Main Menu

হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ, প্রকাশ্যে ঘুরছে মামলার অভিযুক্তরা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের মাধবপুরে বানেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার নিখোঁজের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার সন্ধান মেলেনি। তাকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা নূর আলী।

এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে বানেশ্বর গ্রামের কবরস্থানের পাশ থেকে তাহমিনাকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। তাহমিনা আন্দিউড়া ইউনিয়নের জোয়ালভাঙা গ্রামের নূর আলীর মেয়ে।

এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন—জোয়ালভাঙা গ্রামের এলাম মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (২০), শাহ আলম মিয়ার ছেলে শুভ মিয়া (২১), মৃত আরজু মিয়ার ছেলে এলাম মিয়া (৫০) এবং মৃত নূর ইসলামের ছেলে শাহ আলম মিয়া (৪৫)।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, তাহমিনাকে গাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর তাহমিনার বাবা নূর আলী মাধবপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে আদালতে নারী নির্যাতন ও অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

তাহমিনার বাবা নূর আলী বলেন, “আমার মেয়েকে অপহরণের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো খুঁজে পাচ্ছি না। আদালতে মামলা করার পর আসামিদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হলেও তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে জানতে পারছি। আমি পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচার চাই। আমার মেয়েকে জীবিত উদ্ধার করা হোক। সে বেঁচে আছে কি না, অন্তত সেই খবরটুকু জানতে চাই।”

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অধিকাংশের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্তপক্ষের বক্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ মৃদুল হাসান তরফদার বলেন, “আসামিদের গ্রেফতারের জন্য খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বাদীপক্ষ আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করলে তদন্ত ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। নির্দোষ কাউকে গ্রেফতার করতে চাই না।”

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Share





Related News

Comments are Closed