম(অভ্যন্তরীন সন্ত্রাসবাদ) হিসাবে ঘোষণা দিলেও ওমর মতিনের ইউ এস সিটিজেনশীপের ব্যাকগ্রাউন্ড না জানায়-বোঝা যাচ্ছে না-আসলে ঘটনাটি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।
পুলিশ ওমর মতিনের বাসা ঘিরে রেখেছে। এফবিআই মতিনের কোন তথ্যও জানাচ্ছে না।
রোবরার এমনিতে আমেরিকায় ছুটির দিন। ছুটির দিনে ৫০ জন মারা যাওয়ায় সারা ফ্লোরিডা শোকে ভাসছে।

পুলিশের গুলিতে নিহত ওমর মতিন
পুলিশের গুলিতে নিহত ওমর মতিন

পুলিশ জানায়, অ্যাসল্ট গান এবং হ্যান্ড গান দিয়ে মতিন গুলি করে।
সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় ১৬টি মসজিদসহ ইসলামি স্কুল ও কবরস্থান রয়েছে। সেখানে মুসলিম কমিউনিটি খুবই ভালো অবস্থানে ছিলেন। এ ঘটনায় শংকিত মুসলিম কমিউনিটিও।
ওমর মতিন (৩০) সেন্ট লুইস এর বাসিন্দা। ঘটনাস্থল থেকে তার বাসস্থান দুই ঘন্টার দূরত্বে। অরল্যান্ডোতে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশীর বসবাস। তাদের বেশীরভাগ স্থানীয় ব্যবসার সাথে জড়িত। এ ঘটনার পর তাদের সবাই আতংকিত।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ৫ মাস বাকি। এ নির্বাচনে আগে এ ধরণের ঘটনায় সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বর্তমানে ডেমোক্রেটদের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও এ ঘটনায় পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়-তাও দেখার বিষয়।

অরল্যান্ডো ওয়ার্ল্ড হেপিয়েস্ট সিটি হিসাবে পরিচিত। এ সিটিতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকও বেড়াতে আসেন। এ ঘটনা সেখানকার পর্যটনে বিরুপ প্রভাব ফেলবে। এমিরেটস এয়ারলাইন্সের দুবাই-অরল্যান্ডো সরাসরি ফ্লাইটের ভবিষ্যতও হুমকির মুখে পড়বে।
এ ঘটনার পর ফ্লোরিডা হাসপাতালে মুসলিম ডাক্তাররা রাত দিন কাজ করছেন। সাধারণ মানুষ লাইন দিয়ে রক্ত দিচ্ছে। এ ঘটনায় সেপ্টেম্বর ১১/২০০১ পর আমেরিকার জন্য বড় একটি বিপর্যয় বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনার পর চার্চে বিশেষ প্রার্থনা চলছে। মুসলিম কমিউনিটির নেতারা শোকার্ত পরিবারগুলোকে সমবেদনা জানিয়েছেন । এ কঠিন দু:সময়ে সকল আমেরিকানকে এক যোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন তারা।

Share





Related News

Comments are Closed