কানাইঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরকে হত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আব্দুল আহাদ (১৫) নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আহাদ ওয়ার্কশপের কর্মচারী ছিল। কানাইঘাট সে পৌরসভার দলইরমাটি গ্রামের রিকশাচালক ছালেহ আহমদের ছেলে।আহাদ ইউএনও অফিসের পাশে একটি ভাড়া বাসায় তার নানার সাথে থাকতো বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূ্ত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলা রোডে তাজুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি ওয়ার্কশপে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো আহাদ। রােববার (২৮ জুন) রাত ৮টার দিকে সেখানে তার বন্ধু পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম ভান্ডারীর ছেলে সায়েম আহমদ (১৮) আসে। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের পর দেখা যায়, উত্তেজিত হয়ে সায়েম ওয়ার্কশপে থাকা একটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে আহাদকে আঘাত করে। এতে আহাদ গুরুতর আহত হয়ে সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
পরে ওয়ার্কশপে উপস্থিত কয়েকজন লোক দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আহাদ ও অভিযুক্ত সায়েম আহমদ (১৮) পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আহাদের দোকানের মালিক তাজুল ইসলাম ঘটনাটি প্রথমদিকে গোপন করার চেষ্টা করেছেন কারণ ঐ কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদার সায়েমসহ একাধিক মাদকাসক্ত কিশোরের সাথে তার ভালো সম্পর্ক। কোথাও নিজের ব্যক্তিগত ঝামেলা সৃষ্টি হলে সায়েমের মতো কিশোরদের দিয়ে নিজের প্রভাব বিস্তার করেন তাজুল।
আহাদের খুনের ঘটনার পরই এলাকায় সমালোচনা শুরু হয় সায়েমকে নিয়ে। অনেকের দাবী- সে একজন মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাংয়ের তথাকথিত গডফাদার।

তার মূল কাজ হলো তরুন প্রজন্মের কিশোরদের লোভ লালসা দেখিয়ে মাদকদ্রব্য খাইয়ে মাদকে আসক্ত করা। সে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী, বিগত ২০২৪ সালের ০৫ই আগষ্টের পর থেকে এলাকায় তার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উলেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তার নেতৃত্বে কিশোরদের দিয়ে বাইক শোডাউন হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে বিভিন্ন কার্যক্রমে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, চরিপাড়া এলাকার নাঈম আহমদ (২৮), পৌরসভার বায়মপুর গ্রামের পারভেজ আহমদ (১৮), নাদিম হোসেন (২০)।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম নিহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় রাত ৯টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Related News
সিলেট সীমান্তে প্রায় ২ কোটি টাকার ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ
Manual3 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২Read More
সিলেটে অনলাইন জুয়া চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া চক্রের চারRead More



Comments are Closed