Main Menu

স্কলার্সহোম স্কুলে বেতন বৃদ্ধি, আন্দোলনে যাচ্ছে অভিভাবকরা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্কলার্স হোম স্কুলের সাইনবোর্ডগুলোতে লেখা রয়েছে ‘হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্ট’ এর একটি প্রতিষ্ঠান। এটি দেখে অনেকেই ভাবেন এই বিদ্যালয়গুলো হয়তো এই ট্রাষ্টের অর্থায়নে চলছে। এটি পুরোপুরি ভূল ধারণা। এই ট্রাষ্টের কোন সুযোগ-সুবিধাই শিক্ষার্থীরা পেয়েছে বলে জানা নেই। স্কলার্স হোম’র বেতন সিলেট নগরীর অন্যান্য স্কুলের সমান। ভর্তি ও পরীক্ষা ফি’ও একই। তারপরও কেন ট্রাষ্টের নাম ব্যবহার করা হয় এ নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

স্কলার্সহোম প্রতিষ্ঠার পর থেকে সিলেটের সচেতন মহলে একটি প্রশ্ন- হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্ট অর্থ কী? এ থেকে শীক্ষার্থীরাই বা কি সুবিধা পায়? এর কোন সদুত্তর কোনদিন কেউ পায়নি। হু -হু করে এই স্কুলের শিক্ষা ব্যয় যেন বেড়েই চলছে। অভিভাবকদের অভিযোগ,‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কলার্স হোম স্কুলের শিক্ষার মান তেমন বাড়েনি। তবে ব্যয় বেড়েছে বহুগুন। তাদের মতে-মান বৃদ্ধি করতে না পারলেও ব্যয় বাড়াতে বেশ তৎপর কর্তৃপক্ষ।

স্কলার্সহোমে প্রতিস্টার পর কয়েক দফা বেতন ও ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে । সম্প্রতি ৬শ টাকা বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ । চলতি বছরের মাঝামাঝি জুন মাস থেকে এক লাফে ১৪শ টাকার বেতন বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার টাকায়। এ নিয়ে বেশ চিন্তিত অভিভাবক মহল। কোনভাবেই কর্তৃপক্ষের এমন অন্যায় আবদার মানবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে তাঁরা।

বছরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে এক লাফে ৬শ টাকা বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার কথা শোনা যাচ্ছে অভিভাবক মহলে।

সিলেটের শাহী ঈদগাহ, ইলেকট্রিক সাপ্লাই, মদিনা মার্কেট, শিবগঞ্জ, মেজরটিলা ও দক্ষিন সুরমায় রয়েছে স্কলার্স হোমের শাখা।
জানা গেছে অনেকটা কৌশলে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি মাস মে’র ১৬ তারিখ পর্যন্ত গ্রীষ্মের বন্ধ চলছে। অভিভাবকরা যেন কোন প্রকার হই হুল্লোর অথবা আন্দোলন করতে না পারেন সে জন্য আগেভাগেই গ্রীষ্মের ছুটি দিয়ে দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে অভিভাবক মহল থেকে জানা গেছে এই স্বীদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেবে না তাঁরা। এরই মধ্যে সব ক্যাম্পাসের অভিভাবকরা ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যালয় খোলার পর মানববন্ধন, ক্লাস বর্জন, প্রিন্সিপালের কক্ষে তালা দেয়া সহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করা হবে।

এসব কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করা হবে। সব অভিভাবকরা উপিস্থত থেকে স্কলার্সহোম স্কুলের এমন অযোক্তিক সিদ্বান্ত শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরারও পরিকল্পনা আছে তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসের একজন অভিভাবক জানান, গত শুক্রবার সন্ধায় শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসে অভিভাবকদের সাথে হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্টের সাধারণ সম্পাদক লোকমান উদ্দিন চৌধুরীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে অভিভাবকরা বেতন বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানায় এবং বেতন বৃদ্ধির তৎপরতা মেনে নেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। এদিকে অভিভাবকদের দাবীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার কথা বলেন লোকমান উদ্দিন চৌধুরী।

বিদ্যালয়টি ২০০২ সালে প্রথম স্থাপিত হয় ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডে। ঐ শাখাটি বেশ নাম কুড়াতে সক্ষম হয়। খুব কম সময়ে ভালো সুনাম অর্জন করে বিদ্যালয়টি। মানুষের এই দূর্বলতা কাজে লাগিয়ে স্কলার্স হোম কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে খুব দ্রুত ব্যবসায়ীক লাভবান হওয়ার চিন্তায় নেমে পড়ে। এরই অংশ হিসেবে সিলেট নগরীতে তাঁরা ৬টি শাখা গড়ে তুলে। সচেতন সিলেটবাসীর মতে তাদের ধ্যান ধারণা যতটা না শিক্ষা বিস্তার তার চেয়ে বেশি ব্যবসা প্রসার। যার কারনে প্রতিবছরই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যয় বেড়েই চলছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্টের সেক্রেটারী লোকমান উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, হাফিজ মজুমদার ট্রাষ্টের টাকায় বিদ্যালয়ের শাখা বৃদ্ধি করে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি ও ভালো মানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। তিনি বলেন, কোন ধরনের ব্যবসায়ীক নয় শুধুমাত্র শিক্ষা প্রসারের চিন্তা থেকেই স্কলার্সহোম স্কুলের শাখা বাড়ানো হচ্ছে।
শিক্ষার মানও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি বলেন, ‘ সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষায় স্কলার্সহোম স্কুল ভালো ফলাফল করেছে ।’
তিনি আরোও বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাবে অভিভাবকরা আপত্তি জানিয়েছে । আগামী ২৫/২৬ মে ট্রাষ্টের মিটিং এ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। সূত্র: সিলেটেরকন্ঠ২৪

Share





Related News

Comments are Closed