Main Menu

“সুবহে সাদিক” ঈদে মীলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে একটি সমৃদ্ধ স্মারক

Manual8 Ad Code

আখতার হোসাইন জাহেদ: “সুবহে সাদিক” পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে দেশের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ স্মারক। এটি বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার একটি নিয়মিত প্রকাশনা। ঈদে মীলাদুন্নবী সা. উপলক্ষে দেশে যতগুলো স্মারক প্রকাশ হয় সুবহে সাদিকের মান থাকে সবার উপরে। তাই স্মারকটি সকল মহলে সমাদৃত। রাসূলে কারিম সা. এর জীবনের বিভন্ন দিক নিয়ে দেশের বিদগ্ধ আলেম-উলামা, পীর-মাশায়িখ, লেখক-গবেষক, ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ এতে প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখে থাকেন। নবীর শানে কাব্য-পক্তিমালা লিখেন দেশের প্রথম সারির কবি থেকে শুরু করে নবীন লেখক পর্যন্ত।
এবারের সুবহে সাদিক একটু ব্যতিক্রম। সমৃদ্ধ কলেবর, ঝকঝকে ছাপা ও কুরআনুল কারিমের আয়াত খছিত দৃষ্টি নন্দন প্রচ্ছদ। সব মিলিয়ে এবারের সুবহে সাদিক সম্পূর্ণ আলাদা। স্মারকটি সম্পাদনা করেছেন তালামীযের কেন্দ্রীয় পরিষদের একঝাক মেধাবী, পরিশ্রমী দায়িত্বশীল। ৩০০ পৃষ্ঠার বিশাল স্মারকটি গত ৫ মে ঢাকাস্থ বায়তুল মুর্কারমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে প্রকাশ হয়। মোড়ক উন্মোচন করেন মুরশিদে বরহক হযরত আল্লামা মোঃ ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী।
বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত সুবহে সাদিকের রঙ্গিন দৃষ্ঠিনন্দন গøসি পেপারের প্রথম ৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে আল্লামা বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলীর মোবারক দোয়া, শাশ্বত পয়গাম, সূচি পত্র, সভাপতির বক্তব্য ও সম্পাদকীয়। এরপর শুরু হয়েছে প্রবন্ধমালা। দেশের স্বনামধন্য লেখকগণের প্রবন্ধ-নিবন্ধে ভরে উঠেছে সুবহে সাদিকের এক তৃতীয়াংশ। আর ফুটে উঠেছে রাসূল সা. এর জীবনের বিভিন্ন দিক। যেমনঃ জন্ম, হিযরত, মক্কা-মদিনা জীবন ও গাজওয়া ইত্যাদি। এরপর নিবেদিত কাব্য পক্তিমালায় দেশের প্রথম সারির শক্তিমান কবিদের কবিতার পক্তিতে ভেসে উঠেছে রাসূল সা. এর শত শানগাঁথা কথা।
যেমনঃ কবি মিলন সব্যসাচী তার ‘আয় সকলে আলোর পথে’ কবিতায় নবীর আগমনের কথা এভাবেই লিখেছেন –
বারোই রবিউল আউয়ালে
উঠলো এক চাঁদ,
মা আমেনার মনের ঘরে
ভাঙ্গলো খুশির বাঁধ
কবি আবদুল মুকিত চৌধুরী তার ‘অবাঞ্ছিত শব্দ নিষিদ্ধ প্রবেশাধিকার’ কবিতায় নবী কারিম সা. এর শান গেঁথেছেন এভাবে –
বিশ্বনবী মহানবী শ্রেষ্ঠ মানবকুলে
সেরা শব্দে মূল্যায়নে কেউ যেন না ভুলে।
নবীর কটূক্তি না করতে, নবীকে আঘাত না দিতে, নবীর নিন্দা না করতে কবি কালাম আজাদ নবীর দুশমনদের দোহাই দিয়ে তার মনের আকুতি এভাবে পেশ করেছেন-
দোহাই তাকে আঘাত করোনা
আমাকে আঘাত করো, হত্যা করো
হত্যা করো, হত্যা করো…..
দোহাই তার নিন্দে করোনা
নিন্দে করো আমাকে, আমার মা-বাবাকে
আমার জন্মকে-জীবনকে
এই বেঁচে থাকাকে নিন্দে করো।
এখানে কবি নবীর প্রতি তার সর্বোচ্চ অকৃত্রিম ভালবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তিনি বলেছেন অসুবিধে নেই, তাকে হত্যা করা হোক, তার পিতা-মাতাকে নিন্দা করা হোক, তবু যেন তার প্রাণের রাসূলকে কেউ আঘাত না করে। যেন তিনি বলতে চেয়েছেন, ‘ফেদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসূলাল্লাহ’।
সেদিন নবীর আগমনে এই ধরাধামের সকল তমসা দূরীভূত হয়েছিল। এমন দৃশ্যের কথাও এমনিভাবে তুলে ধরেছেন কবি বেলাল আহমদ তার ‘যার আগমনে’ কবিতায়-
এক নিমিষেই দূরীভুত ঘোর তমসা
উঠলো জেগে হতাশ হৃদে নতুন আশা।
নূরের ছোয়ায় আলোকিত আধাঁর ভূম
টুটে গেলো পথহারাদের অশুভ ঘোম।
সুদূর শামের বালাখানার রূপবাহার
উঠলো ভেসে চোখ জুড়ে মা-আমেনার।
এরপর আবারো প্রবন্ধমালার আয়োজন। এখানেও সুবিশাল পরিসর। নবী জীবনের অনেক দিক তুলে ধরেছেন দেশের নবীন ও প্রবীন লেখকবৃন্দ। বিশেষ করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসার লেখিয়ে শিক্ষকগণ। এরপর নবীর শানে সংকলিত না’ত। এখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ রহ. সহ স্থান পেয়েছে খ্যাতনামা অনেক কবির লেখা না’তে রাসূল সা.। পরের অংশ সাজানো হয়েছে রাসূল সা. এর শানগাঁথা ছড়া-কবিতা দিয়ে। এখানে স্থান পেয়েছে নবীন-প্রবীন, তরুন ও কছি হতের লেখা। সকলে মন উজাড় করে প্রিয় নবীর শান গেথেঁছেন ছড়ায়-ছন্দে। সবশেষে আবারো রঙ্গিন গøসি পেপারে দেয়া হয়েছে আর্থিক সহযোগীতাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এ্যডভারাইজড। এভাবেই বাধাঁই হয়েছে এবারের ২০১৬ ঈসায়ীর সুবহে সাদিক। সমৃদ্ধ কলেবর আর বিশাল এই স্মারকটির মুল্য রাখা হয়েছে এক শত বিশ টাকা মাত্র। প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া।
লেখক: শিক্ষক, সংগঠক, প্রিন্সিপাল,আলহাজ্ব অছিয়ত আলী-করিমুন্নেছা হাফিজিয়া দাখিল মাদরাসা
টিলাগড়, সিলেট।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code