Main Menu

বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, ৮০ লাখ কণ্ঠে ট্রাম্প হঠানোর ডাক

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নাটকীয় পরিবর্তনের সুর বাজছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। আগ্রাসনমূলক কঠোর সব নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একের পর এক হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়ে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুরো ৫০ অঙ্গরাজ্য এবার ফুঁসে উঠেছে ‘নো কিংস’ আন্দোলনে। প্ল্যাকার্ড-ব্যানার নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ; সবার কণ্ঠে এক দাবি, ‘ট্রাম্প হঠাও’।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তৃতীয় দফার দেশব্যাপী বড় আন্দোলন।

‘ঘর থেকেই শুরু হোক রেজিম পরিবর্তন’ প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিউইয়র্ক শহরে বিক্ষোভরত এক মার্কিন যুবক। ছবি: বিবিসি
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ৩ হাজার ৩০০টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির মতো বড় শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আমেরিকার পাশাপাশি সংহতি জানিয়ে রোম, প্যারিস ও বার্লিনের মতো ইউরোপের প্রধান শহরগুলোতেও এই আন্দোলন চলছে। তবে এবার আয়োজকদের মূল লক্ষ্য ছিল রক্ষণশীল ও গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষদের এই আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে লাখো মানুষের ঢল। ছবি: বিবিসি

এবারের তীব্র আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকাকে। গত বছরের ডিসেম্বরে এই মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামে এক কুখ্যাত ও অত্যন্ত কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালায় ট্রাম্প প্রশাসন। ওই অভিযানে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছিল এবং নির্বিচারে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন এই অভিযানের সময় দুই নিরপরাধ মার্কিন নাগরিক নিহত হন। শনিবারের (২৮ মার্চ) এই বিশাল সমাবেশে নিহত সেই দুই নাগরিককে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয় এবং তাদের স্মরণে বিশেষ শোক কর্মসূচি পালন করা হয়।

এর আগে, গত জুন ও অক্টোবর মাসেও দেশটিতে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে, এবারের ৮০ লাখ মানুষের এই রেকর্ড সমাবেশ রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের নভেম্বর মাসেই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন।

Manual5 Ad Code

লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় ট্রাম্পকে ‘মারি আঁতোয়ানেত’ সাজিয়ে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃ প্রকাশ। ছবি: এএফপি

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের ঠিক আগে এই বিশাল গণজাগরণ বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য।

প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষমতায় এসেই বিচারবিভাগ ও প্রশাসনের ওপর একজন রাজার মতো নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লাগেন তিনি। কিন্তু, মার্কিনিরা ‘নো কিংস’ আন্দোলনের মাধ্যমে বার্তা দেন তাদের দেশে ‘কোনো রাজার জায়গা নেই’। এছাড়া গণহারে প্রবাসীদের আটক করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া, গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং পরিবেশ নীতি নিয়েও ট্রাম্পের ক্ষোভ বাড়তে থাকে প্রতি সাধারণ মানুষের। মার্কিন জনসাধারণের সেই ক্ষোভের আগুনে এবার ঘি ঢেলেছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, ইরানে হামলার মাধ্যমে যা শুরু করেছেন ট্রাম্প নিজেই।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি কোনও ঘোষণা ছাড়াই ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।

Manual6 Ad Code

 


শিকাগোর রাস্তায় ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড হাতে যুদ্ধ ও আইসিই বন্ধের হুঁশিয়ারি। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ২৭ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব হামলায়। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।

Manual3 Ad Code

তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে এরই মধ্যে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের সংকটও তৈরি করে ফেলেছে ইরান। আর এই সংকট সরাসরি গিয়ে আঘাত করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনীতিতে।

সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা।

ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে নিজের মিত্রদের উসকানিতে এ যুদ্ধ শুরু করে এখন ঘোর বিপদে পড়ে গেছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের স্বার্থে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনী ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন মার্কিন জনগণ; ক্ষোভ প্রকাশ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাবেক-বর্তমান সেনা কর্মকর্তারাও।

একদিকে প্রলম্বিত যুদ্ধ, অন্যদিকে হু হু করে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয়— এসব মিলিয়ে এখন মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে।


ট্রাম্প বিরোধী বিক্ষোভে ইরানের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: এএফপি

সম্প্রতি প্রভাবশালী বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের জনসমর্থন বা অনুমোদন হার মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে বর্তমানে। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এটিই তার জনপ্রিয়তার সর্বনিম্ন রেকর্ড।

Manual4 Ad Code

জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ট্রাম্পের প্রতি মার্কিনিদের সন্তুষ্টির হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ওপর আস্থা হারিয়েছেন সাধারণ আমেরিকানরা।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিল অর্থনৈতিক সংস্কার, অথচ বর্তমানে মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্ট। এমনকি এই হার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক অনুমোদন হারের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code