Main Menu

সিলেটের ‘শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়া’ ধ্বংসের মুখে, সংস্কারের দাবি

Manual3 Ad Code

সজল ঘোষ: সিলেট নগরের কালিঘাটস্থ ‘শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়া’ জরাজীর্ণ অবস্থায় প্রায় ধ্বংসের মুখে রয়েছে। আখড়াটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্কারের অভাবে এই করুণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিচালনা কমিটির দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে আখড়াটির সংস্কার ও আধুনিকায়নের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এজন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত-অনুরাগীদের মনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। এদিকে, আখড়াটির সেবায়িত শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবী দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

‘শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়া’ সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত-অনুরাগীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ওবাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও সিলেট ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৪নং ওয়ার্ডের কালীঘাট এলাকায় ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়াটি অবস্থিত। জনশ্রæতি রয়েছে- এই আখড়াটি প্রাচীনকালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। একসময় এই আখড়ায় প্রতিদিন পূজার্চ্চনা হতো। অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর পদচারণায় মুখর থাকতো এই আখড়া প্রাঙ্গণ। কালের বিবর্তনে আজ আখড়াটির সেই জৌলুস নেই। নেই ভক্ত-অনুরাগীদের সরব উপস্থিতি। অনেকদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আখড়াটি আজ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই নাটমন্দিরে পানি পড়ে। দেয়ালের পলেস্তেরা খসে পড়ছে। যে কোনো সময় এই আখড়াটি একেবারেই অনুপোযোগী হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, প্রায় ২০-২১ বছর আগে আখড়াটি সংস্কারের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। এরপর এই কাজের আর অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে আখড়াটির অনেক জায়গা-সম্পত্তি ভ‚মিখেকো চক্র জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে।

একটি সূত্র জানায়, শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়াটির সংস্কার ও উন্নয়ন করার জন্য ৭ বছর আগে একটি ‘উন্নয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির সভাপতি ছিলেন অ্যাডভোকেট গৌতম দাস ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন প্রকৌশলী গৌতম দে। কিন্তু সেই কমিটি কাজের কাজ কিছুই করেনি।

সর্বশেষ গত ২০২৪ সালের ২৫ মে শনিবার সিলেট নগরের কালীঘাটস্থ সর্ববিঘœবিনাশক ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়ায় এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিরসনকল্পে সংস্কার, সংরক্ষণ, নির্মাণ ও কমিটি পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে এই মতবিনিময়সভায় আলোচনা করা হয়।

Manual1 Ad Code

মতবিনিময়সভায় বক্তারা শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিরসনকল্পে সংস্কার, সংরক্ষণ, নির্মাণ ও কমিটি পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়ার সেবায়েত ও সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম দাস। সভা পরিচালনা করেন শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়ার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে।

Manual8 Ad Code

মতবিনিময়সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়ার ২১ সদস্য বিশিষ্ট দ্বি-বার্ষিক পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

নবনির্বাচিত কমিটির সেবায়িত ও সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম দাস, সিনিয়র সহ-সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাস, সহ-সভাপতি শিশির বণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দেব, কোষাধ্যক্ষ উত্তম ঘোষ, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সজল ঘোষ, সদস্য রজত কান্তি গুপ্ত, অ্যাডভোকেট অঞ্জন কুমার দেব, রানা প্রসাদ ত্রিবেদী, অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, শেখর দাস, বাবুল দত্ত, সুকান্ত গুপ্ত, আশীষ মজুমদার, চিন্ময় বণিক, প্লাবন রায়, নির্মল দাস, দিলীপ সাহা, অ্যাডভোকেট বিজয় কুমার দেব, বাপ্পী ত্রিবেদী। এই কমিটি অনেকগুলি সভা আয়োজন করেও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেনি।

