Main Menu

ওসমানী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আরিফুল্লাহ জেলিনের সন্ধান চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর তাঁর সন্ধান দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার।

শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন অভিযোগ করেন, নিখোঁজের সময় নিয়ে থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের সঙ্গে তাঁর জানা ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানান।

Manual7 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীনসহ পরিবারের সদস্যরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি ছেলেকে দ্রুত ও জীবিত উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে আরিফুল্লাহ জেলিন নিখোঁজ হন। এরপর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরিবার জানায়, তারা ঠাকুরগাঁও থেকে সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর W703Z3 এবং জিডি নম্বর ৪২৭, যা ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়।

Manual8 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন বলেন, “আমার ছেলে যেদিন নিখোঁজ হয়, সেদিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে আমার ভিডিও কলে কথা হয়েছে। তখন সে তার বিমানবন্দর আবাসিক কোয়ার্টারেই ছিল। কিন্তু জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৮ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময় সে নিখোঁজ হয়েছে। আমার সঙ্গে যখন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কথা হয়েছে, তখন বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে নিখোঁজ হওয়ার কথা কীভাবে বলা হলো—এ প্রশ্নের উত্তর আমরা এখনো পাইনি।”

Manual3 Ad Code

তিনি আরও বলেন, “এই তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে আমার সন্দেহ হচ্ছে, আমার ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকৃত ঘটনা জানেন, কিন্তু তা গোপন করা হচ্ছে। এ কারণে আমি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছে অনুরোধ করছি, ওই সময়ে আমার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের, বিশেষ করে যিনি জিডি করেছেন, তাঁর বক্তব্যসহ সব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হোক।”

Manual7 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, আরিফুল্লাহ জেলিনের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে বর্তমান কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে পরিবারের সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবার পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত ও জীবিত অবস্থায় আরিফুল্লাহ জেলিনকে উদ্ধার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর তদন্ত ও অভিযান, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা, বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন।

লিখিত বক্তব্যে জেলিনের মা বলেন, “আমরা প্রতিটি মুহূর্ত চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছি। একজন মায়ের একমাত্র আকুতি—আমার সন্তানকে জীবিত অবস্থায় আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।”

নিখোঁজ আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। তাঁর উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক ৭০ কেজি।

পরিবার জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জেনে থাকলে তারা ০১৭১৬-১৪৩৩৭৫ (আবুল কালাম আজাদ) অথবা ০১৭৩৬-৭৪২৭২৪ (ফরিদা ইয়াসমীন) নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা বলেন, নিখোঁজের ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দ্রুত আরিফুল্লাহ জেলিনকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জেলিনকে দ্রুত জীবিত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code