চা বাগানের শিক্ষা ক্ষেত্রে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : “চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ” এর উদ্যোগে প্রতি বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণসহ চা বাগানের শিক্ষা ক্ষেত্রে আসন্ন জতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবিতে ৩০মে সিলেট এবং মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
সিলেটে সকাল ১১ টায় কেন্দীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন চা বাগানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে মিছিল সহকারে জেলা প্রসাশকের কার্যালয়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সংগঠক শান্ত বাউরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর সংগঠক সঞ্জয় কান্ত দাস, মনিরাম কুর্মী, স্মৃতি রাণী মুদি প্রমুখ। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নুল আবেদিন। এদিকে একই দাবিতে মৌলভীবাজেরও সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় ‘বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল চা। চা জনগোষ্ঠির অমানুষিক পরিশ্রমে শুধু নান্দনিক সৌন্দের্যের চা বাগানই গড়ে উঠছে না, সচল হচ্ছে দেশের অর্থনীতির চাকা। এছাড়া দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও রয়েছে এই জনগোষ্ঠির বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরও শিক্ষাসহ সকল মৌল মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত চা শ্রমিকরা। আজ সারা দেশের ১৬৬টি বাগানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে মাত্র ৬টিতে, আর মাধ্যমিক স্কুল আছে ৩টিতে। অথচ সংবিধানের ১৭নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন”। সংবিধানের এ ঘোষনা চা বাগানে আজও কার্যকর হয়নি, শুধু তাই নয় ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ সরকারের ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ কর্মসূচিও চা বাগানে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপরও যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে চূড়ান্ত আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার উপকরণই তারা ক্রয় করতে পারে না। তাই বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করা মানবিক। আবার যারাও বা এত বাঁধা অতিক্রম করে উচ্চ শিক্ষা কিংবা রাষ্ট্রীয় কোন আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে যান, শুরু থেকেই তারা পিছিয়ে থাকেন। তাই পিছিয়ে থাকা এ জনগোষ্ঠির সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে উচ্চ শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে ‘বিশেষ কোটা’ পদ্ধতি অবিলম্বে চালু করতে হবে।
এমনিতর পরিস্থিতিতে আগামী জুন মাসে জাতীয় সংসদে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেট উত্থাপিত হবে। ইতিমধ্যেই বাজেট নিয়ে নানা মহল থেকে বিভিন্ন আলোচনাও শুরু হয়েছে। বছরের পর বছর নানা আকারের বাজেট ঘোষিত হয় কিন্তু আজ পর্যন্ত চা বাগানের শিক্ষার্থীদের জন্যে শিক্ষাখাতে কোন বরাদ্দ হয়নি। ফলে মানবিক জীবনের জন্য অপরিহার্য শিক্ষার এই মৌলিক অধিকার থেকে যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন সমগ্র চা জনগোষ্ঠি। তাই চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ চাই’।
Related News
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More



Comments are Closed