জানা গেছে, নানা জটিলতায় এই কমিটিও শতভাগ ব্যর্থ হয়। শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়ার কাছ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ১২টি দোকান ও গুদামঘর ভাড়া নেন। অথচ মাত্র ২ জন প্রতি মাসে ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। বাকি ১০ জন ভাড়া না দিয়ে জোরপূর্বক দোকান ও গুদামঘর দখল করে আছে। বর্তমানে আখড়াটিতে ১৫ শতক জায়গা আখড়ার দখলে রয়েছে।

প্রাচীন এই আখড়াটির পাশেই শ্রীশ্রী দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির, শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের মন্দির ও দেবাদিদেব মহাদেবের প্রাচীন মন্দির রয়েছে। শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়ায় শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবী নামে একজন বয়ষ্ক বৈষ্ণবী রয়েছেন। যিনি তার সামর্থ্য অনুযায়ী কোনোমতে শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের পূজার্চ্চনা করে আসছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। তিনি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তিনি বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ও শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়া পরিচালনা কমিটি কালীঘাট সিলেটের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন বলেন, ‘সিলেট নগরের কালীঘাটস্থ শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়াটির সংস্কার কেন করা হচ্ছে না, তা আমার বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে অনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি সেসব সভায় উপস্থিত ছিলাম; পরামর্শ দিয়েছিলাম। সে সকল সভার কোনো সিদ্ধান্তই পরিচালনা কমিটি বাস্তবায়ন করেনি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। অবিলম্বে আখড়াটি সংস্কার করা হোক এবং শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসা করাও হোক জরুরি ভিত্তিতে।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘অবিলম্বে শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়া সংস্কার করে ভগবানের সেবা কার্যক্রম চালু করা হোক। শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসা করাও হোক জরুরি ভিত্তিতে। এই দাবি সমস্ত সিলেটবাসীর।’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, “বাংলাদেশে দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন চালু না থাকায় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির, দেবালয়ের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট নগরের কালিঘাটস্থ ‘শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়া’ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং অনেক সম্পত্তি দখল হয়েছে। এই বেআইনী কাজ মেনে নেয়া যায় না। নৃসিংহদেবের আখড়াটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।”

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কৃপেশ পাল বলেন, ‘অবিলম্বে শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়া সংস্কার করে ভগবানের সেবা কার্যক্রম দ্রুত গতিতে পরিচালনা চালু করা হোক। শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসা করাও হোক জরুরি ভিত্তিতে। এই দাবি সমস্ত সিলেটের সনাতনীদের।’

Manual1 Ad Code

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা বলেন, ‘শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটির সংস্কার অবশ্যই করা দরকার, যা অনেক আগেই আমরা তা উপলব্ধি করে অনেকগুলি সভাও করেছিলাম। কিন্তু কোনো সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িতও হয়নি। অবিলম্বে সংস্কার করা হোক এবং শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসা করাও হোক।’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দেব বলেন, ‘শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটির সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। সিলেটের সকল দেবালয়, মন্দির ও আখড়া আধুনিকায়ন করা হয়েছে। কিন্তু নৃসিংহদেবের প্রাচীন এই আখড়াটি কেন সংস্কার হয় না, তা তো রহস্যময় বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবী কেন চিকিৎসকার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরবেন? এই প্রশ্ন রাখি সচেতন নাগরিকদের কাছে। শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসা করার জন্য জোর দাবি জানাই।’

