কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, আহত অনেকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ। জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও।
শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হয়েছে ড্রোন হামলা। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনাল–১ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।
সরকারি বিবৃতিতে সংস্থাটির মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি বলেছেন, হামলার পর পর কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানটি নিরাপদ করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের ৩১ প্রদেশের ২০টিতেই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকে। পাশাপাশি মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনাসহ অন্যান্য স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শুধু ইরানের শাসকগোষ্ঠীই নয়; ইসরায়েলি হামলার টার্গেটে পরিণত হয়েছে কোমলমতি শিশুদের স্কুলও। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থীর প্রাণ ঝরে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইরানে হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার কড়া জবাব দিয়ে যাচ্ছে ইরানও। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এরই মধ্যে এক বিবৃতিতে হুঙ্কার দিয়েছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে জড়িত সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’’ পরিণত হবে।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সেই সব স্থানকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে, যেখান থেকে মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব স্থাপনাও আমাদের লক্ষ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত।
Related News
নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬৭৫
Manual7 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্প্রতি হিমালয়ের বরফ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতেরRead More
৫৩৮ মরদেহ উদ্ধার, আরও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে নেপাল
Manual8 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন ও নেপাল সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাRead More



Comments are Closed