Main Menu

হরমুজে সচল ইরানের টোল বুথ, পার হলো জাপান, ফ্রান্স ও ওমানের নৌযান

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে স্থবির হয়ে পড়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও আংশিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের আনাগোনা শুরু হয়েছে।

Manual3 Ad Code

শিপিং ডাটার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে ওমান, ফ্রান্স ও জাপান-সংশ্লিষ্ট একাধিক জাহাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রণালিটি নিরাপদে অতিক্রম করেছে।

সংঘাত তীব্রতর হওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। তবে দেশটি নিজেদের জলসীমায় অবস্থিত লারাক দ্বীপের কাছে একটি বিশেষ অনুমোদিত রুট তৈরি করে। পরবর্তীতে তেহরান ঘোষণা করে, যেসব জাহাজের সঙ্গে তাদের প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই, শুধুমাত্র সেগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে সীমিত আকারে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।  আন্তর্জাতিক শিপিং জার্নাল ‘লয়েড’স লিস্ট’ এই বিশেষ রুটটিকে ‘তেহরান টোল বুথ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

তবে যুদ্ধ  শুরুর এক মাস পর ইরানের বেঁধে দেওয়া এই কঠিন শর্ত মেনে গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের খ্যাতনামা শিপিং কোম্পানি ‘সিএমএ সিজিএম’-এর একটি বিশাল কনটেইনার জাহাজ নিরাপদে প্রণালিটি পার হয়। তবে ইরানের রোষানল থেকে বাঁচতে জাহাজটি এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে। ইরানি জলসীমায় প্রবেশের ঠিক আগে এটি তার অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস)-এ গন্তব্য হিসেবে শুধু “ফ্রান্স মালিকানাধীন” জাতীয়তা সংকেত প্রদর্শন করে। তবে পারাপারের স্পর্শকাতর সময়ে বহু জাহাজ নিজেদের এআইএস সিস্টেম সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছিল।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চের পর ইউরোপীয় কোনো বড় শিপিং গ্রুপের অংশ হিসেবে এই প্রথম কোনো ফরাসি কন্টেইনার শিপ এই রুট দিয়ে পার হলো।

এদিকে, জাপানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিতসুই ও.এস.কে. লাইনস-এর সহ-মালিকানাধীন এলএনজি ট্যাংকার “সোহর এলএনজি” সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। সংঘাত শুরুর পর এটিই প্রথম জাপান-সম্পৃক্ত কোনো এলএনজি জাহাজ, যা এই রুট ব্যবহার করল। তবে দেশটির আরও প্রায় ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও ওই যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে।

Manual3 Ad Code

অন্যদিকে শুক্রবার ভারতের পতাকাবাহী ‘গ্রিন সানভিও’ নামের একটি এলপিজি ট্যাংকারও সফলভাবে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করে। হামলার হাত থেকে বাঁচতে এই নৌযানটি অত্যন্ত কৌশলে তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্রে গন্তব্যের জায়গায় বড় অক্ষরে লিখে রেখেছিল— ‘ভারতীয় জাহাজ ভারতীয় ক্রু’। এছাড়া পানামার পতাকাবাহী বড় একটি গ্যাসবাহী জাহাজও একই পথ দিয়ে চীনের উদ্দেশ্যে উপসাগর ছেড়েছে।

একই দিনে এই রুট ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করেছে ওমান শিপিং ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত দুটি বড় ক্রুড ক্যারিয়ার এবং একটি এলএনজি ট্যাংকারও।

এদিকে, যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতি সুশৃঙ্খলভাবে মোকাবিলা করতে এবং সমুদ্রসীমা ব্যবস্থাপনায় এক নতুন ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘শান্তিকালীন প্রোটোকল’ তৈরি করছে ইরান।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা স্পুটনিককে এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই প্রোটোকলটি মূলত চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর কার্যকর করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের মৌলিক নিয়মাবলি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করা হবে।

Manual7 Ad Code

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গিয়েছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে যায়। সীমিত পরিসরে এই জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় বিশ্ব তেলের বাজার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Manual7 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code