Main Menu

গ্রীস যাবার পথে ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো ১০ জন সুনামগঞ্জের

Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাবার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটেছে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১০ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দায়িত্বশীল কোন কর্তৃপক্ষ অফিসিয়ালি এই তথ্য নিশ্চিত করেননি। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে তারা প্রাণ হারান।

Manual5 Ad Code

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ্ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৪ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন ও জগন্নাথপুরের ৫ জন রয়েছেন বলে বেসরকারি নানা সূত্রে জানা গেছে।

নিহতরা হলেন- দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সাঈদ সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), আব্দুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮), দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে আবু ফাহিম , জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের সোহানুর রহমান , টিয়ারগাঁওয়ের শায়েখ আহমেদ , চিলাউড়া কবিরপুরের মো. নাঈম, পাইলগাঁওয়ের আমিনুর রহমান , ইছগাঁওয়ের মোহাম্মদ আলী। এদের পরিচয় স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে।

নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেন, দিরাই উপজেলার এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারগুলোর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

Manual8 Ad Code

স্থানীয়রা দ্রুত নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচার চক্রকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।

দিরাই’র হাতিয়ার সাংবাদিক উমেদ আলী জানান, তার ভাগ্নে নুরুজ্জামান সরদার ময়না এই ঘটনায় মারা গেছেন। গ্রীস পৌঁছে একই গ্রামের রোহান আহমেদ তাদের জানিয়েছেন, তিনিও একই বোটে ছিলেন। তার চোখের সামনে এই চারজনসহ অন্যদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল তাঁর এলাকার ২ জনের মৃত্যুর সংবাদ স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য নুরুল ইসলাম তাঁর ওয়ার্ডের ২ জনের মৃত্যুর তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। পাইলগাঁওয়ের মিজানুর রহমান তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। দোয়ারাবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন তার ভাগ্নের মৃত্যুর খবর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

Manual3 Ad Code

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার বললেন,‘নিহতের পরিবারের কেউ যোগাযোগ করেননি। এজন্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকসহ এলাকার কেউ কেউ এমন সংবাদ জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, নিহত চারজন কুলঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার জানিয়েছেন, ভূমধ্য সাগরে মারা যাওয়া যে কয়জন বাংলাদেশী রয়েছেন, এরমধ্যে দিরাইয়েরও চারজন আছেন। তবে অফিসিয়ালি এখনও এই বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি।

জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের মৃত্যুর বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code