Main Menu

সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার ছেলেসহ ২জন খুন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে শনিবার প্রতিপক্ষের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা পুত্র। নিহত আমির আলী (২৬) চাটিবহর ছড়াটিলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক আলীর পুত্র।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাটিবহর ছড়াটিলা গ্রামের মিজার আলী ভূমি বিক্রির অঙ্গীকার করে ২-৩ বছর পূর্বে ৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন আমির আলীর কাছ থেকে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে ভূমি রেজিস্ট্রিতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক বসলেও আমির আলী কোন সুফল পাননি।
স্থানীয় লোকজন জানান, শনিবার সকালে আমির আলী মিজার আলীর কাছে পাওনা টাকা দাবী করেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মিজার আলী আমির আলীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। বেলা ৩টার দিকে আমির আলী বাড়ির পাশে কাজ করার সময় মিজার আলী ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমির আলী গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আমির আলীর শোর চিৎকার শুনে তার স্ত্রী ও মা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন আমির আলীকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আমির আলীর মা ও স্ত্রীকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে ছুটে যায় ও লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বায়েছ আলম প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ওসি।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, নিহত এ মুক্তিযোদ্ধা পুত্র ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে।
এদিকে একইদিন দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এক বিল পাহারাদারের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম আমানত উল্লাহ (৬৫)। তিনি উপজেলার শিমুল বাঁক ইউনিয়নের কাটইর গ্রামের মৃত আব্দুস সোবহানের পুত্র।
জানা যায়, স্থানীয় লোকজন শনিবার সকালে কাটইব গ্রামের পাশে চাটল উদয় বিলের পাহারাদার আমানত উল্লাহর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায়র এসআই আকিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোন এক সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়। নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ আল আমিন জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Share





Related News

Comments are Closed