সিলেট দেবালয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটি সিলেটের সভাপতি ও ব্যাংকার প্রশান্ত কুমার সিংহ বলেন, ‘সিলেটের কালীঘাটে অবস্থিত শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটির সংস্কার অবশ্যই করা দরকার। আর সংস্কার করতে হলে পরিচালনা কমিটিকেই সর্বপ্রথম এগিয়ে আসতে হবে। শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসাও জরুরি করা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি মলয় পুরকায়স্থ বলেন, ‘সিলেট নগরের শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের আখড়াটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা সময়ের দাবি। প্রাচীন এই আখড়াটিকে রক্ষার জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে। ধর্মীয় পবিত্র স্থানটিকে সকলে মিলেমিশে নান্দনিক সুন্দর করার উদ্যোগ নেয়া দ্রæত প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাপেক্সিয়ান চন্দন দাস বলেন, ‘সিলেট নগরের শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের আখড়াটির উন্নয়ন-অগ্রগতির কাজ কেন গ্রহণ করা হচ্ছে না। ভগবান নৃসিংহদেবের এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানটি কেন বছরের পর বছর ধরে অযতœ-অবহেলায় রাখা হচ্ছে। এখন সময় এসেছে সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এই আখড়াটির উন্নয়ন কাজ শুরু করার। দখলমুক্ত করতে হবে আখড়ার সকল সম্পত্তি। সবার সুন্দর চিন্তা ও পরিশ্রমে আখড়াটির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে নিরলস ভ‚মিকা রাখতে হবে।’

শ্রীহট্ট সংস্কৃত কলেজ সিলেটের অধ্যক্ষ ড. দীলিপ কুমার দাস চৌধুরী অ্যাডভোকেট বলেন, ‘সিলেট নগরের কালীঘাটস্থ শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়াটির সংস্কার করা হোক। যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসাও জরুরি ভিত্তিতে হোক। এই দাবি পরিচালনা কমিটির কাছে এবং বর্তমান সরকারে কাছেও জানাই।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীভুক্ত হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট সিলেটের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু বলেন, ‘সিলেট নগরের কালীঘাটস্থ শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব আখড়াটির সংস্কার করা হোক। যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হোক। পরিচালনা কমিটি ও বর্তমান সরকারের কাছে এই দাবি জানাই। সংস্কার ও যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসার জন্য সব রকম সহযোগিতা আমি করবো।’

সিলেটের কালীঘাটে অবস্থিত শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়ার সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌতম দাস বলেন, ‘আমি সবসময় চেষ্টা করছি এই আখড়াটি সংস্কার করার ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার। এক্ষেত্রে আমার আন্তরিকতার শেষ নেই। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে শ্রীনৃসিংহ জিউর আখড়াটি সংস্কার করা যাচ্ছে না। উন্নয়ন-অগ্রগতির কাজ থমকে আছে।’

সিলেটের কালীঘাটে অবস্থিত শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়া পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে বলেন, ‘সর্ববিঘ্নবিনাশক ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের আখড়াটি সংস্কার করার জন্য বর্তমান সরকারসহ সনাতন ধর্মের যে কেউ উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করলে তাকে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। আমি চাই, শ্রীশ্রী নৃসিংহদেব জিউর আখড়াটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন হোক।’

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ইসকন সিলেটের যোগাযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস বলেন, ‘ভগবানের আখড়াকে অসুন্দর করে রাখার কোনো মানে হয় না। পবিত্র আখড়াকে প্রতি মুহূর্তে দৃষ্টিনন্দন ও সুন্দর রাখা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। সিলেটের শ্রীশ্রী নৃসিংহ জিউর আখড়াটির জায়গা-সম্পত্তি উদ্ধার করা হোক ও আখড়াটি সংস্কার করে সুন্দর করে রাখা হোক। এটি আমাদের সকলের প্রাণের দাবি।’ যমুনা বৈষ্ণবীর সুচিকিৎসাও হোক।

শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের আখড়ার সেবায়িত শ্রীযুক্তা যমুনা বৈষ্ণবী বলেন, ‘ভক্তবৎসল ভগবান শ্রীশ্রী নৃসিংহদেবের এই আখড়াটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আমি দ্রুত এই আখড়াটির সংস্কার দাবি করছি। ভগবানের মন্দির সুন্দর রাখলে আমাদের সবার মঙ্গল হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে পাকস্থলির ক্যান্সারে আক্রান্ত। অর্থ সংকটের কারণে চিকিৎসা করাতে পারছি না। শারীরিক অসুস্থতা, লোকবল সংকট ও অর্থ না থাকার কারণে ভগবান শ্রীনৃসিংহদেবের সেবাপূজাও করতে পারছি না।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code