Main Menu

টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬ হাউজবোটকে জরিমানা

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যটন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে তাহিরপুর উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ৬টি হাউজবোটকে মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর কাজে ব্যবহৃত ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ করা হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) দুপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মানিক। এ সময় তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু হাউজবোটের বিরুদ্ধে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে হাওরের সংরক্ষিত ও নিষিদ্ধ ‘কোর জোনে’ প্রবেশ, উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো এবং প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য পানিতে ফেলে পরিবেশ দূষণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

Manual8 Ad Code

অভিযান চলাকালে কয়েকটি হাউজবোটকে হাওরের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। এছাড়া অনেক নৌযানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হচ্ছিল, যা হাওরের বন্যপ্রাণী, অতিথি পাখি এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬টি হাউজবোটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে সর্বমোট ২৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে ব্যবহৃত ১৪টি সাউন্ড বক্স জব্দ করা হয়।

Manual1 Ad Code

অভিযানের সময় পর্যটক, নৌযান মালিক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাওরের পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বা বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Manual4 Ad Code

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণে আসেন। এই হাওরের অনন্য জীববৈচিত্র্য, জলজ সম্পদ এবং অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, “পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রামসার সাইট। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই জলাভূমি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর শীত মৌসুমে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার অতিথি পাখি এখানে আশ্রয় নেয়। এ কারণে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code